লোকদেখানো হলেও নিজের সিদ্ধান্তেই ঠিকমতো দেখানো হলো না ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। ওয়াশিংটন ডিসি, যুক্তরাষ্ট্র, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ছবি: এএফপি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাঁকজমক পছন্দ করেন। এ বছরের মে মাসে বেইজিং সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং তাঁকে চোখধাঁধানো অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন। এবার পালা ছিল ট্রাম্পের। বুধবার বিমানবন্দরে নিজে গিয়ে অতিথিকে স্বাগত জানালেন তিনি। পরদিন হোয়াইট হাউসে সির সম্মানে হাজির করা হলো প্রায় পাঁচ শ সামরিক সদস্যকে। ছিল কুচকাওয়াজ, সামরিক বিমানের মহড়া আর সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় ভোজ।

লোকদেখানো অনুষ্ঠান, অথচ নিজের সিদ্ধান্তের কারণেই লোককে ঠিকমতো দেখানো গেল না।

পুরো আয়োজন যেন ক্যামেরার জন্যই সাজানো। অথচ প্রধান মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলোর যৌথ ভিডিও ক্যামেরা ছিল না সেখানে। কয়েক দিন আগে ট্রাম্প ‘ভুয়া সংবাদ’ পরিবেশনের অভিযোগে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিলেন। প্রতিবাদে প্রধান নেটওয়ার্কগুলো প্রেসিডেন্টের অনুষ্ঠানের জন্য যৌথ ভিডিও সরবরাহ বন্ধ রাখে। আদালতের নির্দেশে তিন প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার ফিরলেও সিকে দেওয়া অভ্যর্থনার সময় সেই অচলাবস্থা কাটেনি। অন্য সংবাদমাধ্যম অনুষ্ঠানটি ধারণ করেছে; তবু ট্রাম্প যে টেলিভিশন-দৃশ্য তৈরি করতে চেয়েছিলেন, তার প্রচারই বাধাগ্রস্ত হলো।

লোকদেখানো অনুষ্ঠান, অথচ নিজের সিদ্ধান্তের কারণেই লোককে ঠিকমতো দেখানো গেল না।

আরও পড়ুন

অতিথি আপ্যায়নের পাশাপাশি ট্রাম্প সির সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতাও তুলে ধরতে চেয়েছেন। তাঁদের বন্ধুত্বের কথা বলেছেন বারবার; রাষ্ট্রীয় ভোজে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা বয়ে আনে, এমন সম্পর্ক গড়ার আশা প্রকাশ করেছেন। সির সুর ছিল অপেক্ষাকৃত সংযত। প্রতিযোগিতা থাকবেই, কিন্তু তাকে এমন মল্লযুদ্ধে পরিণত করা উচিত নয়, যেখানে একজনের জয় মানেই অন্যজনের পরাজয়।

সৌজন্যের আড়ালে বিরোধগুলো অবশ্য অটুট। বাণিজ্যযুদ্ধ আপাতত সাময়িক বিরতিতে রয়েছে, স্থায়ী মীমাংসা হয়নি। বিরল খনিজের সরবরাহ এবং উন্নত প্রযুক্তির ওপর বিধিনিষেধ নিয়েও মতভেদ রয়েছে। তাইওয়ান প্রশ্নে সি চান ওয়াশিংটন স্বাধীনতার বিরোধিতা করুক; যুক্তরাষ্ট্র এত দিন বলেছে তারা তাইওয়ানের স্বাধীনতাকে সমর্থন করে না। এই দুই অবস্থানের ফারাক ছোট মনে হতে পারে, কিন্তু কূটনীতিতে তার গুরুত্ব অনেক।

আরও পড়ুন

ইরান নিয়েও অস্বস্তি আছে। চীন ইরানের তেলের বড় ক্রেতা; নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চালু রাখার ব্যবস্থার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। সামরিক সরঞ্জাম–সংক্রান্ত কিছু অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা অবশ্য এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ট্রাম্প চান ইরান যুদ্ধ অবসানে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে বেইজিং সহায়তা করুক। ইরান যুদ্ধ বন্ধে আলোচনায় ফেরার পক্ষে সি কথা বলেছেন, কিন্তু ইরানকে মার্কিন শর্ত মানাতে চাপ দেওয়ার কোনো প্রকাশ্য অঙ্গীকার করেননি।

সৌজন্যের আড়ালে বিরোধগুলো অবশ্য অটুট। বাণিজ্যযুদ্ধ আপাতত সাময়িক বিরতিতে রয়েছে, স্থায়ী মীমাংসা হয়নি। বিরল খনিজের সরবরাহ এবং উন্নত প্রযুক্তির ওপর বিধিনিষেধ নিয়েও মতভেদ রয়েছে। তাইওয়ান প্রশ্নে সি চান ওয়াশিংটন স্বাধীনতার বিরোধিতা করুক; যুক্তরাষ্ট্র এত দিন বলেছে তারা তাইওয়ানের স্বাধীনতাকে সমর্থন করে না। এই দুই অবস্থানের ফারাক ছোট মনে হতে পারে, কিন্তু কূটনীতিতে তার গুরুত্ব অনেক।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে চায় দুই দেশই। একই সঙ্গে বিপজ্জনক কোনো এআই-সংকট দেখা দিলে দ্রুত যোগাযোগের প্রয়োজনও তারা স্বীকার করছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সে ধরনের ঘটনার বিষয়ে পরস্পরকে সতর্ক করার একটি ব্যবস্থার প্রস্তাব করেছেন। প্রেসিডেন্ট সি এআই মানুষের নিয়ন্ত্রণে রাখার এবং সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু সতর্কবার্তা আদান-প্রদানের কোনো চুক্তি হয়েছে, এমন ঘোষণা এখনো আসেনি। চীন আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পক্ষে হলেও নিজের এআই উন্নয়নের ওপর মার্কিন বাধা কিংবা দেশের ভেতরে প্রযুক্তির রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ শিথিল করতে রাজি—এমন লক্ষণ নেই।

আরও পড়ুন

ওয়াশিংটনে তাই আপাতত সবচেয়ে দৃশ্যমান অর্জনটি রাজনৈতিক নয়, আনুষ্ঠানিক। কুচকাওয়াজ, খানাপিনা, পারস্পরিক পিঠ চুলকানো। কঠিন প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো মেলেনি। যত দিন সেই উত্তর নেই, তত দিন এই শীর্ষ বৈঠকের ছবি অনেক; ফলাফল অল্প।

ট্রাম্প চান ইরান যুদ্ধ অবসানে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে বেইজিং সহায়তা করুক। ইরান যুদ্ধ বন্ধে আলোচনায় ফেরার পক্ষে সি কথা বলেছেন, কিন্তু ইরানকে মার্কিন শর্ত মানাতে চাপ দেওয়ার কোনো প্রকাশ্য অঙ্গীকার করেননি।