মাস্তো গর্ভপাত বৈধ করা এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণের পক্ষে সরব থাকেন। ৫৮ বছর বয়সী এ নেত্রীকে পুনর্নির্বাচিত করতে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট নেতাদেরও প্রচেষ্টা চালাতে দেখা গেছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং বারাক ওবামার মতো নেতারা তাঁর পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী লাক্সাল্টের পরিবারের ১৪ সদস্যের কাছ থেকেও সমর্থন পেয়েছিলেন ক্যাথেরিন মাস্তো।

নেভাদা অঙ্গরাজ্যে এবারের ভোটে রেকর্ড পরিমাণে খরচ হয়েছে। নির্বাচনে টিভি বিজ্ঞাপন বাবদ ১৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার খরচ হয়েছে। নির্বাচন উপলক্ষে লাক্সাল্টের জন্য দেড় কোটি ডলার এবং ক্যাথেরিন মাস্তোর জন্য ৫ কোটি ২০ লাখ ডলার তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছে।

নেভাদার দীর্ঘদিনের ডেমোক্রেটিক সিনেটর হ্যারি রিডের বন্ধু ছিলেন মাস্তোর বাবা মানি। সাবেক কৌঁসুলি এবং অঙ্গরাজ্যটির দুইবারের অ্যাটর্নি জেনারেল হ্যারি রিড তাঁর স্থলাভিষিক্ত করার জন্য কর্টেজ মাস্তোকে বেছে নিয়েছিলেন। কয়েক বছরের চেষ্টায় নেভাদা অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট শিবিরের অবস্থান শক্ত করেছিলেন রিড। এ রাজনীতিবিদের সমর্থন নিয়েই ২০১৬ সালের নির্বাচনে সিনেটর নির্বাচিত হন মাস্তো। এবার আবার সিনেটর নির্বাচিত হলেন তিনি।

মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে ডেমোক্র্যাটদের কাছে এ অঙ্গরাজ্যের ফলাফল খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এতে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের পাওয়া আসনসংখ্যা ৫০–এ দাঁড়িয়েছে। আর রিপাবলিকানরা জয় পেয়েছে ৪৯টি আসনে। নেভাদায় জয়ের মধ্য দিয়ে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত হয়ে গেছে।

কারণ, জর্জিয়ায় যদি রিপাবলিকানরা জেতেও, তবে দুই দলের প্রাপ্ত আসনসংখ্যা হবে ৫০ করে। কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৫১টি আসন। এমন অবস্থায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট টাইব্রেকিং (দুই দল সমসংখ্যক আসন পেলে ভাইস প্রেসিডেন্ট ভোট দিয়ে একটিকে জয়যুক্ত করেন) ভোট দিতে পারবেন।

নেভাদায় ভোট গণনায় কয়েক দিন দেরি হওয়ার ক্ষেত্রে সেখানকার ডাকযোগে ভোট গ্রহণের পদ্ধতি আংশিক ভূমিকা রেখেছে। ২০২০ সালে অঙ্গরাজ্যটির স্থানীয় আইনসভায় নিয়মটির প্রচলন করা হয়। এ বিধি অনুযায়ী, নির্বাচনের দিন ভোট দিয়ে ব্যালটটি ডাকযোগে পাঠাতে হয়। ব্যালট পৌঁছানোর জন্য চার দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করা হয়।

সূত্র: বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান