যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরাশক্তির মর্যাদাকে যেভাবে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে ইরান

সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় রানওয়েতে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি ই-৩ সেন্ট্রি উড়োজাহাজ ধ্বংস হয়ফাইল ছবি: রয়টার্স

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সংঘাতের মধ্য দিয়ে মূলত দুটি বিষয় ফুটে উঠেছে। একদিকে ইরান নিজেদের সামরিক শক্তি প্রদর্শন করতে চাইছে; অন্যদিকে বিশ্বের অপ্রতিদ্বন্দ্বী সামরিক পরাশক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র।

আরব পারসপেক্টিভস ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক জেইদন আলকিনানি এমনটাই মনে করছেন।

আল-জাজিরাকে এই বিশ্লেষক বলেন, ‘নিঃসন্দেহে এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি পরিস্থিতি। সামরিক হামলার মুখে কোনো চুক্তি বা রূপরেখাই যে টিকতে পারে না, তা সবারই জানা।’

আলকিনানি আরও বলেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে একধরনের শান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। তবে আমরা এটাও জানি যে এসব সামরিক তৎপরতা মূলত একটি বৃহত্তর কৌশলেরই অংশ। ভবিষ্যতে নতুন করে দর-কষাকষির ক্ষেত্র প্রস্তুত করতেই এমনটা করা হয়।’

এই বিশ্লেষক বলেন, ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে টানা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। অন্যদিকে বিশ্বের প্রধান সামরিক পরাশক্তি হিসেবে নিজস্ব বৈশ্বিক মর্যাদা ও সম্মান রক্ষা করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র।

আলকিনানি বলেন, মনে হচ্ছে, ইরান এখন নিজেদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে চাইছে। নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে তারা নিজেদের আক্রমণাত্মক ভাবমূর্তিও তুলে ধরার চেষ্টা করছে। হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে ভুল-বোঝাবুঝি এবং কল্পিত ভবিষ্যৎ থেকেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

কৌশলগত আঞ্চলিক সম্পর্কের খোঁজ

আরব পারসপেক্টিভস ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক জেইদন আলকিনানি বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলো এখন কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। তারা চায়, কূটনীতির মাধ্যমেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এ সংঘাতের যত দ্রুত অবসান হোক।
আলকিনানি বলেন, ‘দীর্ঘ মেয়াদে আমরা ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শ দেখতে পেতে পারি। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক কেমন হবে, তা নিয়ে ভাবছে দেশগুলো। আঞ্চলিক দৃষ্টিকোণ থেকে নতুন কোনো বহুজাতিক জোট গঠনের চিন্তাও তাদের মাথায় থাকতে পারে।’

এই বিশ্লেষক আরও বলেন, এসব ভাবনার মধ্যে বেশ কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব পাবে। এর মধ্যে রয়েছে ইরান ও ইসরায়েলের সম্প্রসারণবাদ কীভাবে ঠেকানো যায়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিনির্ভরতা কমানোর উপায় নিয়েও তারা ভাববে।

আলকিনানি বলেন, তবে সংঘাতের অবসান ঘটাতে অন্য দেশগুলো হয়তো আগের পরিস্থিতিই বজায় রাখতে চাইবে।