যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, একই ধরনের উদ্বেগের কারণে গত মার্চে তারা পুশউশের কোড আছে, এমন একটি অ্যাপ সরিয়ে নিয়েছে। দেশটির অন্যতম একটি যুদ্ধ প্রশিক্ষণ ঘাঁটিতে সেনারা অ্যাপটি ব্যবহার করতেন।

রাশিয়ায় প্রকাশ্যে দাখিল করা কোম্পানিটির নথিগুলো পর্যালোচনা করে রয়টার্স। এসব নথি অনুযায়ী, পুশউশের সদর দপ্তর সাইবেরিয়ান শহর নোভোসিবিরস্কে। সেখানে একটি সফটওয়্যার কোম্পানি হিসেবে এটি নিবন্ধিত। কোম্পানিটি ডেটা প্রসেসিংয়ের কাজও করে থাকে। 

এই কোম্পানিতে প্রায় ৪০ জন কর্মরত। গত বছর তাদের আয় ছিল ২৪ লাখ ডলার। কর প্রদানকারী হিসেবে পুশউশ রুশ সরকারের কাছ থেকে নিবন্ধন নিয়েছে। 

রয়টার্সের অনুসন্ধানে দেখা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের নথিতে নিজেদের বিভিন্ন সময় ক্যালিফোর্নিয়া, মেরিল্যান্ড ও ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক মার্কিন কোম্পানি হিসেবে উপস্থাপন করেছে।

সফটওয়্যার নির্মাতাদের কোড এবং ডেটা প্রসেসিং সাপোর্ট দিয়ে থাকে পুশউশ। এর মাধ্যমে স্মার্টফোন অ্যাপ ব্যবহারকারীদের অনলাইন কার্যকলাপ প্রোফাইল করতে এবং পুশউশ সার্ভার থেকে নির্দিষ্ট গ্রাহকদের পুশ নোটিফিকেশন পাঠানোর কাজটি করা যায়। 

পুশউশের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, কোম্পানিটি স্পর্শকাতর তথ্য সংগ্রহ করে না। পুশউশের বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীদের ডেটা অপব্যবহারের কোনো তথ্যপ্রমাণ পায়নি রয়টার্স। তবে রুশ কর্তৃপক্ষ স্থানীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কাছে ব্যবহারকারীদের ডেটা হস্তান্তরে দেশীয় কোম্পানিগুলোকে বাধ্য করে আসছে। 

গত সেপ্টেম্বরে এক ই–মেইলে পুশউশের প্রতিষ্ঠাতা ম্যাক্স কোনেভ রয়টার্সকে বলেছেন, কোম্পানিটি তার রুশ শিকড় আড়াল করার কোনো চেষ্টা করেনি। তিনি বলেন, ‘একজন রুশ হিসেবে আমি গর্বিত এবং আমি কখনো এটা গোপন করব না।’ 

পুশউশের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, রুশ সরকারের সঙ্গে কোম্পানিটির কোনো ধরনের যোগসূত্র নেই। এই কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানিতে ডেটা সংরক্ষণ করে থাকে।