ইরানকে চীনের সহায়তা গ্রহণযোগ্য নয়, সিকে বললেন ট্রাম্প: মার্কিন রাষ্ট্রদূত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে বৈঠক হয়েছে। সেখানে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানকে চীনের যেকোনো ধরনের সহায়তাই অগ্রহণযোগ্য।
চীনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডু আজ শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সংবাদের চ্যানেল সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান।
সাক্ষাৎকারে পারডু বলেন, ‘আমরা কয়েক সপ্তাহ আগেই তাঁদের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট করেছি যে ইরানকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে গোয়েন্দা তথ্য, যন্ত্রাংশ কিংবা সামরিক সরঞ্জাম—যা–ই হোক না কেন, কোনো ধরনের সহায়তাই গ্রহণযোগ্য নয়। গতকাল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবারও বিষয়টি খুব স্পষ্ট করে বলেছেন। আমরা বারবার তাঁদের এই বার্তা দিয়ে যাচ্ছি।’
পারডু আরও বলেন, ‘এই দুই নেতা এখন পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ক গড়ে তুলছেন এবং বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করছেন। বলতে গেলে, তাঁদের মধ্যে খুবই খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। তাঁরা যখনই কথা বলেন, তখন আমরা দেখতে পাই চলমান এসব কঠিন বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে আরও গভীর আলোচনা হচ্ছে।’
এর আগে এই বৈঠক নিয়ে রয়টার্সের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ও প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি তাইওয়ানের স্বাধীনতা এবং ইরান যুদ্ধ নিয়েও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন দুই নেতা। ট্রাম্প বলেছেন, সির সঙ্গে তাঁর ‘দারুণ বৈঠক’ হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সি চিন পিং ট্রাম্পকে বলেছেন, চীন আশা করে যুক্তরাষ্ট্র ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতার’ বিরোধিতা করবে। তাইওয়ান প্রশ্নে সতর্কতার সঙ্গে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। চীনের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার বিষয়ে বেইজিংয়ের অবস্থান ‘স্পষ্ট’ বলেও উল্লেখ করেন সি।
ইরান প্রসঙ্গে সিনহুয়া জানিয়েছে, সি চান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান গত জুনে করা সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) শর্তে ফিরে যাক। ওই সমঝোতায় যুদ্ধ বন্ধ, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার কথা ছিল। ১৭ জুন সই হওয়া সমঝোতা কয়েক দিনের মধ্যেই ভেস্তে যায়। এরপর পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হলেও জাতিসংঘের চলতি অধিবেশনের ফাঁকে আবার আলোচনা শুরু হয়েছে।