ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থন কমেই চলেছে, জ্বালানির দাম আরও বৃদ্ধির শঙ্কায় বেশির ভাগ মার্কিন নাগরিক
রয়টার্স/ইপসোস জরিপ অনুসারে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তাঁর ক্যারিয়ারের সর্বনিম্ন রেকর্ডের কাছাকাছি গিয়ে ঠেকেছে।
বেশির ভাগ মানুষ আশঙ্কা করছেন, জ্বালানির দাম আরও বাড়বে, আর ৭০ শতাংশ মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের ভূমিকায় অসন্তুষ্ট।
জরিপ বলছে, কংগ্রেসের নির্বাচনে জনপ্রিয়তার ক্ষেত্রে রিপাবলিকানদের চেয়ে ডেমোক্র্যাটরা সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা আরও কমেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি গিয়ে ঠেকেছে। ইরান যুদ্ধের কারণে বেশির ভাগ মার্কিন নাগরিক আশঙ্কা করছেন, জ্বালানির দাম আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। গতকাল সোমবার প্রকাশিত রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে এমনটাই উঠে এসেছে।
জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৩৫ শতাংশ মানুষ হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন, যা মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে করা আগের রয়টার্স/ইপসোস জরিপের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে। এই হার তাঁর বর্তমান মেয়াদে সর্বনিম্ন এপ্রিলের জরিপে উঠে আসা ৩৪ শতাংশ থেকে সামান্য ওপরে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে তাঁর প্রথম মেয়াদের সর্বনিম্ন রেটিং ছিল ৩৩ শতাংশ।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্তের কারণে ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ব্যাপক জন-অসন্তোষের মুখে পড়েছেন। এই যুদ্ধের ফলেই মূলত সেখানে জ্বালানির দাম ব্যাপক বেড়েছে।
ইরান সংঘাতের অবসান ঘটতে পারে, এমন অনুমানের ওপর ভিত্তি করে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পাম্পে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমলেও এই ৬ দিনের জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৫৯ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তাঁরা আগামী বছরে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম আরও খারাপের দিকে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন। বিপরীতে মাত্র ১৭ শতাংশ মানুষ মনে করেন, পরিস্থিতি ভালো হবে। বাকিরা জানিয়েছেন, তাঁরা নিশ্চিত নন অথবা দাম একই থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ট্রাম্প গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যৌথভাবে ইরানে আগ্রাসন শুরু করেন। জবাবে ইরান পাল্টা হামলা চালায়, যার ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ করে দেয় তেহরান। যুদ্ধের আগে এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের পাঁচ ভাগের এক ভাগ পরিবহন করা হতো।
গত এপ্রিল থেকে হামলা ও পাল্টা হামলার গতি কিছুটা কমলেও শান্তি আলোচনা এখনো কোনো স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি।
জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কম সমর্থন
যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার ব্যয় ট্রাম্প যেভাবে সামলাচ্ছেন, তা মাত্র ২২ শতাংশ মার্কিন নাগরিক সমর্থন করেছেন। ৭০ শতাংশ মানুষই তাঁর এই ভূমিকায় অসন্তুষ্ট। জীবনযাত্রার ব্যয়ের এই বিষয়ে মার্কিন নাগরিকেরা এখন ট্রাম্পের ওপর তাঁর ডেমোক্র্যাট পূর্বসূরি জো বাইডেনের চেয়েও বেশি অসন্তুষ্ট।
জো বাইডেন যখন তাঁর প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ করেন, তখন জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে তাঁর প্রতি ২৯ শতাংশ সমর্থন এবং ৬৩ শতাংশ মানুষের অসন্তোষ ছিল।
বাইডেন কয়েক বছর ধরে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির কারণে বেশ সংকটে ছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাঁর দলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিসের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের জয়ের পেছনে সেটার বেশ ভালো ভূমিকা ছিল।
ট্রাম্প মুদ্রাস্ফীতি সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছিলেন। আর এখন জ্বালানি তেলের ক্রমাগত উচ্চমূল্য আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ক্ষেত্রে তাঁর দলের আশা বড় ঝুঁকিতে পড়েছে।
প্রায় ৩৬ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে সমর্থন করেছেন। তবে এর চেয়েও কম মাত্র ২৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন, এই হামলার সুফলগুলো এর পেছনে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় সার্থক ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে চালানো সর্বশেষ রয়টার্স/ইপসোসের জরিপে দেখা গেছে, আজ যদি কংগ্রেস নির্বাচন হতো, তবে নিবন্ধিত ভোটাররা ডেমোক্র্যাটদের ৪১ শতাংশ ও রিপাবলিকানদের ৩৭ শতাংশ ভোট দিতেন।
গত বছরের জরিপগুলোতে দেখা গিয়েছিল, অর্থনীতি পরিচালনায় ভোটাররা রিপাবলিকানদের বেশি বিশ্বাস করতেন। তবে তাঁদের সেই বিশ্বাস এখন কেটে গেছে। সর্বশেষ জরিপে ৩৬ শতাংশ ভোটার বলেছেন, ডেমোক্র্যাটদের কাছে অর্থনীতির ভালো পরিকল্পনা আছে। আর ৩৭ শতাংশ ভোটার বেছে নিয়েছেন রিপাবলিকানদের।
অনলাইনে পরিচালিত এই জরিপে ৪ হাজার ৫৩১ জন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক অংশ নেন। এতে ভুলের মাত্রা (মার্জিন অব এরর) ২ শতাংশ পর্যন্ত ধরে নেওয়া হয়েছে।