সাত বছর বয়সে সে ঘুরে ফেলল সাত মহাদেশ
মাত্র সাত বছর বয়সে পৃথিবীর সাতটি মহাদেশ ভ্রমণের কীর্তি গড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এক শিশু। রূপকথার মতো কীর্তি গড়া এ শিশুর নাম উইল্ডার ম্যাকগ্র। বয়স সাত পূর্ণ হতে হতে সে এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা এবং সবশেষে বরফে মোড়া অ্যান্টার্কটিকায় পা রেখেছে।
উইল্ডারের ভ্রমণজীবনের শুরুটা হয়েছিল জন্মের মাত্র ৮ সপ্তাহ পর ২০১৮ সালের আগস্টে। পর্তুগালে ছিল তার প্রথম বিদেশযাত্রা। মা–বাবা জর্ডি লিপে-ম্যাকগ্র ও রস ম্যাকগ্রর সঙ্গে। এরপর দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ, কানাডা ও মেক্সিকো ঘুরে ফেলে সে। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তালিকায় যুক্ত হতে থাকে ইউরোপ, আফ্রিকা, এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো।
জর্ডি লিপে-ম্যাকগ্র বলেন, ‘সাত বছরে সাতটি মহাদেশ ঘুরে দেখা পরিকল্পনা করে হয়নি। আমরা ভ্রমণ করি, কারণ, ভ্রমণই আমাদের জীবনধারা।’ তবে দক্ষিণ আমেরিকায় যাওয়ার পরিকল্পনা করার সময় তাঁরা বুঝতে পারেন যে উইল্ডার এরই মধ্যে পাঁচটি মহাদেশ ঘুরে ফেলেছে। জর্ডির ভাষায়, তখন আমার স্বামী বলল, তাহলে শেষ দুটোও সেরে ফেলা যাক।
সবচেয়ে স্মরণীয় ছিল অ্যান্টার্কটিকা সফর। সেখানে গিয়ে উইল্ডার হয়ে ওঠে সবচেয়ে কম বয়সী দর্শনার্থীদের একজন। এই ভ্রমণ জর্ডির জন্যও বিশেষ অর্থ বহন করে। কারণ, উইল্ডার তাঁর গর্ভে থাকাকালেই তিনি একবার অ্যান্টার্কটিকায় গিয়েছিলেন।
জর্ডির মতে, তাঁদের ভ্রমণ মানে শুধু গন্তব্যের তালিকা বড় করা নয়। ভিন্ন সংস্কৃতি দেখা, মানুষকে বোঝা আর স্মৃতি তৈরি করাই মূল কথা।
তাঁর বিশ্বাস, এই অভিজ্ঞতা উইল্ডারকে আত্মবিশ্বাসী ও ধৈর্যশীল করেছে।
সব মহাদেশ যেহেতু ঘোরা শেষ। তাই এখন ম্যাকগ্র পরিবার চায় একটু ধীরগতির ভ্রমণ। জর্ডির ইচ্ছা গরিলা ট্রেকিংয়ে যাওয়ার। আর উইল্ডারের স্বপ্ন, ইউরোপের কোনো ফুটবল ক্যাম্পে অংশ নেওয়া। জর্ডি হাসতে হাসতে বলেন, ‘এখন আর শুধু শিশুটিকে টেনে নেওয়া নয়। এখন ভ্রমণটা আমাদের পাশাপাশি তারও।’