বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ইতিমধ্যে আগাম ভোট শুরু হয়ে গেছে। নির্বাচকেরা কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ বা প্রতিনিধি পরিষদ ছাড়াও সিনেটের এক-তৃতীয়াংশ ও ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নরসহ বিপুল পরিমাণ পদে নতুন প্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন। তবে এই মুহূর্তে সব নজর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ প্রশ্ন ঘিরেই। প্রতিনিধি পরিষদ অথবা সিনেট, এর কোনো একটিতেও যদি ডেমোক্র্যাটদের মুঠি আলগা হয়ে যায়, তাহলে পরবর্তী দুই বছর প্রেসিডেন্ট বাইডেনের পক্ষে দেশ চালনা কঠিন হয়ে পড়বে। কেউ কেউ তাঁকে এখন থেকেই ‘লেইমডাক’ বা বাঁজা হাঁস নামে ডাকা শুরু করেছেন। 

জনমতের ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত যা জানা যাচ্ছে, তাতে প্রায় প্রতিটি জরিপেই প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের জয়ের ইঙ্গিত রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, নাটকীয় কোনো পরিবর্তন না হলে রিপাবলিকান দল ১৫ থেকে ৩০টি অতিরিক্ত আসন দখল করবে। বর্তমানে দুই দলের মধ্যে ব্যবধান মাত্র পাঁচটি আসনের। অর্থাৎ, নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার পর যদি মাত্র পাঁচটি অতিরিক্ত আসন রিপাবলিকানরা দখল করতে পারে, তাহলে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষের নিয়ন্ত্রণ তারা ফিরে পাবে। ন্যান্সি পেলোসির জায়গায় স্পিকার হবেন কেভিন ম্যাকার্থি। 

সিনেটের চিত্রটি অবশ্য এখনো কিছুটা ধোঁয়াশে। চলতি হিসাব অপরিবর্তিত থাকলে ডেমোক্র্যাটরা সিনেটে তাদের বর্তমান অবস্থান হয়তো ধরে রাখতে পারে। অতিবিশ্বাসী ডেমোক্র্যাটদের ধারণা, ভোটার অংশগ্রহণ যথেষ্ট হলে তারা হয়তো একটি বা দুটি অতিরিক্ত আসন দখলে সক্ষম হবে। তবে অনেকেই বলছেন, ডেমোক্র্যাটদের এ ধারণা অমূলক। 

ফলাফল অপ্রত্যাশিত নয়

এই ফলাফল মোটেই অপ্রত্যাশিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনে বরাবরই ক্ষমতাসীন দল বড় সংখ্যায় আসন হারায়। ২০১০ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রথম মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা ৬৩টি আসন হারিয়েছিল। ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় রিপাবলিকান দল হারিয়েছিল ৪৩টি আসন। ১৯৮২ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে প্রতিনিধি পরিষদে ক্ষমতাসীন দল গড় হিসাবে ৪৬টি আসন হারায়। গত ৪০ বছরে এই নিয়মের ব্যতিক্রম হয়েছে মাত্র একবার, ২০০২ সালে জর্জ বুশ আমলে রিপাবলিকান দল প্রতিনিধি পরিষদে ৮টি অতিরিক্ত আসন দখলে সমর্থ হয়। সেটি অবশ্য নাইন–ইলেভেনে যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার পরের ও ইরাক যুদ্ধের আগের ঘটনা। এ দুই ঘটনা যে নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলেছিল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। 

গত অর্ধশতকের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট, ব্যালটে কোনো প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর নাম নেই, তাই এই নির্বাচনের ব্যাপারে ভোটারদের আগ্রহ কম। ভোটারদের উপস্থিতিও তুলনামূলকভাবে কম হয়। আরও একটি কারণ, নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলে, আর তা হলো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা বা তাঁর সমর্থনের হার। ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের জনসমর্থন যদি ৫০ শতাংশের কম হয়, তাহলে তাঁর দল আসন হারাবেই। ২০১০ সালে ওবামা যখন ৬৩টি আসন হারান, সে সময় তাঁর প্রতি জনসমর্থন ছিল ৪৫ শতাংশ। ২০১৮ সালে ট্রাম্প যেবার ৪৩টি আসন হারান, তাঁর জনসমর্থন ছিল ৪১ শতাংশ। অন্যদিকে ২০০২ সালে মধ্যবর্তী নির্বাচন হলেও জর্জ বুশের জনসমর্থন ছিল ৬০ শতাংশ, যার জোরে তাঁর পক্ষে অতিরিক্ত ৮টি আসন দখল সম্ভব হয়।

এই মুহূর্তে গড় হিসাবে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জনসমর্থন মাত্র ৪২ দশমিক ৮ শতাংশ। ফলে ইতিহাস যদি বিচারের মানদণ্ড হয়, তাহলে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের ৩০ থেকে ৪০টি আসন হারানোর কথা। 

ইটস ইকোনমি, স্টুপিড

১৯৯২ সালে বিল ক্লিনটনের প্রথম নির্বাচনী প্রচারণার সময় তাঁর ক্যাম্পেইন ম্যানেজার জেমস কারভিল বলেছিলেন, অন্য কিছু নয়, অর্থনীতির প্রশ্নই নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করবে। সে সময়েই তিনি স্লোগান তুলেছিলেন, ইটস ইকোনমি, স্টুপিড। তাঁর কথা ফলে গিয়েছিল, অর্থনীতিকে তুরুপের তাস বানিয়ে বিল ক্লিনটন জয় ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। চলতি মধ্যবর্তী নির্বাচনে সেই স্লোগানটি আবার চালু হয়েছে, কারণ একটাই, অন্য কোনো প্রশ্ন নয়, অর্থনীতিই হবে নির্বাচনী ফলাফলের প্রধান নির্ধারক। 

জনমত সংস্থা গ্যালাপের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রের ৮৫ শতাংশ মানুষের জন্য অর্থনীতি অত্যন্ত জরুরি বা বেশ জরুরি। ২ নম্বরে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা (৭১ শতাংশ) এবং ৩ নম্বরে গর্ভপাত (৬৬ শতাংশ)। এরপর রয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, অভিবাসন, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং জলবায়ু সংকট।

২০১৮ সালে ট্রাম্পের ব্যর্থতার একটা বড় কারণ ছিল কোভিড প্রশ্নে দুর্বল নেতৃত্ব। কোভিড নিয়ন্ত্রণের বদলে ট্রাম্প তাঁর জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে এই ভয়াবহ অতিমারির গুরুত্ব ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। ‘ম্যাজিকের মতো কোভিড উধাও হবে,’ ম্যাজিশিয়ানের মতো হাত নেড়ে তিনি বলেছিলেন। অথচ তাঁর সময়ে চার লাখের বেশি মার্কিনির মৃত্য হয় কোভিডের কারণে। 

ট্রাম্পের তুলনায় বাইডেন অনেক বেশি দায়িত্বসম্পন্ন ভূমিকা পালন করেন। ট্রাম্পের মতো মধ্যমঞ্চ দখলের বদলে তিনি কোভিড প্রশ্নে সব সিদ্ধান্ত বিশেষজ্ঞদের হাতে ছেড়ে দেন। কোভিডের কারণে অর্থনৈতিক মন্দাবস্থা ঠেকাতে যে প্রণোদনা বা স্টিমুলাস আইন তিনি পাস করিয়ে নিতে সক্ষম হন, সে জন্য তিনি বিস্তর প্রশংসিতও হন। এ ছাড়া গত দুই বছরে অবকাঠামো সংস্কার ও জলবায়ু সংকট এড়াতে দুটি বড় ধরনের কর্মসূচি তাঁর নেতৃত্বেই গৃহীত হয়। তা সত্ত্বেও অর্থনীতির মন্দাভাব কাটানো তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। তাঁর দলেরই কেউ কেউ বলেন, প্রণোদনা আইনের মাধ্যমে বাজারে যে বিপুল পরিমাণ অর্থের আমদানি ঘটে, মন্দাভাবের সেটাই আসল কারণ। এর সঙ্গে যুক্ত করুন ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি। মার্কিন ভোক্তা অনেক কিছুর মূল্যবৃদ্ধি মেনে নেবে, কিন্তু পেট্রলপাম্পে গিয়ে অতিরিক্ত মূল্য দিতে সে কখনোই হাসি মুখে রাজি হবে না। সে কথা মাথায় রেখে তেলের দাম কমাতে বাইডেন কম চেষ্টা করেননি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আপৎকালীন তেলের সঞ্চয় স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ খুলে দিয়েছেন। এমনকি সৌদি আরবে এসে সে দেশের বিতর্কিত যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তাঁকে তেল উৎপাদন বৃদ্ধির প্রস্তাব করেন। কাজ হয়নি। 

নির্বাচনী মানচিত্র

আরও এক জায়গায় মার খেয়ে গেছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। প্রতি ১০ বছর অন্তর এ দেশে জনসংখ্যা জরিপের ফল প্রকাশ হয়, যার ভিত্তিতে নতুন নির্বাচনী মানচিত্র তৈরি হয়। এই মানচিত্র তৈরির দায়িত্ব থাকে প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের আইন পরিষদের ওপর। এ দেশে রাজ্য পর্যায়ের অধিকাংশ আইন পরিষদ এখন রিপাবলিকানদের হাতে। ফলে মনের মাধুরী মিশিয়ে তাঁরা এমন নতুন নির্বাচনী মানচিত্র এঁকেছেন, যার ফলে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা বেকায়দায় পড়ে গেছে। যেহেতু ভোটদাতা কে কোন দলের তা আগেভাগেই জানা, ফলে নিজেদের প্রাধান্য ধরে রাখতে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত আইন পরিষদ এভাবে নতুন নির্বাচনী এলাকা বেছে নিয়েছেন, যাতে তাঁরা লাভবান হন। ফলে অনেক ক্ষেত্রে ভোটদাতা ও আসনসংখ্যা, এই আনুপাতিক হিসাবে বড় ধরনের বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হচ্ছে ডেমোক্র্যাটদের। এই প্রক্রিয়ার কারণে অধিক সংখ্যক ভোট পেয়েও ডেমোক্রেটিক দল অনেক সময় কমসংখ্যক দলীয় প্রার্থী নির্বাচনে সক্ষম হয়। মানচিত্র নবায়নের এই প্রক্রিয়া ‘জেরিমেন্ডারিং’ নামে পরিচিত, যার ব্যবহার শুধু রিপাবলিকান নয়, ডেমোক্র্যাটরাও সুযোগমতো করে থাকে। 

সিনেটে সমানে সমান 

সিনেটে প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের জন্য রয়েছে দুটি করে আসন। যেহেতু যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় প্রতিটি অঙ্গরাজ্যই হয় লাল বা রিপাবলিকান এবং নীল বা ডেমোক্রেটিক—এভাবে বিভক্ত, ফলে সিনেট নির্বাচনের ফলাফলও আগেভাগে নির্ধারণ সম্ভব। সমস্যা বাধে শুধু সেই সব গুটিকতক অঙ্গরাজ্যে যেখানে লাল-নীলের সংখ্যা ততটা ধরাবাঁধা নয়। এসব অঙ্গরাজ্যকে এ দেশে ‘রণক্ষেত্র রাজ্য’ বা ‘ব্যাটলগ্রাউন্ড স্টেট’ নামে অভিহিত করা হয়। 

৮ নভেম্বর মোট ৩৪টি সিনেট আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও অধিকাংশের ফলাফল মোটের ওপর জানা। এখনো নির্ধারিত হয়নি এমন ‘রণক্ষেত্র’ আসনের সংখ্যা মাত্র সাত অথবা আট। এসব আসনের অধিকাংশ যাদের নিয়ন্ত্রণে আসবে, সিনেটও তাদের হবে। 

সাম্প্রতিক জরিপ অনুসারে, এই মুহূর্তে লাল ও নীল এই দুই দল ‘টাই’ বা ‘অমীমাংসিত’ অবস্থায় রয়েছে। চলতি সিনেটে তাদের অবস্থা ৫০-৫০। এবারও সেই একই ফল হতে পারে। যদি হেরফের হয়, তাহলে বড়জোর একটি বা দুটি আসন হাতবদল হবে। দুই-তিন সপ্তাহ আগে ভাবা হয়ে ছিল ডেমোক্রেটিক দল হয়তো এক বা দুটি অতিরিক্ত আসন দখলে সক্ষম হবে। তবে সর্বশেষ (১ নভেম্বর) হিসাবে দেখা যাচ্ছে, রিপাবলিকান দল মোট ৫১টি আসন নিয়ে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে পারে। 

এই ফলাফল যে বজায় থাকবে, তা ভাবার কোনো কারণ নেই। ইতিমধ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষ আগাম ভোট দিয়ে ফেলেছে, ভোট গ্রহণের হিসাবে যা ২০১৮ সালের সমসংখ্যক। আগাম ভোটে ডেমোক্র্যাটরা বরাবর এগিয়ে থাকে, তবে নির্বাচনী দিনের ভোটে এগিয়ে থাকে রিপাবলিকান। আগামী চার-পাঁচ দিন ভোটের ফলাফল নিজ নিয়ন্ত্রণে রাখতে উভয় দলই সব শক্তি নিয়োগ করবে, তাতে সন্দেহ নেই। দুই দলই দেদার টাকা ছড়াচ্ছে। টেলিভিশনের পর্দায় বা সামাজিক মাধ্যমে নিশ্বাস ফেলার আগেই নির্বাচনী বিজ্ঞাপন ভেসে উঠছে। দলের বাইরে রয়েছে নিজ সমর্থকদের পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি, যারা নির্বাচনে ইচ্ছেমতো অর্থ ব্যয় করতে পারে। এ ছাড়া রয়েছেন একাধিক ধনকুবের, যাঁরা এবারের নির্বাচনে হাত খুলে খরচ করছেন। 

টাকা ছাড়া অন্য যে বিষয়টি নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করে তা হলো মাঠে দলীয় উপস্থিতি। মাঠপর্যায়ে কে কতটা প্রচারণায় সক্ষম, তা ফলাফলকে লক্ষণীয়ভাবে প্রভাবিত করে। বাইডেনের জনপ্রিয়তা নেতিবাচক হওয়ায় নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি কার্যত অনুপস্থিত। তাঁর বদলে ডেমোক্র্যাটরা মাঠে নামিয়েছে সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামাকে। তিনি এখনো এই দলের সেরা ‘হেভিওয়েট’ রাজনীতিক। সেই তিনি কেন এত বিলম্ব করে মাঠে নামলেন, তা নিয়ে ডেমোক্রেটিক দলে কিঞ্চিৎ অসন্তোষ রয়েছে। 

অন্যদিকে রিপাবলিকানদের জন্য রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই দলের অনুগত সমর্থকদের মধ্যে তিনি এখনো সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা। একই সঙ্গে তিনি ডেমোক্রেটিক ও স্বতন্ত্র ভোটারদের কাছে প্রবল রকম বিতর্কিত। মধ্যপন্থী রিপাবলিকানদের কাছেও তিনি সমালোচনার পাত্র। ফলে নিরাপদ বিবেচিত হয়, এমন নির্বাচনী এলাকায় ট্রাম্পকে ভোটারদের মধ্যে প্রণোদনা জোগাতে ব্যবহার করা হচ্ছে। ডেমোক্র্যাটরা অবশ্য আশা করছে, ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তন সম্ভাবনায় ভীত সংখ্যালঘু ও নারী ভোটার বিপুল সংখ্যায় ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হবেন, যা তাঁদের বিপর্যয় এড়াতে সহায়ক হবে। 

কেন গুরুত্বপূর্ণ

এবারের নির্বাচন আগের অনেক মধ্যবর্তী নির্বাচনের চেয়ে অধিক মনযোগের দাবিদার। যুক্তরাষ্ট্রের সামনে এই মুহূর্তে বড় চ্যালেঞ্জ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যাঁর প্ররোচনায় গত বছর ৬ জানুয়ারি কংগ্রেস ভবনে আক্রমণ হয়েছিল, তিনি আবার ক্ষমতায় আসার পাঁয়তারা করছেন। এই হামলার জন্য তাঁকে দায়ী করে কংগ্রেসে যে তদন্ত চলছে, প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রণ ফিরে এলে তারা সম্ভবত প্রথম দিনই এই তদন্ত বাতিল করবে। ইউক্রেন প্রশ্নে মার্কিন সরকার যেভাবে অর্থ ও অস্ত্র সাহায্য দিয়ে চলেছে, তাতেও বাধা আসতে পারে। জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ, কর সংস্কার, অভিবাসন নীতির পরিবর্তন এবং বিচারব্যবস্থায় সমভার অর্জনের যে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা প্রেসিডেন্ট বাইডেনের রয়েছে, তার কোনোটাই হয়তো অর্জিত হবে না। সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকানদের বিরোধিতার মুখে তিনি কার্যত একটি ‘বাঁজা হাঁসে’ পরিণত হবেন। আরও ভয়ের কথা, এই নির্বাচনী ফলাফলে উৎসাহিত হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প হয়তো ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য আটঘাট বেঁধে নামবেন।

অতএব, ভীত হও যুক্তরাষ্ট্র, সাবধান হও।