রিচার্ড বার্নেটের বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ করা হয়েছিল। সোমবার আদালতে দুই ঘণ্টা ধরে বিচারপতিরা তাঁদের পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। এরপর সব কটি অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। বার্নেট হলেন আরকানসাসের বাসিন্দা।
সোমবার আদালত প্রাঙ্গণের বাইরে রিচার্ড বার্নেট বলেন, তিনি রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। এ রায়কে ‘অন্যায্য’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

মার্কিন বিচার বিভাগের কৌঁসুলি এলিসন প্রাউট বিচারকের দেওয়া পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ করে বলেন, বার্নেট পেলোসির কার্যালয়ে একটি অস্ত্র নিয়ে ঢুকেছিলেন।
প্রাউট বলেন, ‘পেলোসি যদি ওই সময় সেখানে থাকতেন তবে কী যে হতো, তা শুধু আমরা কল্পনাই করতে পারি।’

কৌঁসুলিরা আবেদন করেছেন, সাজা ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত যেন বার্নেটকে কারাগারে রাখা হয়। তবে ডিস্ট্রিক্ট জজ ক্রিস্টোফার কুপার বলেছেন, সাজা ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে বার্নেট কারামুক্ত থাকতে পারবেন।

বার্নেটের ডাকনাম বিগো। ক্যাপিটল হিলে দাঙ্গার ঘটনায় ৯৪০ জনের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ৫০০ মানুষকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। অনেকের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম চলছে।

গত বৃহস্পতিবার জবানবন্দিতে বার্নেট বলেন, ক্যাপিটল হিল ভবনে তিনি শৌচাগার খুঁজতে খুঁজতে ভুল করে পেলোসির কার্যালয়ে ঢুকে পড়েছিলেন। সেখানে সংবাদমাধ্যমের দুই আলোকচিত্রীর সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। বার্নেটের ভাষ্য, এক আলোকচিত্রী তাঁকে ‘স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড’ চালাতে বলেছিলেন। আর সে কারণে তিনি চেয়ারে বসে পড়েন এবং টেবিলের ওপর দুই পা তুলে দেন।

বার্নেটের দাবি, সেদিন তিনি সময়ের স্রোতে গা ভাসিয়ে দিয়েছিলেন মাত্র।
অন্য যেসব অভিযোগে বার্নেটকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে তার মধ্যে একটি অভিযোগ হলো, জনসাধারণের প্রবেশে সীমাবদ্ধতা থাকা ভবন এবং এলাকায় ভয়াবহ অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ।

পেলোসির কার্যালয় থেকে বের হওয়ার আগে বার্নেট পেলোসির একটি চিঠি নিয়েছিলেন। এর দায়েও বার্নেটের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ করা হয়েছে।
কৌঁসুলিরা বলেছেন, ক্যাপিটল হিল থেকে বের হওয়ার আগে বার্নেট উপস্থিত মানুষদের উদ্দেশে বক্তৃতাও দিয়েছেন। তিনি চিৎকার করে বলেছেন, ‘আমরা আমাদের প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নিয়েছি, ন্যান্সি পেলোসির কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছি!’

কৌঁসুলিরা আরও বলেছেন, রাজনৈতিক সমাবেশে অস্ত্র বহনের কারণে বার্নেটকে ২০২০ সালে দুইবার তলব করেছিল পুলিশ।