আরকানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈশাখী মেলা

প্রতি বছরের মতো এবারও আমেরিকার আরকানসাস অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪২৫ উদ্যাপিত হয়েছে। পুরোনো জরা-জীর্ণকে বিদায় জানিয়ে শুভ, সুন্দর ও মঙ্গলকে বরণ করার আকাঙ্ক্ষা ও সম্ভাবনায় ১৫ এপ্রিল আরকানসাসের বাঙালিরা মেতে ওঠেন আনন্দ উদ্যাপনে।
১৫ এপ্রিল আরাকানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের লিটল রক মিলনায়তনে বৈশাখী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বর্ণিল সজ্জায় সাজানো হয় পুরো মিলনায়তন। ওই দিন দুপুর থেকেই বাঙালির ঐতিহ্যবাহী পোশাক লাল-সাদা শাড়ি আর পাঞ্জাবিতে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় মিলনায়তন রঙিন হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠান শুরু হয় স্থানীয় সময় বেলা ১২টায়। আসলাম হাবিব চৌধুরীর সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এই পর্বের অন্যতম আকর্ষণ ছিল নিউইয়র্ক শহর থেকে আগত জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী রায়ান তাজ ও প্রমিতা খানের গান। শুরুতে সমবেত কণ্ঠে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা’ পরিবেশন করেন মিতু, আলি, আলম, কাকন, সোহেল, লাভলী, গোলাপ ও বনশ্রী। এ সময় সবাই দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের প্রতি সম্মান জানান। স্থানীয় শিল্পী অনামিকা, লাভলী, রাহি কাকন, সোহেল, আলম, রুম্মান ও সুমিত দলীয় কণ্ঠে নিয়ে আসেন বর্ষবরণ সংগীত ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’।
অনুষ্ঠানে ছিল একক সংগত পরিবেশনা। এই পর্বে অনামিকা নিয়ে আসে শচীন দেব বর্মণের ‘কে ওই যাস রে, ভাটির গাঙ বাইয়া’। ছিল কবিতা আবৃত্তি। কবিতা আবৃত্তি করেন তাহিয়া, আরিজ, রুম্মন, সুমিত ও বনশ্রী। আর নৃত্য পরিবেশন করেন পারমিতা, স্মরণ সামন্ত ও শ্রুতি ভালুরুপল্লী। ছিল আব্দুর রহমানের পরিবেশনায় পাপেট শো। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন হারুন, ফয়সাল ও বনশ্রী।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি মিলনায়তনের বাইরে বসে বৈশাখী মেলা। বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, খাবার, পোশাক সবকিছু মিলেই ছিল এই মেলা। মেলার ধরনটা বাংলাদেশি বৈশাখী মেলার মতোই খোলামেলা ছিল। রং-বেরঙের বাহারি শাড়ি, চুড়ি, দেশীয় পোশাক ও গয়নার বিপুল সমারোহ ছিল মেলায়। আরও ছিল পান্তা-ইলিশ, নানা পদের ভর্তা ও বাহারী দেশীয় খাবারের বিশাল আয়োজন।