রুবিও, ব্লেয়ার, কুশনারের নাম ঘোষণা
ট্রাম্পের গঠন করা শান্তি পর্ষদ কি কোনো ‘ঔপনিবেশিক কাঠামো’
সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারকে অন্তর্ভুক্ত করে গাজা তদারকি পর্ষদের সদস্যদের নাম ঘোষণা করেছে হোয়াইট হাউস। তবে অধিকারকর্মী ও বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্পের গঠন করা কথিত এ ‘শান্তি পর্ষদ’কে (বোর্ড অব পিস) ঔপনিবেশিক কাঠামোর সঙ্গে তুলনা করেছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী গঠিত বোর্ড অব পিস ফিলিস্তিনের গাজার অন্তর্বর্তী শাসনব্যবস্থা তদারকি করবে। গত অক্টোবর মাস থেকে কার্যকর হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় ইসরায়েলের প্রাণঘাতী হামলা চলছে।
গতকাল শুক্রবার পর্ষদের সদস্যদের নাম জানানো হয়। এতে ব্লেয়ার ও কুশনার ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। গত বছরের শেষের দিকে ট্রাম্পের ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিনি নিজেই এ পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে থাকছেন।
অক্টোবরে বিবদমান দুই পক্ষ ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস ট্রাম্পের এ পরিকল্পনায় সম্মতি দিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজার শাসনব্যবস্থা পরিচালনার জন্য একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট বডি বা বিশেষজ্ঞ দল থাকবে। আর এ দলের কর্মকাণ্ড তদারকি করবে আন্তর্জাতিক শান্তি পর্ষদ বা ‘বোর্ড অব পিস’। এ ব্যবস্থা একটি অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য কার্যকর থাকবে।
গত অক্টোবরে বিবদমান দুই পক্ষ ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস ট্রাম্পের পরিকল্পনায় সম্মতি দিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজার শাসনব্যবস্থা পরিচালনার জন্য একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট বডি বা বিশেষজ্ঞ দল থাকবে। আর এ দলের কর্মকাণ্ড তদারকি করবে আন্তর্জাতিক শান্তি পর্ষদ।
হোয়াইট হাউস জানায়, পর্ষদে আরও রয়েছেন প্রাইভেট ইকুইটি এক্সিকিউটিভ ও ধনকুবের মার্ক রোয়ান, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা ও ট্রাম্পের উপদেষ্টা রবার্ট গ্যাব্রিয়েল। এ ছাড়া জাতিসংঘের সাবেক মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ গাজায় হাই-রিপ্রেজেনটেটিভ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তবে সদস্যদের কার কী সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব হবে, তা হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়নি।
তবে অনেক অধিকারকর্মী ও বিশেষজ্ঞ ট্রাম্পের নেতৃত্বে বিদেশের ভূখণ্ড তদারকির এ ব্যবস্থাকে ঔপনিবেশিক কাঠামোর সঙ্গে তুলনা করেছেন। অন্যদিকে ইরাক যুদ্ধে ভূমিকার কারণে গত বছর থেকেই পর্ষদে টনি ব্লেয়ারের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে সমালোচনা চলছে।
এ পর্ষদের অধীন গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসন প্রথমে গাজাবাসীর জন্য জরুরি ত্রাণের ব্যবস্থা করবে বলে জানান প্রশাসনের সম্ভাব্য প্রধান আলী শায়াথ। ওয়েস্ট ব্যাংক রেডিও স্টেশন নামের একটি সম্প্রচারমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, গাজা পুনর্গঠনে তিন বছরের বেশি লাগবে না। যদিও জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপত্যকাটিতে ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামোগুলো নতুন করে গড়ে তুলতে অন্তত ২০৪০ সাল পর্যন্ত সময় লাগবে।
সাবেক মার্কিন স্পেশাল অপারেশন কমান্ডার মেজর জেনারেল জ্যাসপার জেফার্সকে গাজায় ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’-এর কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত নভেম্বরের মাঝামাঝি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত এক প্রস্তাবে ইসরায়েলি আগ্রাসনে বিধ্বস্ত উপত্যকাটিতে এই বাহিনী গঠনের জন্য ‘বোর্ড অব পিস’ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে অনুমোদন দেওয়া হয়।
হোয়াইট হাউস আরও বলেছে, সাবেক মার্কিন স্পেশাল অপারেশন কমান্ডার মেজর জেনারেল জ্যাসপার জেফার্সকে গাজায় ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’-এর কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত নভেম্বরের মাঝামাঝি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত এক প্রস্তাবে ইসরায়েলি আগ্রাসনে বিধ্বস্ত উপত্যকাটিতে এই বাহিনী গঠনের জন্য ‘বোর্ড অব পিস’ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে অনুমোদন দেওয়া হয়।
এদিকে গাজায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য ইসরায়েল ও হামাস একে অপরকে দোষারোপ করছে। গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১০০ শিশুসহ ৪৪০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি এবং ৩ ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় শুরু হওয়া ইসরায়েলি তাণ্ডবে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নারী-পুরুষ-শিশু নিহত হয়েছে। দেখা দিয়েছে চরম খাদ্যসংকট। অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে গাজার পুরো জনগোষ্ঠী। জাতিসংঘের তদন্ত কমিটিসহ বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও গবেষক ইসরায়েলি কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে ইসরায়েলের দাবি, ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত ও ২৫০ জনের বেশি জিম্মি হওয়ার ঘটনার পর তারা আত্মরক্ষার্থেই এ পদক্ষেপ নিয়েছে।