চলতি বছরের শেষে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন সি চিন পিং: ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সি চিন পিংফাইল ছবি: রয়টার্স

 বিশ্বের শীর্ষ দুই অর্থনীতির মধ্যে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধ ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই নতুন বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এ বছরের শেষ নাগাদ চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাবেন। হোয়াইট হাউসে তাঁদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

গত বুধবার এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন। সাক্ষাৎকারের কিছু অংশ গতকাল রোববার প্রচারিত হয়। ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ, তিনি (সি চিন পিং) বছরের শেষ নাগাদ হোয়াইট হাউসে আসছেন। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দুটি দেশের হিসেবে আমাদের সম্পর্ক বর্তমানে অত্যন্ত চমৎকার।’

২০২৬ সালের এপ্রিলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। সেই সফরের কয়েক মাস পরেই সি চিন পিং ফিরতি সফরে যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত বুধবার দুই নেতার মধ্যে এক দীর্ঘ ফোনালাপ হয়। সেখানে বাণিজ্য সংঘাত ছাড়াও তাইওয়ান ইস্যু, ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ এবং ইরান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ফোনালাপ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের মধ্যে চমৎকার আলোচনা হয়েছে। আমরা দুজনেই বুঝি, এই সুসম্পর্ক বজায় রাখা কতটা জরুরি।’

এদিকে চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি জানায়, আলাপে সি চিন পিং তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে ট্রাম্পকে ‘সতর্ক’ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে দ্বিপাক্ষীয় বাণিজ্য সমস্যাগুলো বন্ধুত্বপূর্ণ উপায়ে সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করে শি বলেছেন, ‘ধাপে ধাপে পারস্পরিক আস্থা তৈরির মাধ্যমে দুই দেশ একত্রে চলার সঠিক পথ খুঁজে পাবে।’

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই চীনা পণ্যের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ করে আসছেন ট্রাম্প। বিশেষ করে ইস্পাত ও অটোমোবাইল খাতে তাঁর কঠোর শুল্ক নীতি বেইজিংয়ের সঙ্গে ওয়াশিংটনের উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

অন্যদিকে, পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে বেইজিং আপাতত এই নিরস্ত্রীকরণ আলোচনায় যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।