মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শুরু করা যুদ্ধের প্রভাব এখন দেশটিতেও পড়তে শুরু করেছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়েছে, তাতে গৃহস্থালিতে ব্যয় বাড়িয়ে চাপে ফেলেছে দেশটির নাগরিকদের।
রয়টার্স/ইপসোসের একটি নতুন জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। এই জরিপ অনুসারে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের হামলার কারণে বিশ্বব্যাপী তেলের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণে মার্কিন নাগরিকদের আশঙ্কা, জ্বালানির খরচ সামনে আরও বাড়তে থাকবে।
গত মঙ্গল থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পরিচালিত এই জরিপে প্রায় ৫৫ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে তাঁদের পারিবারিক ব্যয় ‘কিছুটা’ হলেও বেড়েছে। যাঁদের ওপর জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে, তাঁদের ২১ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা ‘প্রচণ্ডভাবে’ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন গাড়ির জ্বালানির (গ্যাসোলিন) দাম গড়ে প্রায় এক ডলার বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে ইরান। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথ দিয়ে যুদ্ধের আগে এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি সরবরাহ করা হতো।
এ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমায় আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের পর জ্বালানির দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছিল ১১৯ ডলার। যুদ্ধের আগে তা ৮০ ডলারের আশপাশে ছিল।
এ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে নানা পদক্ষেপের কথা ভাবছে ট্রাম্প প্রশাসন। উপসাগরীয় অঞ্চলে অতিরিক্ত কয়েক হাজার সেনা মোতায়েন এমন একটি পরিকল্পনা।
এ বিষয় সম্পর্কে জানেন এমন কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা মনে করেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ ও ট্যাংকার চলাচল স্বাভাবিক করতে ইরানের উপকূলে মার্কিন সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৮৭ শতাংশ নাগরিক মনে করেন, আগামী মাসে গ্যাসের দাম আরও বাড়বে। জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বড় ধরনের স্থল অভিযান চালাতে পারে। তবে খুব কম মানুষ ইরানে স্থল অভিযানকে সমর্থন করেন।
গত বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে আসেন ট্রাম্প। উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ছিল তাঁর অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি।
গত এক বছর ধরে ট্রাম্প দাবি করে আসছেন যে তিনি এসব প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন। গত মাসেও তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে একটি ‘স্বর্ণযুগে’ বসবাস করছে। কিন্তু যুদ্ধের আগে থেকেই খুব কমসংখ্যক মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পের এ দাবি সঠিক বলে মনে করেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ইঙ্গিতে স্বীকার করেছেন, ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির পেছনে তাঁর কিছুটা ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘অর্থনীতি দারুণ ছিল... আমাদের সবকিছুই দুর্দান্ত ছিল। কিন্তু ইরানে যা ঘটছিল, তা আমি দেখেছি এবং বলেছি, আমি এই অভিযান শুরু করতে চাই না, তবে আমাদের এটি করতে হবে।’
চলতি বছরের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে। মূল্যবৃদ্ধির কারণে এ নির্বাচনে কংগ্রেসে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে পারেন। জরিপে উত্তরদাতারা বলেছেন, নভেম্বরের নির্বাচনে জীবনযাত্রার ব্যয় তাদের ভোটকে প্রভাবিত করবে।