গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদনের বিষয়ে কি নমনীয় হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী ভিসা নিয়ে যাওয়া বিদেশি নাগরিকদের গ্রিন কার্ডের (স্থায়ী বাসিন্দার কার্ড) জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয় হওয়ার কথা জানিয়েছে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগ (ইউএসসিআইএস)।
ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, যেসব আবেদনকারী মার্কিন ‘অর্থনীতির জন্য লাভজনক’ বলে বিবেচিত হবেন, তাঁরা যুক্তরাষ্ট্র না ছেড়েই স্থায়ীভাবে বসবাসের মর্যাদা পরিবর্তনের (অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস) আবেদন করার সুযোগ পেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম মেনে তাঁদের আগে নিজ দেশে ফেরত না–ও যেতে হতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সম্প্রতি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে আর কেউ স্থায়ীভাবে বসবাসের মর্যাদা পরিবর্তনের আবেদন করতে পারবেন না। আবেদনকারীকে আগে নিজ দেশে ফিরতে হবে। এরপর সেই দেশে থাকা মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।
বর্তমান বৈধ অভিবাসনব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন সিদ্ধান্ত অভিবাসন আইনজীবী ও অধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
ইউএসসিআইএসের মুখপাত্র জ্যাক কাহলার বলেন, যাঁদের আবেদন মার্কিন অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বলে বিবেচিত হবে এবং জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে থাকবে; তাঁরা বর্তমান নিয়ম মেনে আবেদন করতে পারবেন। অন্যদের ক্ষেত্রে প্রত্যেকের বাস্তবতা বিবেচনাসাপেক্ষে নিজ দেশ থেকে আবেদন করার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন এ নিয়মের ফলে অনেক পরিবার বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। সেই সঙ্গে অনেকেই পেশাগত সুযোগ হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে টেক্সাসের হিউস্টনভিত্তিক অভিবাসন অ্যাটর্নি স্টিভেন ব্রাউন বলেন, ‘আমরা এ প্রশাসনের ক্ষেত্রে সব সময় দেখেছি যে তারা আগে পদক্ষেপ নেয়, পরে ভেবে দেখে। একে আমি বলি, আগে গুলি ছোড়া, তারপর লক্ষ্য ঠিক করা। তারা শুরুতে একটি ঘোষণা দেয়। তা দিয়ে মুখরোচক শিরোনাম তৈরি হয়। পরে বুঝতে পারে যে বড় ভুল হয়ে গেছে। তখন পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছুটা নমনীয় হয়।’
শরণার্থী ও অন্য অভিবাসীদের সহায়তাকারী অলাভজনক সংস্থা ‘এইচআইএএস’ বলেছে, এ নীতির কারণে মানব পাচারের শিকার ব্যক্তি এবং নির্যাতিত ও অবহেলিত শিশুরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কারণ, স্থায়ীভাবে বসবাসের প্রক্রিয়ার কিছু অংশ সম্পন্ন করার জন্য তাদেরও এখন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনজীবীদের সংগঠন এআইএলএ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট দিয়ে জানিয়েছে, বছরের পর বছর ধরে চলে আসা নিয়ম কেবল একটি মেমোর মাধ্যমে বদলে ফেলার চেষ্টা বেআইনি। এতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ থাকে। প্রশাসনের এ সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।