মেয়র হিসেবে শততম দিনে সমাজতান্ত্রিক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার মামদানির

নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার শততম দিন উদ্‌যাপন উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন বার্নি স্যান্ডার্সছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক নগরের মেয়র জোহরান মামদানি গতকাল রোববার দায়িত্ব নেওয়ার শততম দিন পূর্ণ করেছেন। এ উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি নিজের প্রাথমিক সাফল্য তুলে ধরেন এবং নিজের সমাজতান্ত্রিক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

কুইন্সে অনুষ্ঠিত ওই সমাবেশে বিপুল জনসমাগম হয়। এ সময় ৩৪ বছর বয়সী মেয়র বলেন, ‘আমি জানি, অনেকেই ‘সমাজতান্ত্রিক’ শব্দটিকে একটি অপমানজনক শব্দ হিসেবে ব্যবহার করেন, যা দিয়ে তাঁরা আমাদের লজ্জিত করতে চান। তাঁরা যতই চেষ্টা করুক, আমরা লজ্জিত হবো না। আমরা সরকারি শক্তিকে ব্যবহার করে মুষ্টিমেয় কয়েকজনের বদলে সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াই চালিয়ে যাব।’

নিজের কাজের প্রমাণ হিসেবে মামদানি বলেন, গত ১ জানুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত নিউইয়র্কের রাস্তাঘাটের ১ লাখেরও বেশি গর্ত ভরাট করা হয়েছে। একে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে দেখছেন তিনি।

মেয়র বলেন, ‘সরকার যদি ছোট ছোট কাজগুলোই করতে না পারে, তবে বড় কাজ করতে আপনারা আমাদের কেন বিশ্বাস করবেন? আমরা যদি আপনাদের যাতায়াতের রাস্তা ঠিক করতে না পারি, তবে শহর পরিবর্তনের বড় বড় স্বপ্ন দেখাব কীভাবে?’

সমাবেশে জোহরানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ৮৪ বছর বয়সী বামপন্থী নেতা বার্নি স্যান্ডার্সও উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে জোহরান মামদানি তার নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলোর অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় মুদিদোকান খোলার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে, যার প্রথমটি আগামী বছরই উদ্বোধন করা হবে। এ ছাড়া শিশুদের জন্য বিনা মূল্যে শিশু পরিচর্যা পরিষেবা দেওয়ার বিষয়েও তাঁর প্রশাসন কাজ করছে।

নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র আরও বলেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বাড়িভাড়া বৃদ্ধি স্থগিত করার পথ প্রশস্ত করতে ইতিমধ্যে তিনি সিটি কমিটিতে রদবদল করেছেন। তবে বাসভাড়া সম্পূর্ণ ফ্রি করার বিষয়টি এখনো অঙ্গরাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।

নতুন মেয়রের জনপ্রিয়তা নিয়ে এই সপ্তাহে প্রকাশিত দুটি জনমত জরিপে দেখা যায়, নিউইয়র্কবাসীর মধ্যে তার জনপ্রিয়তার হার ৪৮ শতাংশ, আর ভোটারদের মধ্যে তা ৪৩ শতাংশ।

এমারসন কলেজ পোলিং/পিক্স১১ জরিপ অনুযায়ী, ৫৪ শতাংশ মানুষ শিশু পরিচর্যার বিষয়ে তাঁর উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন এবং ৪৯ শতাংশ মানুষ আবাসন ব্যয় কমানোর প্রচেষ্টাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন।

তবে একই জরিপে দেখা যায়, হিস্পানিক ভোটারদের ৬৮ শতাংশ এবং কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের ৫৮ শতাংশ মনে করেন, নিউইয়র্ক ‘ভুল পথে’ এগোচ্ছে।

আরও পড়ুন

নির্বাচনী প্রচারের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা করলেও মামদানি সাম্প্রতিক মাসগুলোয় রিপাবলিকান মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে দুবার হোয়াইট হাউসে গেছেন।

ম্যারিস্ট পোল অনুযায়ী, ৫৯ শতাংশ নিউইয়র্কবাসী মনে করেন, ট্রাম্পের সঙ্গে তিনি ‘সঠিক ভারসাম্য’ বজায় রেখেছেন।

আরও পড়ুন