অ্যালাবামার গর্ভপাত আইন বাংলাদেশের অনুরূপ!
সম্প্রতি আমেরিকার অ্যালাবামা, জর্জিয়া ও মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে নারীরা গর্ভপাত আইন নিয়ে জোর প্রতিবাদে নেমেছেন। এ তিন অঙ্গরাজ্যে গর্ভপাত নিষিদ্ধ করে আইন করা হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে তিনটি অঙ্গরাজ্যেই নারীরা আন্দোলনে নামেন। তাঁদের ভাষ্য, এ আইন পাসের মাধ্যমে আমেরিকার মতো উন্নত দেশ তৃতীয় বিশ্বের দেশকে অনুসরণ করছে। তৃতীয় বিশ্বের দেশ হিসেবে এমনকি বাংলাদেশের উদাহরণও এ প্রেক্ষাপটে সামনে চলে এসেছে।
সম্প্রতি আমেরিকাজুড়েই গর্ভপাত বন্ধে আইন পাস হয়েছে। সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন ও প্ল্যানড প্যারেন্টহুড অ্যালাবামা এরই মধ্যে এ আইনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।
অ্যালাবামার গর্ভপাত আইনের সব থেকে খারাপ দিক হলো এটি বিশেষ করে ১৪ বছরের বা তারও কম বয়সে ধর্ষণের শিকার কোনো মেয়েকেও গর্ভপাতে অধিকার দেয় না। অ্যালাবামা আইন অনুযায়ী, গর্ভপাতের অপরাধ ফেলানি দণ্ডবিধির আওতাভুক্ত। স্থানীয় মহিলা পরিষদের মতে, ধর্ষণের শিকার হওয়া একজনকে গর্ভপাত করতে না দেওয়া ধর্ষণে সহায়তা করার মতোই একটি বিষয়।
অ্যালাবামা উইমেন্স গ্রুপ অ্যালাবামার গর্ভপাত আইনটিকে বাংলাদেশের অনুরূপ বলে মনে করছেন। তাঁরা বলছেন, গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে একটি তৃতীয় বিশ্বের কোনো দেশকে আমেরিকানদের জন্য মডেল করা হচ্ছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে আইনটি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে, যাকে এ সময়ের সবচেয়ে ভয়ংকর আইন প্রস্তাব বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, শুধুমাত্র মায়ের জীবন রক্ষায় গর্ভপাতের অনুমতি দেওয়া যায়। এ ছাড়া যেকোনো ধরনের গর্ভপাতের ক্ষেত্রে তিন থেকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে। এমনকি ধর্ষিতার জন্যও গর্ভপাত আইন কোনো সুরক্ষা দেয় না। বাংলাদেশ ও অ্যালাবামার আইনের মধ্যে একমাত্র পার্থক্য হলো বাংলাদেশে গর্ভবতী নারীর আনা অভিযোগে গর্ভপাত করা যেতে পারে, কিন্তু অ্যালাবামায় এটিও সম্ভব নয়।
বাংলাদেশে বিদ্যমান আইনটি নারীর অধিকারবিরোধী। বিশেষ করে বর্তমানে দেশে ধর্ষণের হার যে পর্যায়ে রয়েছে, তাতে এ ধরনের আইন প্রকারান্তরের ভুক্তভোগীকেই আরও সংকটে ফেলছে। এ বিষয়ে অ্যালাবামার স্থানীয় সংবাদপত্রে বলা হয়েছে, আইনি জটিলতার কারণে ধর্ষকদের জন্য বাংলাদেশ একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে। মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সমাজের সব স্তরে ধর্ষণ এখন মহামারি রূপ নিয়েছে। পুরো জাতি এ ভয়াবহতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে এসব প্রতিবেদনে।
আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন ও প্ল্যানড প্যারেন্টহুড ১৮ মে অ্যালাবামার গর্ভপাত সম্পর্কিত আইন চ্যালেঞ্জ করে একটি মামলা করে। ‘হিউম্যান লাইফ প্রোটেকশন অ্যাক্ট’ নামের আইনটিতে ‘গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রতিরোধে’ গর্ভপাতের প্রয়োজনীয়তা ব্যতীত সব ধরনের গর্ভপাত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ গর্ভপাত আইনে সহায়তাকারী চিকিৎসকদের জন্য ৯৯ বছর পর্যন্ত জেলের বিধান রাখা হয়েছে। গর্ভপাতকে একটি ফেলানি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার কথাও বলা হয়েছে আইনে।
লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি বোর্ড অব সুপারভাইজাররা এরই মধ্যে বিতর্কিত এ আইন বন্ধে ভোট দিয়েছেন। নিউজার্সি গভর্নরও এ আইনের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছেন।