এপস্টেইনের নথিতে বিল গেটসের নাম আসার পর কী বলছেন সাবেক স্ত্রী মেলিন্ডা
যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথিতে সাবেক স্বামী বিল গেটসের নাম থাকা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ধনকুবের ও সমাজসেবী মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস। তিনি বলেন, এ ঘটনায় সাবেক স্বামী বিল গেটসের সঙ্গে তাঁর বিবাহিত জীবনে কাটানো যন্ত্রণাদায়ক সময়ের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনপিআর-এর এক পডকাস্টে মেলিন্ডা গেটস এ কথা বলেছেন।
মেলিন্ডা মনে করেন, এপস্টেইন–সম্পর্কিত নথিতে তাঁর সাবেক স্বামীসহ আরও যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের সবাইকে এর জবাব দিতে হবে।
মেলিন্ডা আরও বলেন, ‘সব সমস্যা থেকে বের হয়ে আসতে পেরেছিলাম বলে আমার খুবই স্বস্তি হচ্ছে।’
২৭ বছর বিবাহিত সম্পর্কে থাকার পর ২০২১ সালে বিল গেটস ও মেলিন্ডা গেটস দম্পতির বিচ্ছেদ হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সম্প্রতি প্রয়াত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইন–সম্পর্কিত যেসব নতুন নথি প্রকাশ করেছে, তার মধ্যে বিল গেটসের নামও উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, বিল গেটস যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে সংক্রমিত কোনো রোগে আক্রান্ত হয়েছেন, তবে বিল গেটস এই অভিযোগকে ‘একেবারে অমূলক’ বলে উল্লেখ করেছেন।
বিল গেটসের এক মুখপাত্র বলেন, এ অভিযোগ পুরোপুরি ‘অমূলক ও মিথ্যা।’
মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটসের মন্তব্যের বিষয়ে জানতে বিল গেটসের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল বিবিসি।
অবশ্য, এপস্টেইনের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তোলা নারীদের কেউই বিল গেটসের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়মের অভিযোগ করেননি। নথিতে বিল গেটসের নাম থাকার মানেই যে তাঁর অপরাধে জড়িত থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে, এমন নয়।
এনপিআরের ওয়াইল্ড কার্ড পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেলিন্ডা গেটস বলেন, ‘এসব বিষয় সামনে এলে তা ব্যক্তিগতভাবে আমার জন্য খুব কঠিন হয়ে যায়, তাই না? কারণ, এতে আমার বিবাহিত জীবনের খুব, খুব কষ্টদায়ক কিছু সময়ের কথা আবার মনে পড়ে যায়।’
মেলিন্ডা আরও বলেন, ‘যেসব প্রশ্ন এখনো থেকে গেছে, তার সবকিছু জানা আমার পক্ষে সম্ভবও নয়। সেই প্রশ্নগুলোর জবাব তাঁদেরই দিতে হবে, এমনকি আমার সাবেক স্বামীকেও। এসবের উত্তর দেওয়ার দায়িত্ব তাঁদেরই, আমার নয়।’
যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচ্ছেদের আগে এপস্টেইনের সঙ্গে স্বামীর যোগাযোগ থাকা নিয়ে মেলিন্ডা গেটস অস্বস্তিতে ছিলেন। তাঁদের বিচ্ছেদের ঘোষণা আসার পর বিল গেটস ২০১৯ সালে মাইক্রোসফটের এক কর্মীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক থাকার কথা স্বীকার করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ গত সপ্তাহে এপস্টেইন–সংক্রান্ত ৩০ লাখের বেশি নথি প্রকাশ করেছে। বিল গেটসকে ঘিরে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো ওই সব নথির অন্তর্ভুক্ত।
এর মধ্যে ২০১৩ সালের ১৮ জুলাইয়ের দুটি ই–মেইলও আছে, যেগুলো এপস্টেইন খসড়াভাবে লিখেছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সেগুলো আদৌ বিল গেটসের কাছে পাঠানো হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ই–মেইল দুটি এপস্টেইনের ই–মেইল অ্যাকাউন্ট থেকেই সেন্ট হয়ে আবার তা একই অ্যাকাউন্টে ফিরে এসেছে। এতে বিল গেটসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ই–মেইল ঠিকানা দেখা যায়নি। ই–মেইল দুটিতে কোনো স্বাক্ষরও নেই।
ই–মেইল দুটির একটি দাতব্য সংস্থা বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন থেকে পদত্যাগপত্রের মতো করে লেখা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, রুশ নারীদের সঙ্গে যৌনসম্পর্কের পর বিল গেটস যে সমস্যার মধ্যে পড়েছিলেন, তা সামাল দিতে তাঁকে ওষুধ সংগ্রহ করতে হয়েছে।
অন্য ই–মেইলটি শুরু হয়েছে ‘প্রিয় বিল’ সম্বোধনে। এতে বিল গেটস বন্ধুত্বের ইতি টানায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে আরও দাবি করা হয়েছে, বিল গেটস যৌনবাহিত সংক্রমণ আড়াল করার চেষ্টা করেছিলেন। এমনকি সে বিষয়টি তৎকালীন স্ত্রী মেলিন্ডার কাছ থেকেও গোপন রাখতে চেয়েছিলেন।
এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগটি বিল গেটস ও তাঁর প্রতিনিধিরা বরাবরই নাকচ করে আসছেন। গেটস আগে বলেছিলেন, একটি দাতব্য প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করতে দুজন একসঙ্গে শুধু কয়েকটি নৈশভোজ করেছিলেন, তবে প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।
সর্বশেষ অভিযোগের পর বিল গেটসের এক মুখপাত্র বলেন, এসব নথি থেকে যা বোঝা যায়, তা হলো গেটসের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক না থাকায় এপস্টেনের হতাশা এবং কাউকে ফাঁসানো ও বদনাম করতে সে কত দূর যেতে পারত।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টেইন–সংক্রান্ত যেসব নথি, ই–মেইল ও ছবি প্রকাশ করেছে, সেগুলোর অনেকটিই কুখ্যাত এ যৌন নিপীড়কের বিস্তৃত যোগাযোগ নেটওয়ার্কের চিত্র উঠে এসেছে। এতে বড় বড় তারকা, ব্যবসায়ী ও বিশ্বনেতাদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের তথ্য রয়েছে।
২০০৮ সালে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে যৌনবৃত্তিতে প্রলুব্ধ করার দায়ে এপস্টেইন দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও প্রভাবশালী মানুষদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বজায় ছিল।
যৌনকর্মের উদ্দেশ্যে পাচারসংক্রান্ত অন্য একটি মামলায় বিচার চলাকালে ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে মারা যান এপস্টেইন।