নিউইয়র্কে ইসরায়েলি আবাসন মেলায় পশ্চিম তীরে জমি বিক্রির কড়া নিন্দা জোহরান মামদানির
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক নগরের মেয়র জোহরান মামদানি গত বুধবার একটি ইসরায়েলি আবাসন মেলার কঠোর সমালোচনা করেছেন। গত মঙ্গলবার স্থানীয় একটি ইহুদি উপসনালয়ে (সিনাগগ) এই মেলার আয়োজন করা হয়। মেলায় অধিকৃত পশ্চিম তীরের বাড়ি ও জমি বিক্রির প্রচার চালানো হয়।
জাতিসংঘ ১৯৬৭ সাল থেকে চলমান ইসরায়েলি দখলদারত্বকে অবৈধ বলে মনে করে। সেই সূত্রে ওই এলাকায় নির্মিত বসতিগুলোও অবৈধ। জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী, এক এলাকার জনগণকে অন্য এলাকায় স্থানান্তর করা নিষিদ্ধ।
মেয়র জোহরান মামদানি সাংবাদিকদের বলেন, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে পশ্চিম তীরের দখল করা জমি বিক্রির প্রচার চালানো হচ্ছে। এ ধরনের মেলার সঙ্গে তিনি কোনোভাবেই একমত নন।
নিউইয়র্কের মেয়র আরও বলেন, নিউইয়র্কের অনেক মানুষও এই আয়োজনের বিপক্ষে। কারণ, এ ধরনের উদ্যোগ ফিলিস্তিনিদের নিজেদের বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদের অপচেষ্টারই একটি অংশ।
গত মঙ্গলবার ‘প্যালেস্টিনিয়ান অ্যাসেম্বলি ফর লিবারেশন’ (পাল-আওদা)-এর আহ্বানে শত শত মানুষ বিক্ষোভ করেন। পার্ক ইস্ট সিনাগগের সামনে অবস্থান নিয়ে তাঁরা এই মেলার প্রতিবাদ জানান। গত নভেম্বরের পর একই স্থানে দ্বিতীয়বারের মতো এ ধরনের আয়োজন করা হলো।
মেলার আয়োজকেরা পশ্চিম তীরের কফার এলদাদ ও কারনেই শমরন বসতির বিভিন্ন সম্পত্তি বিক্রির প্রচার চালান। একই সঙ্গে তাঁরা ক্রেতাদের কর ও বন্ধকি (মর্টগেজ) বিষয়ে পরামর্শ দেন। তবে পুলিশ ব্যাপক ব্যারিকেড দিয়ে বিক্ষোভকারীদের মেলা প্রাঙ্গণ থেকে এক ব্লক দূরে সরিয়ে রাখে।
পাল-আওদা অভিযোগ করেছে, নিউইয়র্ক পুলিশ ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীদের ঘিরে ফেলে এবং তাদের ওপর চড়াও হয়। অন্যদিকে তারা ইহুদিবাদীদের সুরক্ষা দেয়। পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর পেপার স্প্রে ছিটায় এবং উপস্থিত ব্যক্তিদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করে।
সংগঠনটির সরবরাহ করা ফুটেজে দেখা যায়, সন্ধ্যার পর পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করলে পুলিশ সদস্যরা তাদের চিৎকার করে পিছিয়ে যেতে বলেন।
মেয়র মামদানি বলেন, নাগরিকদের আন্দোলনের অধিকার অত্যন্ত পবিত্র। আবার যেকোনো নিউইয়র্কবাসীর উপাসনালয়ে নিরাপদে যাতায়াত নিশ্চিত করাও জরুরি। তবে তিনি পুলিশের আচরণের কোনো সমালোচনা করেননি। বরং তিনি মনে করেন, পুলিশ দুই পক্ষের অধিকারই নিশ্চিত করেছে।
আবাসন আইন লঙ্ঘন
গত ডিসেম্বরে ১০০টির বেশি সামাজিক সংগঠন বিতর্কিত পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশকে বাদ দেওয়ার দাবি জানায়। টিশের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীদের ওপর কঠোর দমন-পীড়ন চালানোর অভিযোগ রয়েছে।
গত জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই জোহরান মামদানি স্পষ্ট করেছিলেন, তিনি টিশকেই কমিশনার পদে বহাল রাখবেন। জেসিকা টিশ নিউইয়র্কের অন্যতম প্রভাবশালী ও ধনী পরিবারের সদস্য। ১২১টি সংগঠনের একটি জোট জোহরান মামদানির এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে।
পাল-আওদা জানিয়েছে, সিনাগগের ওই অনুষ্ঠানে প্রবেশের ক্ষেত্রে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মানদণ্ড ব্যবহার করা হয়েছে। এটি মার্কিন আবাসন আইন ও বৈষম্যবিরোধী ফেডারেল আইনের পরিপন্থী।
সংগঠনটি আরও বলেছে, জায়নবাদী সংস্থাগুলো উপাসনালয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এসব অবৈধ কাজ চালাচ্ছে। এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক।
২০২৪ সালের মার্চ মাসে ফিলিস্তিনি আইনজীবী ও অধিকারকর্মীরা নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেলকে আনুষ্ঠানিক একটি চিঠি দেন। চিঠিতে তাঁরা নিউইয়র্কবাসীর কাছে অধিকৃত জমি বিক্রির বিষয়টি তদন্ত করার দাবি জানান। তবে এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পাল-আওদা।
মেয়র জোহরান মামদানি বুধবার আবারও বলেন, ইহুদিবিদ্বেষকে (অ্যান্টি-সেমিটিজম) কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। তিনি মনে করেন, কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা আর কোনো সরকারের নীতির সমালোচনা করা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।