মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন ৭ মুসলিম

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ী হয়ে কংগ্রেসে ইতিহাস গড়েছেন সাত মুসলিম প্রার্থী। ছবিতে (বাঁ থেকে ডানে) সিনেটর আবদুল আল-সাইদ, প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ইলহান ওমর, রশিদা তালিব, অ্যাডাম হামাভি; (নিচ থেকে বাঁয়ে) দারিআলিজা আভিলা শেভালিয়ে, আন্দ্রে কারসন ও লতিফা সাইমনছবি: রয়টার্স
প্রথম আলোকে নির্ভরযোগ্য সূত্র হিসেবে পেতে হলেএখানে ক্লিক করুন

যুক্তরাষ্ট্রে গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। কংগ্রসের উভয় কক্ষে অন্তত সাতজন মুসলিম আইনপ্রণেতা জয় পেয়েছেন। নাগরিক অধিকার রক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও পররাষ্ট্রনীতি ছিল প্রার্থীদের প্রচারের মূল বিষয়। এই নির্বাচনের ফল ওয়াশিংটনে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিয়েছে। ডেমোক্রেটিক দল রিপাবলিকানদের হারিয়ে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ উভয়ের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে। নবনির্বাচিত ও পুনর্নির্বাচিত কয়েকজন আইনপ্রণেতা আন্তর্জাতিক আইনের মানদণ্ড বজায় রাখা, মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং গাজায় চলমান গণহত্যার মধ্যে ইসরায়েলকে নিঃশর্ত মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের বিষয়গুলোও তাঁদের প্রচারে গুরুত্ব দিয়েছেন।

আবদুল আল-সাইয়েদ

৪২ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সিনেটে প্রথম নির্বাচিত মুসলিম। তিনি সাবেক রিপাবলিকান প্রতিনিধি মাইক রজার্সকে হারিয়েছেন। অবসরে যাওয়া সিনেটর গ্যারি পিটার্সের ছেড়ে দেওয়া আসনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনী প্রচারের সময় তিনি রিপাবলিকান পার্টি ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিক থেকে মুসলিম পরিচয় নিয়ে আক্রমণের শিকার হন।

গত আগস্টে ডেমোক্র্যাট প্রাইমারিতে জয়ী আল-সাইয়েদ ইসরায়েলকে নিঃশর্ত অস্ত্র সরবরাহের সমালোচনা করেন এবং গাজায় সামরিক অভিযানকে গণহত্যা বলে আখ্যা দেন। নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে প্রাইমারিতে আল-সাইদের কাছে হেরে যাওয়া হ্যালি স্টিভেন্স রিপাবলিকান প্রার্থী রজার্সকে সমর্থন দেন। গাজা নিয়ে আল-সাইয়েদের বক্তব্যের বিরোধিতা করে তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন।

ইলহান ওমর

ডেমোক্র্যাট নেত্রী ইলহান ওমর মিনেসোটার পঞ্চম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে পঞ্চমবারের মতো জয় পেয়েছেন। তিনি রিপাবলিকান জন নাগেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ডেভলে জ্যাকসনকে পরাজিত করেন। ইলহান ১২ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। তিনি ২০১৯ সালে দেশটির প্রথম সোমালি-আমেরিকান ফেডারেল আইনপ্রণেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন। রাজনৈতিক আক্রমণের শিকার হলেও তিনি মার্কিন অস্ত্র বিক্রির ওপর নজরদারি ও মানবিক সহায়তার পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন।

রশিদা তালিব

ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রশিদা তালিব মিশিগানের ১২তম ডিস্ট্রিক্ট থেকে পঞ্চমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী জেমস হুপারকে পরাজিত করেন। রশিদা কংগ্রেসের ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত একমাত্র মার্কিন সদস্য। তিনি অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রয়োগ, সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা ও ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা রেখেছেন।

অ্যাডাম হামাভি

৫৬ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হামাভি নিউ জার্সির ১২তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি রিপাবলিকান গ্রেগ মেলেককে হারিয়ে নিউ জার্সি থেকে কংগ্রেসে প্রতিনিধিত্বকারী প্রথম মুসলিম সদস্য হলেন। হামাভি একজন প্লাস্টিক সার্জন, অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন সেনা চিকিৎসক এবং ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞ সৈনিক।

অ্যাডাম ২০২৪ সালে গাজার ইউরোপিয়ান হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবক চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নির্বাচনী প্রচারে গাজায় মানুষের দুর্ভোগের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন হামাভি। তিনি সবার জন্য মেডিকেয়ার চালু, চিকিৎসা ও শিক্ষার্থীদের ঋণ বাতিল, মার্কিন অভিবাসন সংস্থা আইসিই বিলুপ্তকরণ এবং ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা বন্ধের পক্ষে প্রচার চালান।

দারিআলিজা আভিলা শেভালিয়ে

নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী দারিআলিজা আভিলা শেভালিয়ে প্রতিনিধি পরিষদের আসন নিশ্চিত করেছেন। তিনি গত জুনের প্রাইমারি নির্বাচনে অভিজ্ঞ কংগ্রেস সদস্য আদ্রিয়ানো এসপাইল্লাতকে পরাজিত করেছিলেন। শেভালিয়ে একজন নাগরিক অধিকারকর্মী, গবেষক। তিনি পরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। তিনি নির্বাচনে ৮৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছেন। তাঁর প্রচারে মাঠপর্যায়ে সংগঠন গড়ে তোলা এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

আন্দ্রে কারসন

ইন্ডিয়ানার ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা আন্দ্রে কারসন রিপাবলিকান প্যাট্রিক ম্যাকঅলি এবং লিবার্টেরিয়ান জেমস সিনিয়াককে হারিয়ে তাঁর আসন ধরে রেখেছেন। তিনি ২০০৮ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করছেন এবং প্রতিনিধি পরিষদে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকারী মুসলিম সদস্য। তিনি নীতিগতভাবে আন্তর্জাতিক আইনি সংস্থা, সমান মানবিক মর্যাদা ও মানবিক সহায়তার ওপর জোর দেন।

লতিফা সাইমন

ক্যালিফোর্নিয়ার ১২তম ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী লতিফা সাইমন। তিনি সহকর্মী ডেমোক্র্যাট জেমি জয়েসকে পরাজিত করেন। সাইমন আক্রমণাত্মক মার্কিন অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

ক্যালিফোর্নিয়ার অপর একটি কংগ্রেশনাল আসনে ভোট গণনা চলাকালে আরেক মুসলিম প্রার্থী আয়েশা ওহাব প্রাথমিক গণনায় এগিয়ে ছিলেন।