পাঁচ দশকের বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল বাস্কেটবল অ্যাসোসিয়েশন (এনবিএ) ফাইনালে জয় পায় ‘নিউইয়র্ক নিকস’। এই ঐতিহাসিক জয় উদ্যাপনকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্ক শহরের ম্যানহাটানের মিডটাউনে সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হয়।
স্থানীয় সময় গত শনিবার রাতে দলটির হাজারো উন্মত্ত ভক্ত রাস্তায় নেমে উল্লাস শুরু করলে এক পর্যায়ে তা সহিংসতায় রূপ নেয়। এ সময় টাইমস স্কয়ারে এক কিশোর গুলিবিদ্ধ হয়। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বিশ্বকাপের দর্শক নামিয়ে দিয়ে ফেরা একটি বাসে।
১৯৭৩ সালের পর নিউইয়র্ক নিকস এমন অভাবনীয় পারফরম্যান্স ও ফাইনাল জয় উদ্যাপনে পানশালা ও খোলা মাঠ থেকে হাজারো সমর্থক স্লোগান দিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। অনেককে আতশবাজি ও স্মোক বা ধোঁয়ার গ্রেনেড ফোটাতে দেখা যায়।
বিশ্বকাপের বাসে হামলা
বাস্কেটবলপ্রেমীদের এই উন্মত্ত উল্লাসের মধ্যে নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে ব্রাজিল ও মরক্কোর মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ শেষে দর্শকদের নামিয়ে দিয়ে ফেরা ১৫টি শাটল বাসের একটি বহর আটকা পড়ে। শত শত তরুণ বাসের ওপর উঠে পড়েন। কেউ কেউ চালকের আসনে গিয়ে বসেন।
একপর্যায়ে নিউইয়র্ক সিটি সরকারের ভাড়া করা হলুদ রঙের স্কুলবাসগুলোর একটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শী রয়টার্সের এক সাংবাদিক বাসটি দাউ দাউ করে জ্বলতে দেখেন। এভাবে আরও তিনটি বাস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বাসের ওপর উঠে ব্রাজিল ফুটবল দলের সমর্থকদের পতাকা ওড়াতে দেখা গেছে। ব্রাজিলের ম্যাচ দেখতে আসা মরক্কো বংশোদ্ভূত কানাডীয় নাগরিক ইউসেফ সাব্বর (৪৯) বলেন, তাঁরা তাঁদের আনন্দ প্রকাশ করছেন। কিছুটা সহিংসভাবে হলেও পৃথিবীর সবখানে দল জিতলে এমনটা ঘটে।
গুলি ও সহিংসতা
নিউইয়র্ক পুলিশের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, রাত দুইটার দিকে টাইমস স্কয়ারে উল্লাসের মধ্যে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের পায়ে গুলি লাগে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ভিড়ের মধ্যে মুখ রক্তাক্ত অবস্থায় এক ব্যক্তিকে হেঁটে যেতে দেখা গেলেও তাঁর আঘাতের কারণ জানা যায়নি।
পানশালা থেকে খেলা দেখে বের হওয়া রিয়েল এস্টেট এজেন্ট পঞ্চাশোর্ধ্ব ক্যারল মারিনো বলেন, মনে হচ্ছে একসঙ্গে ২০টি থার্টি ফার্স্ট নাইট উদ্যাপন করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দাঙ্গা পুলিশ ও ঘোড়সওয়ার পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে।
প্রায় দুই ঘণ্টা সংযম দেখানোর পর পুলিশের সদস্যরা লাঠি উঁচিয়ে সমর্থকদের ধাওয়া দিয়ে রাস্তা ফাঁকা করেন। ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের আশপাশের রাস্তাগুলো কর্ডন বা ঘিরে ফেলা হয়।
পুরো জীবন নিকসের সমর্থক হিসেবে পার করে দেওয়া নিউইয়র্কের দম্পতি ডিন ও ক্রিস্টিনা স্মিরোস বলেন, ‘আমাদের জন্মের পর এই প্রথম দল এভাবে জিতল, আমরা ভীষণ খুশি।’ এর আগে ১৯৯৪ ও ১৯৯৯ সালে ফাইনালে উঠলেও যথাক্রমে হিউস্টন রকেটস ও সান আন্তোনিও স্পার্সের কাছে হেরেছিল নিউইয়র্ক নিকস।