নির্বাচনী বিতর্কের সময় স্বামীর স্ট্রোক হচ্ছে বলে মনে করেছিলেন জিল বাইডেন
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের স্ত্রী জিল বাইডেন বলেছেন, ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বিতর্ক চলাকালে তিনি তাঁর স্বামীর আচরণ দেখে খুবই ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। জিল ভেবেছিলেন, জো বাইডেন বোধ হয় তখন স্ট্রোক করেছেন।
সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জিল এ কথাগুলো বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি ভয় পেয়েছিলাম। কারণ, এর আগে বা পরে জোকে আমি এমন অবস্থায় কখনো দেখিনি।’
জিল আরও বলেন, ‘আমি জানি না কী হয়েছিল। যখন আমি দেখছিলাম, মনে হচ্ছিল—হায় ঈশ্বর, ও তো মনে হয় স্ট্রোক করছে। আমি অনেক বেশি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।’
২০২৪ সালের রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বিতর্কে ধরাশায়ী হন তৎকালীন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বাইডেন। এরপর প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে তাঁর ওপর চাপ তৈরি করা হয়। শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান এবং তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে প্রার্থী হিসেবে সমর্থন জানান।
সিবিসি নিউজের সানডে মর্নিং অনুষ্ঠানে রিটা ব্রেভারকে সাক্ষাৎকারটি দিয়েছেন জিল বাইডেন। সাক্ষাৎকারটি আগামী রোববার প্রচার হওয়ার কথা।
ডেলাওয়ারের সিনেটর থেকে শুরু করে প্রেসিডেন্ট হওয়া পর্যন্ত বাইডেনের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সব সময় স্বামীর পাশে থেকেছেন জিল। তাঁকে জো বাইডেনের অন্যতম প্রভাবশালী পরামর্শক হিসেবেও বিবেচনা করা হতো। ২০২৪ সালের নির্বাচন থেকে বাইডেনের সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তে তাঁরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে ধারণা করা হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কয়েক মাস আগে ২০২৪ সালের জুন মাসে ওই বিতর্কের পর ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে প্রেসিডেন্টের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়তে থাকে।
সে সময় জো বাইডেনের নির্বাচনী প্রচার শিবির জোরালোভাবে বলেছিল, তিনি প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়াবেন না। তিনি আবারও ট্রাম্পের সঙ্গে বিতর্কে অংশ নেবেন।
ট্রাম্প ও বাইডেন দুজনই দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন। তাঁদের মধ্যে হওয়া বিতর্কে অভিবাসন, অর্থনীতি, গর্ভপাতের অধিকারসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা হয়।
বিতর্ক চলাকালে জো বাইডেনের কণ্ঠস্বর ছিল ভাঙা ও কর্কশ। তাঁর নির্বাচনী দল তখন বলেছিল, তিনি অসুস্থ ছিলেন বলেই এমন হয়েছে। এ ছাড়া একপর্যায়ে বাইডেনকে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে দেখতে যায়।