করোনায় পারিবারিক সহিংসতা বেড়েছে
যুক্তরাষ্ট্রে চলমান করোনা মহামারির মধ্যে পারিবারিক সহিংসতা বেড়ে গেছে। সহিংসতার মাত্রা এমন পর্যায়ে যাচ্ছে যে, বিবাহ বিচ্ছেদের মতো ঘটনাও ঘটছে। স্বাস্থ্যসেবীরা মনে করছেন, করোনা মহামারির জের ধরেই এসব পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। তাই বিভিন্ন রাজ্যে মানসিক সেবা দেওয়ার জন্য বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
করোনাভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করায় যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালগুলোর অসহায়ত্ব ও প্রস্তুতির ঘাটতি ব্যাপকভাবে ফুটে উঠেছে। করোনাভাইরাসে সংক্রমিত ও মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় প্রথম থাকা যুক্তরাষ্ট্র একইসঙ্গে ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি মানসিক সমস্যার ক্রান্তিকালে দাঁড়িয়ে আছে। করোনাভাইরাস নিয়ে ভীতি থেকে সর্বত্রই বাড়ছে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা। করোনা আর লকডাউনের ফলে ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স বা পারিবারিক সহিংসতা, বন্দুক হামলা, বিষণ্নতা, আত্মহত্যা, দুর্যোগ পরবর্তী মানসিক সমস্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
হাসপাতালগুলোতে শয্যা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সংকট সবার চোখে আঙুল দিয়ে চিকিৎসা ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের দৈন্য দেখিয়ে দিয়েছে। করোনাভাইরাস শুরুর প্রথম দিকে সংক্রমিত রোগী নিয়ে হাসপাতালগুলো যখন হাবুডুবু খাচ্ছিল, তখনই বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি মানসিক সমস্যার মুখোমুখি।
ব্যাপক হারে টিকাদান ও সাবধানতা অবলম্বনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু করোনা মহামারির ফলে সামাজিক, অর্থনৈতিক ইত্যাদি ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী যে প্রভাব পড়েছে, তা হয়তো সহজেই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। করোনা মহামারির কারণে এখনো যুক্তরাষ্ট্রে লাখ লাখ মানুষ বেকার। নাগরিকদের সচ্ছল রাখতে সরকার বেকার ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দিলেও নথিপত্রহীন অভিবাসীসহ অনেকেই এ ধরনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আর্থিক সংকট কাটাতে অনেকে নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এতে চুরি-ডাকাতি ও সহিংস ঘটনা বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা মহামারির আগে চাকরি ও অন্যান্য কাজে দিনের বেশির ভাগ সময় বাইরে কেটে যেত। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর সঙ্গে সঙ্গে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। অনেক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম অনলাইনে চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে বাসায় অবস্থান করছেন।
সবাই একসঙ্গে দীর্ঘ সময় থাকার কারণে নানা বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি, মনোমালিন্য, পারস্পরিক বিবাদ হচ্ছে। এসব বিষয় শেষ পর্যন্ত পারিবারিক সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে।
নিউজার্সির বার্গেন কাউন্টিতে পারিবারিক সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের জন্য দা সেন্টার ফর হোপ অ্যান্ড সেফটি নামে একটি প্রতিষ্ঠান সহায়তা দিয়ে থাকে। করোনা মহামারি শুরুর পর পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়ে এই প্রতিষ্ঠানে সাহায্যের জন্য আবেদন প্রায় ৪৬ শতাংশ বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্তারা বলছেন, করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় তাদের কাছে সাহায্যের জন্য আবেদন বেড়েছে।
করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার ভয় ও কাছের অনেক মানুষের মৃত্যুর ফলে অনেকের মধ্যে ভয়ভীতি ও বিষণ্নতা বেড়েছে। করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে বন্দুক হামলা ও আত্মহত্যার ঘটনাও বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনজীবন আবার আগের অবস্থায় ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা হয়তো কষ্টসাধ্য হবে।