এপস্টেইনকে বাকিংহাম প্যালেসে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন সাবেক ব্রিটিশ প্রিন্স অ্যান্ডু

প্রিন্স অ্যান্ড্রুছবি: রয়টার্স ফাইল ছবি

কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক প্রয়াত জেফরি এপস্টেইন গৃহবন্দী দশা থেকে মুক্তি পাওয়ার পরপরই তাঁকে বাকিংহাম প্যালেসে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের ভাই অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসর। গতকাল শুক্রবার নতুন এক নথিতে এমন তথ্য সামনে এসেছে।

গতকাল মার্কিন বিচার বিভাগ কয়েক লাখ পৃষ্ঠার নতুন নথি প্রকাশ করেছে। ওই নথিতে এপস্টেইনকে লন্ডনের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত রাজকীয় বাসভবনে আমন্ত্রণের বিষয়টিও উঠে এসেছে।

একটি নথির তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর লন্ডনে অবস্থানকালে এপস্টেইন অ্যান্ড্রুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘আপনি ঠিক কখন আমাকে আসতে বলছেন...আমাদের কিছুটা ব্যক্তিগত সময়ও দরকার।’

জবাবে অ্যান্ড্রু লেখেন, তিনি তখন স্কটল্যান্ড থেকে ফিরছেন। তিনি আরও লেখেন, ‘আমরা বাকিংহাম প্যালেসে নৈশভোজ করতে পারি। সেখানে গোপনীয়তা বজায় রাখা যাবে।’

এর দুই দিন পর অ্যান্ড্রু আবার এপস্টেইনকে ই–মেইল করে লেখেন, ‘তুমি এখানে (বাকিংহাম প্যালেসে) আসছ দেখে ভালো লাগছে। যাকে ইচ্ছা তাকে নিয়ে এসো, আমি বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত অবসর আছি।’

তৎকালীন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সরকারি বাসভবনে সেই নৈশভোজ শেষ পর্যন্ত হয়েছিল কি না, তা নথিতে স্পষ্ট নয়।

১৮ বছরের কম বয়সী এক কিশোরীকে যৌনকর্মে বাধ্য করার দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত এপস্টেইন ২০১০ সালের আগস্টে গৃহবন্দী দশা থেকে মুক্তি পান।

গত বছর জনসমক্ষে আসা অন্যান্য নথি ও অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনা ভার্জিনিয়া জিউফ্রের স্মৃতিচারণামূলক গ্রন্থ এপস্টেইনের সঙ্গে অ্যান্ড্রুর সম্পর্ক নিয়ে যুক্তরাজ্যে নতুন করে ক্ষোভের আগুন উসকে দেয়। এর জেরে রাজা চার্লস তাঁর ভাইয়ের রাজকীয় সব খেতাব ও সামরিক সম্মাননা কেড়ে নেন। একই সঙ্গে লন্ডনের পশ্চিমে উইন্ডসর এস্টেটে অবস্থিত তাঁর ৩০ কক্ষের বিশাল প্রাসাদ ত্যাগেরও নির্দেশ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

অ্যান্ড্রু বর্তমানে মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসর নামে পরিচিত। তিনি জিউফ্রেকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে জিউফ্রের দাবি ছিল, পাচারের শিকার হয়ে তিনি তিনবার অ্যান্ড্রুর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করতে বাধ্য হন। এর মধ্যে দুবারই তাঁর বয়স ছিল ১৭ বছর।

২০২২ সালে এ–সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তির জন্য জিউফ্রেকে কয়েক মিলিয়ন পাউন্ড দিয়েছিলেন অ্যান্ড্রু। তবে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করেননি। মার্কিন ও অস্ট্রেলীয় নাগরিক ভার্জিনিয়া জিউফ্রে গত এপ্রিলে অস্ট্রেলিয়ায় নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করেন। অন্যদিকে জেফরি এপস্টেইন ২০১৯ সালে কারাগারে আত্মহত্যা করেন।

আরও পড়ুন