ফুটছে রাসায়নিকের ট্যাংক, ক্যালিফোর্নিয়ায় এক কারখানা ঘিরে ছড়াচ্ছে উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের অরেঞ্জ কাউন্টিতে একটি রাসায়নিক কারখানায় বিষাক্ত রাসায়নিকের একটি ট্যাংক নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এটি যেকোনো সময় ফেটে বা বিস্ফোরিত হয়ে বিপর্যয় ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন অবস্থায় ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম ওই কাউন্টিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।
কর্মকর্তারা বলেছেন, কারখানার একটি ট্যাংকে প্রায় সাত হাজার গ্যালন মিথাইল মেথাক্রাইলেট নামের অত্যন্ত দাহ্য রাসায়নিক রয়েছে। ট্যাংকটি বিকল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে আছে। দাহ্য এই পদার্থ প্লাস্টিক তৈরিতে ব্যবহার হয়ে থাকে।
সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে গার্ডেন গ্রোভ এলাকার হাজার হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উড়োজাহাজ ও মহাকাশযান–সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি নির্মাণকারী কারখানাটির অবস্থান জনপ্রিয় ডিজনিল্যান্ড রিসোর্ট থিম পার্ক থেকে প্রায় ৫ মাইল দূরে। তবে থিম পার্কটি ঝুঁকির বাইরে থাকায় সেটি খোলা রাখা হয়েছে।
অরেঞ্জ কাউন্টির ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা ক্রেইগ কোভি বলেছেন, রাসায়নিকের ট্যাংকটির তাপমাত্রা গত শনিবার ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে। তাপমাত্রা প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১ ডিগ্রি ফারেনহাইট করে বাড়ছে।
ক্রেইগ কোভি আরও বলেন, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় কর্মকর্তারা ড্রোন ব্যবহার করে ট্যাংকের বাইরের তাপমাত্রা পরিমাপ করেছিলেন। তখন ধারণা করা হচ্ছিল, তাঁরা ট্যাংকটির তাপমাত্রা প্রায় ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামিয়ে আনতে পেরেছেন। পরে উদ্ধারকর্মীরা ট্যাংকের কাছে গিয়ে পরীক্ষা করে বুঝতে পারেন যে আসলে ট্যাংকের ভেতরের তাপমাত্রা অনেক বেশি।
কোভি আশা প্রকাশ করেন, জরুরি সেবা দল রাসায়নিক বিক্রিয়ার গতি কমাতে পারবে। এই বিক্রিয়ার কারণেই ট্যাংকের ভেতরে তাপ ও চাপ বাড়ছে।
ট্যাংকটি ফেটে গেলে পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, সে কথা মাথায় রেখে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়লে তা আটকে রাখতে বাঁধ ও প্রতিরোধব্যবস্থাও তৈরি করা হচ্ছে, যেন এসব পদার্থ নর্দমা বা সমুদ্রে পৌঁছাতে না পারে।
সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে স্থানীয় স্কুলগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের প্রবেশ এবং বের হওয়ার পথও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
কেউ যদি গন্ধ অনুভব করেন, তাহলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ করেছেন অরেঞ্জ কাউন্টির স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রেজিনা চিনসিও-কোয়ং।
তিনি বলেন, ‘গন্ধ পেলেই যে তা ক্ষতিকর মাত্রায় পৌঁছে গেছে, এমন নয়। তবে আমরা চাই না, কেউ এই গন্ধের সংস্পর্শে আসুক।’
চিনসিও-কোয়ং জানান, এই রাসায়নিকের বাষ্প শ্বাসের সঙ্গে শরীরে গেলে শ্বাসকষ্ট, চোখে জ্বালা ও মাথা ঘোরার মতো সমস্যা হতে পারে।
সম্ভাব্য রাসায়নিক দুর্ঘটনা ঠেকাতে কর্তৃপক্ষ জোরেশোরে তৎপরতা চালাচ্ছে। ড্রোনে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ ট্যাংকটিতে পানি ছিটানো হচ্ছে।
অরেঞ্জ কাউন্টির ফায়ার সার্ভিস বিভাগের কর্মকর্তা ক্রেইগ কোভি গত শুক্রবার সতর্ক করে বলেন, ‘এখন মূলত দুটি ঘটনা ঘটতে পারে। ট্যাংকটি ফেটে রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়তে পারে, অথবা অতিরিক্ত তাপে বিস্ফোরিত হতে পারে।’
তাঁর আশঙ্কা, ট্যাংক ফেটে গেলে অত্যন্ত বিপজ্জনক এই রাসায়নিকগুলো কারখানার আশপাশের পার্কিং এলাকায় ছড়িয়ে পড়বে। আর বিস্ফোরণ হলে আশপাশের অন্যান্য জ্বালানি ও রাসায়নিকভর্তি ট্যাংকও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া মানুষদের একজন মার্ক ওলসেন। তিনি গার্ডেন গ্রোভ স্পোর্টস অ্যান্ড রিক্রিয়েশন সেন্টারে আশ্রয় নিয়েছেন। ওলসেন বলেন, ভোরে সাইরেনের শব্দে তাঁর ঘুম ভাঙে। পরে জানতে পারেন, সবাইকে এলাকা ছাড়তে বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমি কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে দ্রুত বের হয়ে যাই।’
কারখানাটি পরিচালনা করে জিকেএন অ্যারোস্পেস। যুক্তরাজ্যভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠান উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ নির্মাণ করে থাকে।
প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক নয়। স্থানীয় জনগণ, কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি সেবা বিভাগ, বিপজ্জনক পদার্থ মোকাবিলার দায়িত্বে থাকা বিশেষায়িত দল এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁরা কাজ করে যাচ্ছেন।