মার্কিন দূতাবাসগুলো প্রাইড ফ্ল্যাগ উত্তোলন করতে পারবে
দেশের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসগুলো স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনা করে ‘প্রাইড ফ্ল্যাগ’ বা গর্বের পতাকা উত্তোলন করতে পারবে। সমকামীদের অধিকারের প্রতীক প্রাইড ফ্ল্যাগের এমন উত্তোলনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়ে। সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও দূতাবাসগুলোতে কেবল যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা উত্তোলন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র বিষয়ক সংবাদ পোর্টাল ফরেনপলিসি ডটকম জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্ষমতা গ্রহণের পর নীতিমালার পরিবর্তন ঘটেছে। নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন এক বার্তায়, আগামী ১৭ মের মধ্যে দূতাবাসগুলো প্রাইড ফ্ল্যাগ উত্তোলন করতে পারবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন।
জুন মাস সারা বিশ্বে প্রাইড মান্থ বা গর্বের মাস হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে। এর আগেই এই পতাকা উত্তোলন করার কথা বলা হয়েছে।
১৯৬৯ সালের ২৮ জুন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক নগরে পুলিশ স্টোনওয়েল ইন নামের সমকামী ক্লাবে তল্লাশি চালালে সে সময় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। সমকামীদের অভয়ারণ্য হিসেবে খ্যাত নিউইয়র্ক নগরের ইস্ট ভিলেজ এলাকায় সপ্তাহব্যাপী সহিংস প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হয়েছিল। লিঙ্গ ভিন্নতার এ জনগোষ্ঠী তাই জুন মাসকে তাদের অধিকার আদায়ের মাস হিসেবে স্মরণ করে।
১ জুন থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত সারা বিশ্বে প্রাইড মান্থ বা গর্বের মাস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পশ্চিমের বড় বড় নগরে শোভাযাত্রা হয়।
ফরেনপলিসি ডটকম জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের দেওয়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাইরের দেশগুলোর মিশন প্রধানেরা স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনা করে এ পতাকা উত্তোলন করবেন। যেসব এলাকায় এমন পতাকা উত্তোলনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া হবে বা যেসব এলাকায় লিঙ্গ ভিন্নতার এসব জনগোষ্ঠীর প্রতি সমাজ এখনো সহনশীল নয়, সেসব এলাকায় রাষ্ট্রদূতেরা বিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন বলে জানানো হয়েছে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র বলেছেন, দেশের বাইরে দূতাবাসের প্রধান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরাসরি প্রতিনিধিত্ব করে থাকেন। যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও নীতিমালা অনুসরণ করে মিশন প্রধানেরা এ ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেবেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন আগেই সমকামী ও লিঙ্গ পরিচয়ে ভিন্ন জনগোষ্ঠীর অধিকারের প্রতি তাঁর সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেছেন, সারা বিশ্বে লিঙ্গ ভিন্নতার এসব লোকজন নিগ্রহের শিকার হচ্ছে। তাদের জীবন বিপন্ন করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র শুধু নিজের দেশেই নয় বাইরের দেশেও এসব জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।