ন্যাটো সম্মেলনের আগে আবারও মেলোনিকে কটাক্ষ ট্রাম্পের
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে ন্যাটো সম্মেলনের ঠিক আগে আবারও কটাক্ষ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এ নিয়ে প্রকাশ্যে পাল্টা প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে আটলান্টিকের দুই পারের মিত্রদের মধ্যে সম্পর্ক অটুট রাখার ওপর জোর দিয়েছেন ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো।
গত মাসে ইতালির একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য মেলোনি ‘মিনতি’ করেছিলেন। এর জবাবে ইতালির প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ট্রাম্প পুরো ঘটনাই বানিয়ে বলেছেন।
এ সপ্তাহে তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলনে দুই নেতার মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে গতকাল রোববার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে মেলোনির একটি ছবি পোস্ট করেন ট্রাম্প। ছবিতে মেলোনিকে তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়। ছবির ক্যাপশনে ট্রাম্প লেখেন, ‘রিস্ট্রেইনিং অর্ডার নিডেড’ (নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন)। এতে দুই নেতার মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে আলোচনায় আসে।
এ বিষয়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি মেলোনি।
তবে ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো দেশটির স্কাই টিভিকে বলেন, ‘ওই পোস্ট নিয়ে আমার কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি প্রধান মিত্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা।’
গুইদো ক্রোসেত্তো আরও বলেন, ‘মানুষ আসে-যায়; কিন্তু বিভিন্ন রাষ্ট্রের পারস্পরিক সম্পর্ক থেকে যায়।’
তবে ইতালির বিরোধী দলগুলো ট্রাম্পের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে। ছোট বিরোধী দল আজিওনের নেতা কার্লো ক্যালেন্ডা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘ট্রাম্প একজন জঘন্য, সস্তা ধরনের নিপীড়ক।’
মেলোনি একসময় ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থক ছিলেন। ২০২৫ সালে ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফার প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা একমাত্র ইউরোপীয় নেতা ছিলেন তিনি।
তবে চলতি বছর ইরান সংঘাত নিয়ে পোপ লিওর সমালোচনার জেরে ট্রাম্পের আচরণের সমালোচনা করেন মেলোনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্পও তাঁকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন এবং তাঁর ‘সাহসের অভাব’ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন।