শপথের দুই মাসের মাথায় গুলিতে প্রাণ হারাতে বসেছিলেন প্রেসিডেন্ট রিগ্যান

টানা দুই মেয়াদ ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। নিজের শাসনামলে সরকার পরিচালনার খোলনলচে বদলে দিয়ে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন তিনি। তাঁর কূটনীতির জোরেই থেমে ছিল ‘কোল্ডওয়ার’ বা শীতল যুদ্ধ। আজ ৬ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এই প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের জন্মদিন।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানছবি: রোনাল্ড রিগ্যান লাইব্রেরি

ছাত্রজীবনে ছিলেন তুখড় অ্যাথলেট। ভালো ফুটবল খেলতেন, দৌড়াতেন, সাঁতারু হিসেবেও সুনাম ছিল তাঁর। সুদর্শন এই তরুণ হলিউডে নিজের ভাগ্য খুঁজে নিতে নাম লিখিয়েছিলেন অভিনয়ে।

বলছি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের কথা, যিনি নিজগুণে দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রেসিডেন্টদের একজন হয়ে উঠেছিলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ৪০তম প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান। যোগাযোগদক্ষতা, ভবিষ্যৎ নিয়ে সব সময় আশাবাদী এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাবনার ওপর অবিচল বিশ্বাসের কারণেও তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন।

২০০৩ সালে ওয়াশিংটনে একটি আদালতে হাজিরা দিতে এসেছেন জন হিঙ্কলি জুনিয়র। তিনি রোনাল্ড রিগ্যানকে গুলি করেছিলেন
ফাইল ছবি: রয়টার্স

কেন গুলি করা হয়েছিল রিগ্যানকে

হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জোডি ফস্টারের এক পাগল ভক্তের নাম ছিল হিঙ্কলি জুনিয়র। যেকোনো মূল্যে তিনি প্রিয় অভিনেত্রীর মনোযোগ কাড়তে চাইছিলেন। এ জন্য হিঙ্কলি যে পরিকল্পনা আঁটেন, তা এককথায় অবিশ্বাস্য। জোডির মনোযোগ কাড়তে হিঙ্কলি গুলি করে বসেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানকে।

দিনটি ছিল ১৯৮১ সালের ৩০ মার্চ। মাত্র দুই মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন রোনাল্ড রিগ্যান। সেদিন ওয়াশিংটনের হিলটন হোটেলে শ্রমিকসংগঠনের সঙ্গে একটি বৈঠক শেষে বেরিয়ে আসেন রিগ্যান। ধীরপায়ে তিনি নিজের লিমোজিন গাড়ির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন।

হঠাৎই সেখানে জড়ো হওয়া সাংবাদিকদের ভিড়ের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করে ছয়টি গুলি ছোড়েন। সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টরা রিগ্যানকে ঘিরে ধরে দ্রুত গাড়িতে তুলে ফেলেন। প্রথমে ভাবা হয়েছিল, প্রেসিডেন্ট গুলিবিদ্ধ হননি। তাঁকে হয়তো গুলি থেকে রক্ষা করা গেছে। গাড়ি হোয়াইট হাউসের পথে ছুটতে শুরু করে। কিন্তু গাড়িতে ওঠার পর রিগ্যানের রক্তবমি শুরু হলে দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

চিকিৎসকেরা দেখতে পান, গুলি রিগ্যানের ফুসফুস ছিদ্র করে দিয়েছে। অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে হৃদ্‌যন্ত্র। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে গুলি বের করা হয়। সেদিন আরও তিনজনের গায়ে গুলি লেগেছিল। তিনজনই অবশ্য প্রাণে রক্ষা পান। কয়েক সপ্তাহ চিকিৎসা ও বিশ্রামের পর কাজে ফেরেন রিগ্যান।

অর্থনীতি পরিচালনায় তাঁর ওই নীতি ‘রিগ্যানোমিকস’ নামে পরিচিতি পায়
ফাইল ছবি: রয়টার্স

প্রেসিডেন্ট হিসেবে কেমন ছিলেন

মরতে মরতে বেঁচে ফেরা রিগ্যান দায়িত্বে ফিরেই পূর্ণোদ্যমে কাজ শুরু করেন। দেশ ও দেশের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার পরিচালনার নীতিতে নাটকীয় পরিবর্তন আনেন তিনি। দেশের অর্থনীতি পরিচালনায় গতানুগতিক নীতির বাইরে গিয়ে নতুন এক কৌশল অবলম্বন করেন। অর্থনীতি পরিচালনায় তাঁর ওই নীতি ‘রিগ্যানোমিকস’ নামে পরিচিতি পায়।

নতুন কৌশলে রিগ্যান কর কর্তন, নজরদারি কমানো এবং সরকার পরিচালনার ব্যয় হ্রাসের মাধ্যমে ব্যক্তিগত খাতকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেন। এভাবে ব্যবসায়ীদের সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে তিনি দেশের অর্থনীতিকে উদ্দীপ্ত করতে চেয়েছিলেন।

রিগ্যানের এই কৌশল সে সময়ে দারুণ কার্যকর হয়েছিল, দেশের অর্থনীতির চাকা গতি পেয়েছিল। যদিও সমালোচকদের যুক্তি ছিল, এই নীতির ফলে আয়বৈষম্য আরও বৃদ্ধি পাবে এবং জাতীয় ঋণের পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ৪০তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ১৯৮১ সালের ২০ জানুয়ারি শপথ নিয়েছিলেন রিগ্যান। সে সময় ৬৯ বছর বয়সী রিগ্যান ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট।

রিগ্যান কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বৈদেশিক নীতি গ্রহণ করেছিলেন। তিনি প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি করে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে চাপ বৃদ্ধি করতে থাকেন। সোভিয়েত ইউনিয়নকে তিনি ‘শয়তানের সাম্রাজ্য’ (এভিল এম্পায়ার) বলেছিলেন।

রিগ্যানের প্রশাসন স্ট্র্যাটেজিক ডিফেন্স ইনিশিয়েটিভ (এসডিআই) চালু করেছিল। এটি একটি ক্ষেপণাস্ত্র সুরক্ষাব্যবস্থা। এটি চালু করার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে সম্পর্কে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে উঠেছিল।

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের শেষ নেতা মিখাইল গর্বাচেভের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান। ছবিটি ১৯৮৭ সালের ৮ ডিসেম্বর হোয়াইট হাউসে তোলা
ছবি: রয়টার্স

স্নায়ুযুদ্ধ অবসানে ভূমিকা

রিগ্যান যখন ক্ষমতায় আসেন, তখন স্নায়ুযুদ্ধ পরিস্থিতি বেশ জটিল। তার মধ্যেই কমিউনিস্ট শাসন এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে তাঁর কঠোর বৈদেশিক নীতি উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করে।

রিগ্যান একদিকে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করতে থাকেন। অন্যদিকে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে তাঁর আক্রমণাত্মক বক্তব্য ১৯৮০-এর দশকের প্রথম ভাগে শীতল যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে।

তবে মিখাইল গর্বাচেভ সোভিয়েত ইউনিয়নের ক্ষমতায় আসার পর রিগ্যান তাঁর কঠোর বৈদেশিক নীতি থেকে সরে গিয়ে কূটনৈতিক অবস্থান নেন।

ফলে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েকটি অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি হয়। ঐতিহাসিক ওই চুক্তিগুলোর মধ্যে ১৯৮৭ সালে হওয়া ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্সেস (আইএনএফ) চুক্তিও অন্তর্ভুক্ত।

বলা হয়ে থাকে, রিগ্যানের কূটনীতির সঙ্গে কঠোরতার মিশেল করার এই দক্ষতা শীতল যুদ্ধের অবসান এবং সারা বিশ্বে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রভাব কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। বিশেষ করে গর্বাচেভের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক সে সময়ের দুই পরাশক্তির মধ্যে উত্তেজনা হ্রাসে বড় ভূমিকা পালন করেছে।

ইরান-কন্ট্রা কেলেঙ্কারি

১৯৮৪ সালে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন রিগ্যান। ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ৪৯টিতেই জেতেন তিন। এ মেয়াদে দৃঢ় ভূমিকা রেখে স্নায়ুযুদ্ধ শেষের শুরু করতে পারার জন্য রিগ্যান যেমন প্রশংসিত হন, তেমনি নানা কেলেঙ্কারিতে জড়িয়েছে তাঁর নাম।

বিশেষ করে ইরান-কন্ট্রা কেলেঙ্কারি। নিজেদের আইন লঙ্ঘন করে ১৯৮৫ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র গোপনে ইরানের কাছে অস্ত্র বিক্রি শুরু করে। অস্ত্র বিক্রির টাকা ব্যয় হতে থাকে নিকারাগুয়ার ‘কন্ট্রা’ বিদ্রোহীদের পেছনে। বিদ্রোহীরা তখন দেশটির কমিউনিস্ট সরকারকে উৎখাতে লড়ছে।

১৯৮৬ সালে বিষয়টি জানাজানি হলে তা ইরান-কন্ট্রা কেলেঙ্কারি হিসেবে সংবাদমাধ্যমে লেখালেখি শুরু হয়। এই কেলেঙ্কারি প্রেসিডেন্ট রিগ্যানকে তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে বেশ চাপের মধ্যে ফেলে দেয়।

যদিও রিগ্যান সরাসরি ইরান-কন্ট্রা চুক্তির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। কিন্তু এ কেলেঙ্কারি তাঁর প্রশাসনের ভাবমূর্তির বেশ ক্ষতি করেছিল।

জন্ম ও বেড়ে ওঠা

১৯১১ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে জন্ম হয় রোনাল্ড উইলসন রিগ্যানের। বাবা জন এডওয়ার্ড রিগ্যান ও মা নেলি উইলসন রিগ্যান। কয়েকবার আবাস বদলের পর ১৯২০ সালে অঙ্গরাজ্যের ডিক্সনে থিতু হয় রিগ্যান পরিবার।

রোনাল্ড রিগ্যান ভালো ফুটবল খেলতেন, ছিলেন দৌড়বিদ ও সাঁতারু। ১৯৩২ সালে খেলাধুলার ধারাভাষ্যকার হিসেবে একটি রেডিওতে যোগ দিয়েছিলেন।

১৯৩৭ সালে অভিনয়জগতে নাম লেখান রিগ্যান। তিনি ৫০টির বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। টেলিভিশনেও কাজ করেছেন।

সিনেমার পর্দা থেকে হোয়াইট হাউসে

১৯৩৭ সালে হলিউডে নাম লেখান রিগ্যান। পরের তিন দশকে তিনি ৫০টির বেশি সিনেমায় অভিনয় করেন। কাজ করেছেন টেলিভিশনেও।

রিগ্যানের অভিনয় করা জনপ্রিয় সিনেমাগুলোর অন্যতম ‘ন্যুট রকেন অল আমেরিকান’। ১৯৪০ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি একটি বায়োপিক। যুক্তরাষ্ট্রের একজন ফুটবলারের জীবনের ওপর নির্মাণ করা হয়েছিল এই সিনেমা।

১৯৪২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘কিংস রো’–তে রিগ্যানের অভিনয়ও দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল। তিনি ওই সিনেমায় দুর্ঘটনায় পা হারানো এক ব্যক্তির চরিত্রে অভিনয় করেন।

১৯৪৭ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত রিগ্যান স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ডের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি টেলিভিশন সিরিজেও কাজ করেছেন।

১৯৬৪ সালে মুক্তি পাওয়া বিতর্কিত সিনেমা ‘দ্য কিলার্স’–এ অভিনয় করেছিলেন রিগ্যান। এটি ছিল তাঁর অভিনয়জীবনের শেষ সিনেমা।

অভিনেতা হিসেবে দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের কাছে আগে থেকেই পরিচিত ছিলেন রিগ্যান। রাজনীতিতে নামার পর এই পরিচিতি তাঁর পক্ষে গেছে। ১৯৬৬ সালে ভোটের লড়াইয়ে তিনি সে সময়ে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর প্যাট ব্রাউনকে হারান।

১৯৭০ সালে রিগ্যান দ্বিতীয় মেয়াদে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর নির্বাচিত হন। তত দিনে হোয়াইট হাউসে যাওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন রিগ্যান।

কিন্তু দলের টিকিট পেতে রিগ্যানকে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়েছে। ১৯৬৮ ও ১৯৭৬ সালে তিনি দুবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি থেকে মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু দুবারই ব্যর্থ হন। তবে ১৯৮০ সালে দল তাঁকে আর খালি হাতে ফিরিয়ে দেয়নি।

সেবার ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জিমি কার্টারকে বড় ব্যবধানে হারান রিগ্যান। তিনি ৪৮৯টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট জেতেন। কার্টার জেতেন মাত্র ৪৯ ভোট।

৬৯ বছর বয়সে ১৯৮১ সালের ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বয়সী (ওই সময় পর্যন্ত) প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন তিনি।

নিজের অভিষেক ভাষণেই রিগ্যান বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁর সরকার গতানুগতিক পথে চলবে না। অভিষেক ভাষণে রিগ্যান বলেছিলেন, ‘আমাদের সমস্যার সমাধান সরকার নয়; সরকারই সমস্যা।’

ক্ষমতা ছাড়ার পর স্ত্রী ন্যান্সি রিগ্যানকে নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস শুরু করেন রোনাল্ড রিগ্যান
ফাইল ছবি: রয়টার্স

আলঝেইমার

কেলেঙ্কারিতে নাম জড়ালেও দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে পারার কারণে জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট হিসেবেই ১৯৮৯ সালে ক্ষমতা থেকে বিদায় নেন রিগ্যান। ওয়াশিংটন থেকে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ায় ফিরে যান এবং স্ত্রী ন্যান্সি রিগ্যানকে নিয়ে সেখানেই বসবাস শুরু করেন।

১৯৯৪ সালে মার্কিন জনগণের প্রতি হাতে লেখা এক চিঠিতে রিগ্যান নিজেই জানান, তিনি আলঝেইমারে আক্রান্ত। তাঁর মায়ের একই রোগ ছিল।

এর পর থেকে অন্তরালে চলে যান সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট। মৃত্যুর আগে তাঁকে জনসমক্ষে আর খুব বেশি দেখা যায়নি। ২০০৪ সালের ৫ জুন নিজ বাড়িতে মারা যান রিগ্যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর।