হরমুজে ট্যাংকারে আগুন, কয়েকটি যুদ্ধজাহাজে মধ্যপ্রাচ্যে রওনা দিয়েছে ৯০০০ মার্কিন সেনা

গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী আরব সাগরে ‘আব্রাহাম লিংকন’ রণতরির ছবি প্রকাশ করেরয়টার্স ফাইল ছবি

হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের একটি সামুদ্রিক সংস্থা। বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথে ট্যাংকারটিতে ‘অজ্ঞাত একটি বস্তু’ আঘাত হানে। এতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা (ইউকেএমটিও)।

ইউকেএমটিও আরও জানিয়েছে, জাহাজটির নাবিকেরা নিরাপদে আছেন। তবে হামলায় জাহাজটির কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।

ট্যাংকারটি কোন দেশের পতাকা বহন করছিল, সে বিষয়ে সংস্থাটি কিছু জানায়নি। জাহাজটির নির্ধারিত গন্তব্য বা যাত্রাপথ সম্পর্কেও কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। এতে অপরিশোধিত তেল, নাকি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ছিল, তা-ও স্পষ্ট করেনি সংস্থাটি।

মধ্যপ্রাচ্যে যাচ্ছে ৯ হাজার সেনা

ইরানের ওপর নতুন করে বিমান হামলার আশঙ্কার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে ৯০০০ মার্কিন সেনা পাঠাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আগামী নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠেয় মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে আরও হামলা চালানো হতে পারে—এমন খবর ছড়ালেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তা নাকচ করেননি।

ট্যাংকারটি কোন দেশের পতাকা বহন করছিল, সে বিষয়ে সংস্থাটি কিছু জানায়নি। জাহাজটির নির্ধারিত গন্তব্য বা যাত্রাপথ সম্পর্কেও কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। এতে অপরিশোধিত তেল, নাকি এলএনজি ছিল, তা-ও স্পষ্ট করেনি সংস্থাটি।

ইনডিপেনডেন্টের খবরে বলা হয়, কয়েকটি যুদ্ধজাহাজে করে ওই ৯০০০ সেনাকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হচ্ছে। রওনা হওয়া জাহাজগুলোতে ৭০০০–এর বেশি নাবিক ও ২০০০ মেরিন সেনা রয়েছেন।

এ নৌবহরে রয়েছে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ। সম্প্রতি এ বহরের সঙ্গে ইউএসএস চোসিন নামের একটি ক্রুজার মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে ইউএসএস মাকিন আইল্যান্ড অ্যাম্ফিবিয়াস রেডিনেস গ্রুপ। এ বহরে উভচর অবতরণকারী জাহাজ ইউএসএস জন পি মার্থা ও ইউএসএস অ্যাঙ্কোরেজ রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ফাইল ছবি: এএফপি

বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এর ফলে অক্টোবরের শেষ নাগাদ ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বিমানবাহী রণতরি মোতায়েন থাকতে পারে।

কয়েকটি যুদ্ধজাহাজে করে ওই হাজার হাজার সেনাকে মধ্যপ্রাচ্যে নেওয়া হচ্ছে। এ অঞ্চলের উদ্দেশে রওনা হওয়া জাহাজগুলোতে ৭০০০–এর বেশি নাবিক ও ২০০০ মেরিন সেনা রয়েছেন।

ইতিমধ্যে ইরান যুদ্ধ অবসানে তেহরানের দেওয়া প্রস্তাবের বিপরীতে ওয়াশিংটনের জবাব পাওয়ার কথা জানিয়েছে ইরান। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানকে অবশ্যই একটি শান্তিচুক্তিতে সই করতে হবে, অন্যথায় ‘তাদের কোনো অস্তিত্বই থাকবে না’।

অথচ মাত্র কয়েক দিন আগেই ইরানের দেওয়া শান্তির প্রস্তাব প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে চুক্তি কার্যকর করার সময়সীমা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে বলে বুধবার ইঙ্গিত দিয়েছেন ইরানি কর্মকর্তারা।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার বরাত দিয়ে সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানান, মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মার্কিন জবাব প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কাছে পেশ করেছেন।

এদিকে গত বুধবার ইসরায়েলি বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টার পেছনে ইরানের জড়িত থাকার প্রাথমিক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হুঁশিয়ারি দেন, এ ঘটনায় ইরানের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে যুক্তরাষ্ট্র এর প্রতিশোধ নেবে। তিনি বলেন, ‘ওরা তীব্র আঘাতের মুখোমুখি হবে, খুব শক্ত আঘাত; এ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই।’