যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ বছর বয়সী শিশুকে আটক করে নিয়ে গেলেন আইসিই সদস্যরা
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের কলাম্বিয়া হাইটস শহর থেকে কমপক্ষে চারটি শিশুকে আটক করেছে অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী বাহিনী (আইসিই যা আইস নামে পরিচিত)। এর মধ্যে একটি শিশুর বয়স পাঁচ বছর। স্থানীয় একটি স্কুলের কর্মকর্তা এবং ওই শিশুদের পরিবারের আইনজীবী এমন তথ্য দিয়েছেন।
এই পাঁচ বছরের শিশুটিকে আটকের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের দেওয়া ব্যাখ্যাটিকে চ্যালেঞ্জ করেছেন আইনজীবী।
লিয়াম কোনেহো রামোস নামের পাঁচ বছর বয়সী ওই শিশুর পরিবারের আইনজীবী মার্ক প্রোকশ বলেন, লিয়াম ও তার বাবা ইকুয়েডরের নাগরিক। দুজনই যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদনকারী হিসেবে দেশটিতে বৈধভাবে ছিলেন। তাঁদের দুজনকেই টেক্সাসের ডিলিতে একটি পারিবারিক আটক কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
কলাম্বিয়া হাইটস পাবলিক স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট জেনা স্টেনভিক এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, চলতি সপ্তাহে সশস্ত্র ও মুখোশধারী আইসিই কর্মকর্তারা সেখানকার চার শিক্ষার্থীকে আটক করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আটক ৪ জনের মধ্যে ২ জন ১৭ বছর বয়সী, ১ জন ১০ বছর বয়সী এবং ১ জন ৫ বছর বয়সী। ওই পাঁচ বছর বয়সী ছেলে শিশুটির নাম লিয়াম কোনেহো রামোস।
স্টেনভিক বলেন, ‘আইসিই এজেন্টরা আমাদের পাড়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন, আমাদের স্কুলগুলোর চারপাশে ঘোরাফেরা করছেন, আমাদের বাসগুলোকে অনুসরণ করছেন, একাধিকবার আমাদের পার্কিং লটে ঢুকেছেন এবং আমাদের সন্তানদের নিয়ে যাচ্ছেন।’
স্টেনভিক আরও বলেন, আইসিইয়ের এমন কর্মকাণ্ড তাঁর এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। শিশুদের মনের ওপর এর গভীর প্রভাব পড়েছে।
অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চালানো কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এসব আটকের ঘটনা ঘটছে। মিনিয়াপোলিস এলাকায় প্রায় তিন হাজার ফেডারেল আইনপ্রয়োগকারী কর্মকর্তাকে মোতায়েন করা হয়েছে।
৭ জানুয়ারি মিনিয়াপোলিসে এক অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে ৩৭ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক এবং ৩ সন্তানের মা রেনি গুড নিহত হয়েছেন।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মুখপাত্র বলেন, লিয়ামের বাবা অ্যাড্রিয়ান আলেকজান্ডার কোনেহো আরিয়াস যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাস করছেন, তবে ওই মুখপাত্র এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য দেননি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, গত মঙ্গলবার শিশু লিয়াম তাঁর বাবার সঙ্গে প্রি–স্কুল থেকে বাড়ি ফেরে। এ সময় সে নীল রঙের হ্যাট পরা ছিল। সঙ্গে ছিল একটি ব্যাকপ্যাক। লিয়ামের চোখের সামনেই মুখোশধারী কর্মকর্তারা তার বাবাকে বাড়ির গ্যারেজ থেকে তুলে নিয়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনামতে, এরপর কর্মকর্তারা লিয়ামকে জিম্মি করে তার মাকে বাড়ি থেকে বের করে আনার চেষ্টা করছিলেন।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, লিয়ামের বাবা পলাতক থাকায় অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা তাঁকে খুঁজছিলেন। ওই সময় শিশুটিকে একা ফেলে রেখে যেতে চাননি তাঁরা। এ কারণে তাকে সঙ্গে নিয়ে গেছেন আইসিই সদস্যরা।
আইসিই কর্মকর্তাদের পক্ষ নিয়ে ভ্যান্স সাংবাদিকদের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, ‘তাঁরা কী করতেন? তাঁরা কি পাঁচ বছর বয়সী একটি শিশুকে ঠান্ডায় মারা যেতে দিতেন? তাঁরা কি অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করবেন না?’
আইসিইকে সমর্থন জানাতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মিনিয়াপোলিসে গিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেছেন।
কলাম্বিয়া হাইটস স্কুল বোর্ডের চেয়ার মেরি গ্র্যানলুন্ডসহ প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, লিয়ামের স্কুলের কর্মকর্তারা, পরিবারের এক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি এবং প্রতিবেশীরা শিশুটিকে নিজেদের কাছে নিতে চেয়েছিলেন, তবে আইসিই কর্মকর্তারা অনুমতি দেননি।
গ্র্যানলুন্ড বলেন, মা–বাবা অনুপস্থিত থাকলে স্কুলের কর্মকর্তারা সেখানকার শিশুদের দেখভালের অধিকার রাখেন।
শিশুটির মা বাড়ির ভেতরেই ছিলেন। তাঁর স্বামী তাঁকে সেখানেই থাকতে বলেছিলেন। সম্ভবত আটক এড়াতে শিশুটির মা নিজেও এমনটা করেছিলেন। ছেলেটিকে জিম্মি করে মাকে ঘর থেকে বের করার চেষ্টা করা হয়েছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে গ্র্যানলুন্ড বলেন, ‘ঠিক তাই।’
গ্র্যানলুন্ড আরও বলেন, ‘আমাদের সম্প্রদায়ের লোকজন এবং স্কুলগুলোর আশপাশে নিরাপত্তা বোধটুকু নড়বড়ে হয়ে গেছে, আমাদের মন ভেঙে গেছে। সত্যি কথা বলতে গেলে দিন শেষে শিশুদের উচিত তাদের সহপাঠীদের সঙ্গে স্কুলে থাকতে দেওয়া।’
কলাম্বিয়া হাইটস সিটি কাউন্সিলের সদস্য র্যাচেল জেমস সেদিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, কর্মকর্তারা শিশুটিকে একটি কালো এসইউভি গাড়ির পেছনের আসনে বসিয়ে দ্রুত চলে গেছেন।