ইরানে যুদ্ধ থামাতে ইসলামাবাদে বৈঠকে কী আলোচনা হলো

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করেন। ২৯ মার্চ, ২০২৬ছবি: রয়টার্স

আলোচনার আওয়াজ উঠলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরালের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ থামেনি, দুই পক্ষের কেউই হামলা বন্ধ করেনি। এক মাস ধরে চলা এ যুদ্ধে ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলো যেমন ভুগছে, তার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও।

যুদ্ধ থামানোর জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অবশ্য অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে গতকাল রোববার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। দুই দিনের এ আলোচনায় তুরস্ক, সৌদি আরব, মিসর ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বৈঠকটি হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সরাসরি আলোচনার দিকে নেওয়ার জন্য সবচেয়ে সমন্বিত আঞ্চলিক প্রচেষ্টা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই আলোচনায় হরমুজ প্রণালিকে জাহাজ চলাচলের জন্য পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

গতকাল ইসলামাবাদে প্রথম দিনের আলোচনা শেষে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেছেন, আঞ্চলিকভাবে শক্তিধর দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে চলমান যুদ্ধের দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানের সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়েও তাঁরা কথা বলেছেন।

বৈঠক শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ৯০ মিনিট ফোনে কথা বলেন। এটি ছিল পাঁচ দিনের মধ্যে তাঁদের দ্বিতীয় ফোনালাপ।

আরও পড়ুন

কর্মকর্তারা বলছেন, এই দুই নেতার ফোনালাপের মূল বিষয় ছিল উত্তেজনা কমানো। ইরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের আগের আলোচনাগুলোয় একটি বিষয়ের ঘাটতি ছিল। সেটি হলো বিশ্বাসের ঘাটতি।

পেজেশকিয়ান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগের পারমাণবিক আলোচনার সময় ইরানকে দুবার হামলার শিকার হতে হয়েছে। তিনি বলেছেন, একদিকে আলোচনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, অন্যদিকে হামলা চালানো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই পারস্পরিক সাংঘর্ষিক অবস্থানের কারণে দেশটির চাওয়ার বিষয়ে ইরান সন্দিহান।

পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেছেন, সরাসরি সংলাপ বিবেচনা করার আগে আস্থা তৈরি করার মতো পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা প্রয়োজন।

ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এ বৈঠক যে হুট করে আয়োজন করা হয়েছে, তা নয়। এটি একটি প্রক্রিয়ার ফল। চলতি মাসের শুরুতে সৌদি আরবের রিয়াদে মুসলিম ও আরব দেশগুলোর এক সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে প্রথম আলোচনা হয়েছিল। সে প্রক্রিয়াই এখন চারদেশীয় কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় রূপ নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মূল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে পাকিস্তান।

আরও পড়ুন

শুরুতে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় এ বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে পাকিস্তান গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ায় শেষ পর্যন্ত আলোচনার স্থান হিসেবে ইসলামাবাদকে বেছে নেওয়া হয়।

একই সময়ে চীন পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় সমর্থন জানিয়েছে এবং ইরানকে এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে উৎসাহিত করেছে। এতে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে বিশ্বের বড় শক্তিগুলো আঞ্চলিক এ উদ্যোগের পক্ষে অবস্থান নিতে শুরু করেছে।

তাহলে তারা কি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে একে অপরের সঙ্গে আলোচনায় বসাতে পারবে?

কূটনীতিকদের মতে, চার দেশের এই বৈঠক মানে এই নয় যে তারা নিজেরাই যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত দিতে পারবে। এ বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হলো আঞ্চলিক অবস্থানের সমন্বয় করা এবং যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সরাসরি সংলাপের জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত করা।