কাজ পেয়েও না করলে বেকারভাতা বন্ধ
মার্কিন নাগরিকদের কাজে ফেরাতে উদ্যোগ নিচ্ছে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট বাইডেন মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মজীবীদের মজুরি বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থান বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। বলেছেন, কর্মসংস্থান বাড়ালে সরকার তাদের বর্ধিত প্রণোদনা দেবে। আবার কর্মজীবীদের তিনি সতর্ক করে বলেছেন, গ্রহণযোগ্য কাজের সুযোগ পেয়েও সেটি গ্রহণ না করলে বেকারভাতা বন্ধ হয়ে যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রে এপ্রিল মাসে প্রত্যাশা অনুযায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি। এক মাসে মাত্র দুই লাখ ৬৬ হাজার নতুন কর্মসংস্থান যোগ হওয়াকে ভালো লক্ষণ হিসেবে দেখছেন না অনেক অর্থনীতিবিদ। ২০২০ সালের মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মহীন মানুষের সংখ্যা ছিল ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। করোনা মহামারির আকস্মিক হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি কার্যত অচল হয়ে পড়ে। ২০২০ সালের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্ব ১৪ দশমিক সাত শতাংশে পৌঁছায়। কর্মহীন অর্ধেক মানুষ এখনো কাজে ফিরতে পারেনি।
একের পর এক নাগরিক প্রণোদনার মাধ্যমে মার্কিন অর্থনীতিকে সচল রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নাগরিক প্রণোদনার মাধ্যমে বিপর্যয় থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে। সর্বশেষ, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ২০ জানুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণের পর উদার নাগরিক প্রণোদনা ঘোষণা করেন। এক বছর ধরে কর্মহীন মানুষের জন্য বেকার ভাতার মেয়াদ আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। প্রণোদনায় নিয়মিত বেকার ভাতার সঙ্গে কর্মজীবীদের সপ্তাহে ৩০০ ডলার করে দেওয়া হচ্ছে।
সমালোচকেরা বলছেন, বেকার ব্যক্তিদের সপ্তাহে ৩০০ ডলারের প্রণোদনা দেওয়ার ফলে লোকজন কর্মবিমুখ হয়ে উঠেছে। অনেকেই কাজকর্মে যেতে উৎসাহী নয় বা কাজকর্ম খোঁজার তাড়না বোধ করছে না। বহু কর্মজীবী ন্যূনতম মজুরিতে সপ্তাহে ৩০ থেকে ৪০ ঘণ্টা কাজ করে যা মজুরি পায়, ঘরে বসে বেকারভাতা হিসেবে তার চেয়ে বেশি অর্থ পাচ্ছে। ফলে, মানুষ কাজকর্মের প্রতি অনাগ্রহী হয়ে উঠেছে বলে সমালোচকেরা বলছেন।
১০ মে প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন, বেকার ব্যক্তিদের সপ্তাহে অতিরিক্ত ৩০০ ডলার করে দেওয়ার ফলে তারা কাজে অনীহ হয়ে উঠেছে—এমন প্রমাণ তাদের হাতে নেই। তিনি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে যেসব এলাকায় পরিস্থিতি বেশি নাজুক, সেসব এলাকায় বর্ধিত প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দেন। এবার কর্মজীবীদের সরাসরি নগদ প্রণোদনা না দিয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রণোদনা দেওয়া হবে। যেসব প্রতিষ্ঠান বেশি কর্মজীবীর কর্মসংস্থান করবে, তাদের জন্য প্রণোদনা বেশি দেওয়া হবে বলে প্রেসিডেন্ট বাইডেন ঘোষণা দিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট বাইডেনের ১ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলারের করোনা রিলিফের অর্থ থেকে রাজ্যপর্যায়ে এবং স্থানীয় পৌরসভাগুলোর জন্য এখন প্রণোদনা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। রেস্টুরেন্ট, পানশালাসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য প্রণোদনা বা সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে চাইল্ড কেয়ার প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনুদান দেওয়া হচ্ছে। কর্মজীবী নারীদের কাজে ফেরাতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
রাজ্য ও স্থানীয় সরকারগুলোকে দেওয়া নতুন প্রণোদনার অর্থের ব্যবহারে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি এলাকা বা নগরের সমস্যা আলাদা। স্থানীয় বিবেচনায় কর্মসংস্থান বৃদ্ধিসহ সংকটে পড়া ব্যবসা-বাণিজ্য বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে সাহায্যের ব্যাপারে স্থানীয় রাজ্য বা নগর সরকার অনেকটাই স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে বলে ট্রেজারি সেক্রেটারি জেনেথ ইয়েলেন বলেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয়ভাবে এখনো বেকারত্বের হার ৮ শতাংশের কাছাকাছি হলেও নগরকেন্দ্রের বাইরে কাজের জন্য কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না—এমনটিই বলছে অনেক প্রতিষ্ঠান। করোনার আগের মজুরিতে এখন অনেকেই আর কাজ করতে আগ্রহী নয়। বিভিন্ন উৎপাদন কারখানা ও প্রতিষ্ঠানে কাজে যোগ দিলেই বোনাস দেওয়া হচ্ছে। প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে কাজের লোক আবশ্যক বলে নোটিশ ঝোলানো রয়েছে। এরপরও বেকারত্ব দ্রুত না কমাকে সমস্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যেসব প্রতিষ্ঠান ফেডারেল অর্থ সহযোগিতা গ্রহণ করবে, তাঁরা কর্মজীবীদের উচ্চ মজুরিতে কাজে নিয়োগ দেবে বলে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন। তিনি বলেন, কর্মজীবীদের জন্য নিরাপদ কর্মক্ষেত্র নিশ্চিত করা ও ভ্যাকসিন গ্রহণে উৎসাহ দেওয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে এবং কাজের জন্য কর্মীর কোনো অভাব হবে না।