বেআইনি নির্বাচনী লটারি চালানোর অভিযোগে ইলন মাস্কের বিরুদ্ধে করা মামলা চলবে

ইলন মাস্কছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক ঘনিষ্ঠ সহযোগী, ধনকুবের ইলন মাস্কের বিরুদ্ধে হওয়া একটি মামলার বিচারকাজ চলবে বলে গতকাল বুধবার আদেশ দিয়েছেন দেশটির একজন ফেডারেল বিচারক।

অভিযোগে বলা হয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে ধনী এই উদ্যোক্তা ১০ লাখ ডলার জেতার লোভ দেখিয়ে ভোটারদের দিয়ে ‘সংবিধান সমর্থনের’ নামে একটি কাগজে সই করিয়ে জালিয়াতির আশ্রয় নেন।

টেক্সাসের অস্টিনের ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক রবার্ট পিটম্যান বলেন, মামলাকারী জ্যাকুলিন ম্যাকঅ্যাফার্টির অভিযোগ যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য। তিনি জানিয়েছেন, মাস্ক ও তাঁর রাজনৈতিক সংগঠন ‘আমেরিকা পিএসি’ তাঁকে ওই লটারির নামে ব্যক্তিগত তথ্য দিতে বাধ্য করেছিল। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৪ সালের নির্বাচনের একেবারে শেষ দিকে।

মাস্ক বা আমেরিকা পিএসির আইনজীবীরা এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। মাস্ক আমেরিকা পিএসি গড়ে তুলেছিলেন রিপাবলিকান নেতা ট্রাম্পের সফল নির্বাচনী প্রচারে সমর্থন দেওয়ার জন্য।

অ্যারিজোনার বাসিন্দা ম্যাকঅ্যাফার্টির অভিযোগ, মাস্ক ও তাঁর সংগঠন সাতটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে একইভাবে ভোটারদের প্রলুব্ধ করেছিল। বলা হয়েছিল, প্রতিদিন লটারির মতো একজনকে বেছে নিয়ে ১০ লাখ ডলার দেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে কারও সেই টাকা পাওয়ার সুযোগ ছিল না; বরং ভোটারদের দিয়ে নাম, ঠিকানা, ই-মেইল ও ফোন নম্বর সংগ্রহ করা হয়েছিল।

অ্যারিজোনার বাসিন্দা ম্যাকঅ্যাফার্টির অভিযোগ, মাস্ক ও তাঁর সংগঠন সাতটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে একইভাবে ভোটারদের প্রলুব্ধ করেছিল। বলা হয়েছিল, প্রতিদিন লটারির মতো একজনকে বেছে নিয়ে ১০ লাখ ডলার দেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে কারও সেই টাকা পাওয়ার সুযোগ ছিল না; বরং ভোটারদের দিয়ে নাম, ঠিকানা, ই-মেইল ও ফোন নম্বর সংগ্রহ করা হয়েছিল।

মামলা খারিজের আবেদন জানিয়ে মাস্ক দাবি করেছিলেন, এটি কোনো অবৈধ লটারি নয়। তাঁর যুক্তি ছিল, বিজয়ীদের বলা হয়েছিল, তাঁরা অর্থ ‘উপার্জনের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন’ এবং তাঁদের আমেরিকা পিএসির মুখপাত্র হিসেবে কাজ করার প্রত্যাশা ছিল। তাই এটিকে ‘পুরস্কার’ বলা যায় না।

আরও পড়ুন

কিন্তু বিচারক পিটম্যান বলেন, মাস্ক ও তাঁর সংগঠন এমনভাবেই প্রচার করেছিল, যাতে মনে হয় ১০ লাখ ডলার পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হচ্ছে এবং এটি জেতা সম্ভব। ফলে অভিযোগকারী নারী যুক্তিসংতভাবে ভেবেছিলেন, এটি আসলেই লটারির মতো কোনো সুযোগ।

২০১৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বিচারক পিটম্যানকে নিয়োগ দিয়েছিলেন।

মাস্ক আরও দাবি করেছিলেন, ওই কাগজে সই করে ভোটাররা ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে কোনো ক্ষতির শিকার হননি। তবে বিচারক বলেন, রাজনৈতিক তথ্যবিষয়ক একজন বিশেষজ্ঞ ব্যাখ্যা করতে পারবেন—এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যের ভোটারদের জন্য আসলে কতটা মূল্যবান ছিল।

মামলাকারী জ্যাকুলিন ম্যাকঅ্যাফার্টির অভিযোগ যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য। তিনি জানিয়েছেন, মাস্ক ও তাঁর রাজনৈতিক সংগঠন ‘আমেরিকা পিএসি’ তাঁকে ওই লটারির নামে ব্যক্তিগত তথ্য দিতে বাধ্য করেছিল।
রবার্ট পিটম্যান, ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক

মামলাটি করা হয়েছিল ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর, নির্বাচনের দিন। আগের দিন ফিলাডেলফিয়ার এক বিচারক মাস্কের কর্মসূচি বন্ধের আবেদন খারিজ করে দেন। তাঁর মতে, শহরের প্রধান কৌঁসুলি প্রমাণ করতে পারেননি যে এটি বেআইনি লটারি ছিল।

মাস্ক টেক্সাসের বাসিন্দা। তাঁর বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি টেসলার প্রধান কার্যালয়ও অস্টিনে।

আরও পড়ুন
আরও পড়ুন