এপস্টিনের নিউ মেক্সিকোর খামারের কাছে কিশোরীদের মেরে পুঁতে রাখা হতো, কী বলছে নথিপত্র
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের বিচার বিভাগ গত বুধবার জানিয়েছে, তারা দুই অপ্রাপ্ত কিশোরীর মরদেহ পুঁতে রাখার একটি অভিযোগ তদন্ত করছে। মার্কিন বিচার বিভাগ থেকে প্রকাশিত নথি অনুসারে, প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিন তাঁর নিউ মেক্সিকোর দুর্গম খামারের বাইরে দুই বিদেশি কিশোরীর মরদেহ পুঁতে রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
নিউ মেক্সিকোর বিচার বিভাগের মুখপাত্র লরেন রদ্রিগেজ বলেন, তাঁরা ২০১৯ সালের একটি ই–মেইলের কাটছাঁটহীন কপির জন্য মার্কিন কেন্দ্রীয় বিচার বিভাগের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন। বিচার বিভাগ থেকে প্রকাশিত নথিতে এই অভিযোগটি ছিল।
মার্কিন বিচার বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (এফবিআই) এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
মামলার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে রদ্রিগেজ এক ই–মেইল বার্তায় বলেন, ‘আমরা সক্রিয়ভাবে অভিযোগটি তদন্ত করছি। মার্কিন বিচার বিভাগের সাম্প্রতিক নথিপত্র প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা চালাচ্ছি।’
এর এক দিন আগে বিষয়টি নিয়ে নিউ মেক্সিকোর আইনসভা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। সান্টা ফে থেকে ৩০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত জোরো র্যাঞ্চে দুই দশকের বেশি সময় ধরে এপস্টিনের নারী ও কিশোরীদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে এই তদন্ত হচ্ছে।
ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের পক্ষ থেকে এপস্টিনের অপরাধ উন্মোচনের এই চাপ এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বড় এক রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মার্কিন বিচার বিভাগের সাম্প্রতিক প্রকাশিত এপস্টিন–সংক্রান্ত নথিতে ২০১৯ সালের সেই ই–ইমেলটি পাওয়া গেছে। এপস্টিনের মৃত্যুর কয়েক মাস পর ই–মেইলটি পাঠানো হয়েছিল নিউ মেক্সিকোর রেডিও সঞ্চালক এডি অ্যারাগনকে। তিনি তাঁর অনুষ্ঠানে ‘জোরো র্যাঞ্চ’ নিয়ে আলোচনা করেছিলেন।
ই–মেইলের প্রেরক নিজেকে জোরো র্যাঞ্চের সাবেক কর্মচারী বলে দাবি করে কিছু ভিডিওর বিনিময়ে একটি বিটকয়েন দাবি করেছিলেন। তাঁর পাঠানো ই–মেইলে বলা হয়েছিল, ভিডিওগুলো এপস্টিনের বাড়ি থেকে নেওয়া। সেগুলোতে একজন অর্থদাতাকে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীদের সঙ্গে যৌনকাজে লিপ্ত অবস্থায় দেখা গেছে।
ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের পক্ষ থেকে এপস্টিনের অপরাধ উন্মোচনের এই চাপ এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বড় এক রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মার্কিন বিচার বিভাগের সাম্প্রতিক প্রকাশিত এপস্টিন–সংক্রান্ত নথিতে ২০১৯ সালের সেই ই–ইমেলটি পাওয়া গেছে। এপস্টিনের মৃত্যুর কয়েক মাস পর ই–মেইলটি পাঠানো হয়েছিল নিউ মেক্সিকোর রেডিও সঞ্চালক এডি অ্যারাগনকে। তিনি তাঁর অনুষ্ঠানে ‘জোরো র্যাঞ্চ’ নিয়ে আলোচনা করেছিলেন।
ই–মেইলের প্রেরক নিজেকে জোরো র্যাঞ্চের সাবেক কর্মচারী বলে দাবি করে কিছু ভিডিওর বিনিময়ে একটি বিটকয়েন দাবি করেছিলেন। তাঁর পাঠানো ই–মেইলে বলা হয়েছিল, ভিডিওগুলো এপস্টিনের বাড়ি থেকে নেওয়া। সেগুলোতে একজন অর্থদাতাকে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীদের সঙ্গে যৌনকাজে লিপ্ত অবস্থায় দেখা গেছে।
অ্যারাগন এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি ই–মেইলটিকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছিলেন। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি তা এফবিআইয়ের কাছে পাঠিয়েছিলেন। সঞ্চালক অ্যারাগন দাবি করেন, তিনি প্রেরককে কোনো অর্থ দেননি বা তাঁর সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।
অবশ্য এই রেডিও সঞ্চালক বলেন, সম্প্রতি তিনি প্রথমবারের মতো ই–মেইলটির উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেই ই–মেইল ঠিকানাটি তখন আর সচল ছিল না।
অ্যারাগনের কাছে পাঠানো সেই ই–মেইলে বলা হয়েছিল, এপস্টিনের নির্দেশে দুই বিদেশি কিশোরীকে ‘জোরো র্যাঞ্চের বাইরে পাহাড়ের কোথাও’ পুঁতে রাখা হয়েছে। ই–মেইলে আরও দাবি করা হয়, ‘বেপরোয়া ও বিকৃত যৌনচারের সময় শ্বাসরোধে’ ওই দুজনের মৃত্যু হয়েছিল।
এপস্টিন ফাইলের সর্বশেষ সংস্করণে থাকা এফবিআইয়ের ২০২১ সালের এক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যারাগন এফবিআই অফিসে গিয়ে এই ই–মেইলটির কথা জানিয়েছিলেন। ই–মেইলের প্রেরক একটি বিটকয়েনের বিনিময়ে সাতটি যৌন নির্যাতনের ভিডিও এবং জোরো র্যাঞ্চের বাইরে সমাহিত দুই বিদেশি কিশোরীর অবস্থানের তথ্য দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বিচার বিভাগের অন্যান্য নথিপত্র খুঁজে দেখেছে, এই ই–মেইলের অভিযোগগুলো বা তদন্তকারীরা এসব দাবির কতটুকু সত্যতা খুঁজে পেয়েছেন, সে সম্পর্কে আর কোনো তথ্য নেই।
বিচার বিভাগ গত বছর সতর্ক করেছিল, এপস্টিন তদন্তের প্রকাশিত কিছু ফাইলে ‘অসত্য ও চাঞ্চল্যকর দাবি’ রয়েছে। এর মধ্যে কিছু বেনামি অভিযোগ রয়েছে, যা তদন্তকারীরা প্রমাণ করতে পারেননি অথবা কিছু ক্ষেত্রে মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে।
গত বুধবার এক সাক্ষাৎকারে নিউ মেক্সিকো স্টেট ল্যান্ড কমিশনার স্টেফানি গার্সিয়া রিচার্ড বলেন, সম্প্রতি এপস্টিন ফাইলের সর্বশেষ সংস্করণ খোঁজার সময় তাঁর অফিসের কর্মীরা এই ই–মেইলটি খুঁজে পেয়েছেন।
গার্সিয়া রিচার্ড ১০ ফেব্রুয়ারি মার্কিন বিচার বিভাগকে লেখা একটি চিঠি ও বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় ও অঙ্গরাজ্যের বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে এপস্টিনের খামার ও এর আশপাশের সরকারি জমিতে সংঘটিত অপরাধের অভিযোগগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে তদন্ত করা হয়।
এপস্টিন ১৯৯৩ সালে খামারের চারপাশের প্রায় ১ হাজার ২৪৩ একর সরকারি জমি ইজারা নিয়েছিলেন। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে গার্সিয়া সেই ইজারা বাতিল করেন। কারণ, তাঁর অফিস নিশ্চিত হয়েছে, এপস্টিন ওই জমি পশুপালন বা কৃষিকাজে ব্যবহার করতেন না। বরং তাঁর খামারের গোপনীয়তা রক্ষার আড়াল হিসেবে ব্যবহার করতেন।
২০১৯ সালের আগস্টে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে এপস্টিনের মৃত্যু হয়। তখন কারা কর্তৃপক্ষ তাঁর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে জানিয়েছিল।