কিছু মানুষ আছেন নিজেদের যশ-খ্যাতি প্রদর্শনে ক্ষমতার কেন্দ্রের কাছাকাছি থাকতে চান। প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা এ ধরনের মানুষকে প্রলুব্ধ করে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ ক্ষমতার সান্নিধ্য নিয়েছেন অনেকেই। তবে আধুনিক যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ট্রাম্পের দায়িত্ব পালনের মেয়াদকে সবচেয়ে কলঙ্কিত মনে করা হয়। ফলে এ সময়টাতে ক্ষমতার সুবিধাভোগীদের এখন মাশুল গুনতে হচ্ছে।
গত সোমবার ট্রাম্পের পাশাপাশি তাঁর সাবেক সহযোগী, কর্মকর্তা, আইনজীবী, সহকারীসহ ১৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জর্জিয়ায় ভোটের ফলাফল পাল্টে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।
নতুন করে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলের সর্বশেষ দফার ব্যক্তিরা, যাঁরা আইনি জটিলতার মধ্যে পড়তে যাচ্ছেন। তাঁদের পৃষ্ঠপোষককে অন্তত এখন পর্যন্ত মুক্তই মনে হচ্ছে। তবে চারটি পৃথক ঘটনায় আনা ৯১টি ফৌজদারি অপরাধের পাহাড়ের দিকেই বর্তমানে ট্রাম্পের নজর, যা একজন সাবেক প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে রেকর্ডও বটে।
জর্জিয়ার ফুলটন কাউন্টির মামলায় ট্রাম্প ছাড়া অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন নিউইয়র্ক শহরের সাবেক মেয়র রুডি জুলিয়ানি। তিনি ট্রাম্পের আইনজীবী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ট্রাম্পের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁর ভূমিকা ছিল। তিনি মিথ্যা বক্তব্য প্রদান এবং নিজেকে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে মিথ্যা পরিচয় দেওয়ার ষড়যন্ত্রসহ আরও একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন।
মঙ্গলবার সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলিয়ানিকেও আইনি লড়াইয়ে হাজার হাজার ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে। আরও বেশ কয়েকটি মামলায় জড়িত থাকায় তিনি বেশ বেকায়দায় পড়েছেন। তাঁর আইনজীবীদের মতে, তিনি আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছেন।
অবশ্য নিজের অবস্থানের বিষয়ে অনড় থাকার কথা জানালেন জুলিয়ানি। অন্য আইনজীবীদের মতো নিজের মক্কেলকে আইনিভাবে প্রতিনিধিত্ব করার পক্ষে সাফাই গেয়েছেন তিনি। এই মামলায় আইনি লড়াই নিয়ে শঙ্কা জানানোর পাশাপাশি জুলিয়ানি বলেছেন, ‘আমরা এই ফ্যাসিস্টদের পরাভূত করব।’
জুলিয়ানির পাশাপাশি জর্জিয়ার মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন হোয়াইট হাউসের সাবেক চিফ অব স্টাফ মার্ক মিডোস। হাউস সিলেক্ট কমিটির তদন্তে ট্রাম্পের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের চেষ্টায় তাঁর যোগসাজশের বিষয়টি উঠে আসে।
অভিযুক্ত ব্যক্তিদের একজন হলেন ট্রাম্পের সাবেক আইনজীবী জন ইস্টম্যান। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন, কংগ্রেসের নির্বাচনী ফলাফল অনুমোদন ঠেকাতে তাঁর (পেন্সের) হস্তক্ষেপের ক্ষমতা আছে।
মনে করা হচ্ছে, আসামিদের সবাই নিজেদের নির্দোষ দাবি করবেন। এখন পর্যন্ত কেউ নিজেদের দোষ স্বীকার করেননি। কিন্তু তাঁদের সবাই এখন এমন একটি মামলায় জড়িয়ে পড়েছেন, যা সম্ভবত মাস বা বছরের পর বছর চলতে থাকবে। এটি অত্যন্ত জটিল মামলা হতে পারে, যার কারণে তাঁদের সম্ভবত ব্যাপক আইনি খরচ ও চরম ব্যক্তিগত চাপ নিতে হবে এবং দোষী সাব্যস্ত হলে কারাবাসের ঝুঁকিও রয়েছে।
জর্জিয়ার মামলায় অভিযুক্তের সংখ্যা অনেক বেশি। নিজেদের রক্ষায় কেউ কেউ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের সহযোগিতাও করতে পারেন। আর ট্রাম্প এখন সাধারণ নাগরিক। ঘনিষ্ঠ মহলের আনুগত্যের পুরস্কার দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই তিনি। তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনে সম্ভাব্য বিজয়ের কথা বলে রাষ্ট্রীয় ক্ষমার আশ্বাসে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করতে পারেন তিনি।