যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা হস্তান্তরকে স্বাগত জানালেন বিশ্বনেতারা

জো বাইডেন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি: এএফপি

ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে চার বছর অশান্ত সময় পার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বুধবার নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন ডেমোক্র্যাট নেতা জো বাইডেন। যুক্তরাষ্ট্রে এ ক্ষমতা হস্তান্তরকে স্বাগত জানিয়েছেন একাধিক বিশ্বনেতা।

শিগগিরই হোয়াইট হাউসে নতুন বন্ধু পাওয়া যাবে বলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কর্মকর্তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট চার্লস মাইকেল বলেন, ‘একটি শক্তিশালী ইউরোপ, শক্তিশালী আমেরিকা এবং উন্নত বিশ্বের জন্য একটি নতুন প্রতিষ্ঠা চুক্তি তৈরি করা যাক।’

নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ প্রসঙ্গে ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেছেন, এটি আমেরিকান গণতন্ত্রের সহনশীলতার একটি প্রদর্শনী হবে। আবার দীর্ঘদিন পর হোয়াইট হাউসে ইউরোপের একজন বন্ধু থাকছে।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন
ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনও বাইডেনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার কথা বলেছেন। ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখার জন্য সমালোচনার মুখেও পড়েন জনসন। তবে তিনি বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী বিষয়ে বাইডেনের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার কথা বলেছেন।

সামরিক জোট ন্যাটোর পক্ষ থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা পরিবর্তনের বিষয়টিকে স্বাগত জানানো হচ্ছে।

ন্যাটো বলছে, বাইডেনের অধীনে ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্ক আরও বাড়ানোর আশা করছে এ জোট। মঙ্গলবার টুইটারে সামরিক জোটের প্রধান জেন্স স্টোলটেনবার্গ এ টুইট করেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিদায়কে স্বাগত জানাচ্ছে তেহরানও। ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি স্বেচ্ছাচারী ট্রাম্পের বিদায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ‘অত্যাচারী যুগের অবসান ঘটল এবং আজ তাঁর অশুভ রাজত্বের চূড়ান্ত দিন।’

হাসান রুহানি
ছবি : রয়টার্স

বাইডেন প্রশাসনের কাছে হাসান রুহানি আইনের শাসন ও প্রতিশ্রুতি রক্ষার প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছায় যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর গত বছর এই চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ায় যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের পক্ষ থেকে বারবার অবরোধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সাবেক সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচেভ রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আন্তরিকতাশূন্য সম্পর্কের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

মিখাইল গর্বাচেভ
ছবি: এএফপি

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গর্বাচেভ বলেছেন, ‘রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা উদ্বেগের। সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে কিছু একটা করতে হবে। আমরা পরস্পরের বিরুদ্ধে দেয়াল তুলে দিতে পারি না।’

সূত্র: এএফপি