ইরান যুদ্ধে মার্কিন আহত সেনার সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়েছে

বহুজাতিক সামরিক মহড়ায় এক মার্কিন সেনা। জর্ডানের রাজধানী আম্মান থেকে প্রায় ৮৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে আল-জারকা এলাকায়ফাইল ছবি রয়টার্স

গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত ৬০০ জনের বেশি মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত নতুন তথ্যে যুদ্ধাহত সেনার এই বড় সংখ্যাটি জানা গেছে। নতুন হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৬২৪ জন মার্কিন সেনা আহত এবং ১৮ জন নিহত হয়েছেন।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর গত রোববার হতাহতদের সঠিক হিসাব রাখতে একটি নতুন রিপোর্টিং পদ্ধতি চালু করেছে। এর মাধ্যমে হতাহতের সামগ্রিক হিসাবকে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ‘ওভারসিজ অপারেশনস’—এই দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। কিন্তু নতুন এই পদ্ধতি চালুর পর থেকে তথ্য লুকানোর চেষ্টা ও অসচ্ছতার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

নতুন তথ্য অনুযায়ী, ৭ জুলাইয়ের পর থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে কর্মরত ২০৭ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৮২ জনই সেনাসদস্য। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ জুলাইয়ের পর আহত হওয়া সেনাদের মধ্যে অন্তত ৯৬ শতাংশই ইতিমধ্যে সুস্থ হয়ে পুনরায় নিজেদের দায়িত্বে ফিরেছেন। এই নতুন বিভাজন ও হিসাবের পরিবর্তন নিয়ে এখন মার্কিন প্রশাসনের নীতি নির্ধারকদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা চলছে।

হতাহতদের নাম দুই ভাগে ভাগ করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটররা। ইউরোপে মার্কিন বাহিনীর সাবেক কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল বেন হজেস এই হিসাবের সততা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে ট্রাম্পের সমালোচক রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য থমাস ম্যাসি এই নতুন বিভাজনকে একটি ‘হাস্যকর চালাকি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই অসঙ্গতিকে ‘সাময়িক তথ্যগত বিভ্রাট’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা জানান, দ্রুত এই পদ্ধতিগত ত্রুটিগুলো দূর করার জন্য কাজ করা হচ্ছে।

এদিকে গোলাবারুদ ফুরিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় গত তিন দিন ধরে ইরানে মার্কিন বাহিনীর হামলা বন্ধ রয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাঁরা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছেন।