রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা

সেরগেই স্ক্রিপাল। রয়টার্স ফাইল ছবি
সেরগেই স্ক্রিপাল। রয়টার্স ফাইল ছবি

রুশ গোয়েন্দা সেরগেই স্ক্রিপাল ও তাঁর মেয়ের ওপর বিষাক্ত রাসায়নিক গ্যাস প্রয়োগের ঘটনায় রাশিয়ার সম্পৃক্ততা ছিল—এমনটা নির্ণয় হওয়ায় দেশটির ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

নতুন এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে রাশিয়ার সংবেদনশীল ইলেকট্রনিক উপাদান ও এ-সংক্রান্ত প্রযুক্তি রপ্তানির ওপর। ২২ আগস্ট বা এর কাছাকাছি সময়ের মধ্যে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।

গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর নিশ্চিত করেছে, এই ঘটনায় রাশিয়ার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে দেশটি।

মার্কিন মুখপাত্র স্টুয়ার্ট নাওয়ের্ট বলেন, রাসায়নিক বা জৈবিক অস্ত্র ব্যবহারের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে রাশিয়া এই কাজ করেছে বলে নির্ণয় করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়া তার নিজের নাগরিকদের বিরুদ্ধেই এই মারাত্মক রাসায়নিক বা জৈবিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে।

এদিকে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, সলসবারির রাস্তায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া রাশিয়াকে একটি সুস্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে। তারা বুঝতে পারছে যে তাদের উত্তেজনা সৃষ্টিকারী ও বেপরোয়া আচরণ বিশ্বের কাছে পার পাবে না।

পররাষ্ট্র দপ্তর ওই বিবৃতিতে আরও জানায়, আগামী ৯০ দিনের মধ্যে রাশিয়া যদি এই ধরনের কাজ আর করা হবে না—এমন নিশ্চয়তা না দিতে পারে এবং জাতিসংঘকে তাদের সাইট পরিদর্শন করতে না দেয়, তাহলে আরও কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

গত ৪ মার্চ যুক্তরাজ্যের সলসবারি শহরের একটি বিপণিকেন্দ্রে বাইরে বেঞ্চিতে সেরগেই স্ক্রিপাল (৬৬) ও তাঁর মেয়ে ইউলিয়া স্ক্রিপালকে (৩৩) অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। পরে জানা যায়, তাঁদের দুজনের ওপর নার্ভ এজেন্ট (বিষাক্ত রাসায়নিক গ্যাস) প্রয়োগ করা হয়েছিল। যুক্তরাজ্য শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, রাশিয়ার গুপ্তচরেরাই স্ক্রিপাল ও তাঁর মেয়ের ওপর ওই গ্যাস প্রয়োগ করেছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মেও দাবি করেন, তাঁর দেশ পরীক্ষা করে প্রমাণ পেয়েছে, এই নার্ভ এজেন্ট রাশিয়ার তৈরি। যার নাম ‘নভিচক’। তবে এ বিষয়ে নিজেদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করে আসছে ক্রেমলিন। এ নিয়ে যুক্তরাজ্য ও রাশিয়ার মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন চরমে পৌঁছেছে।

থেরেসা মে ৪ মার্চের ওই ঘটনাকে যুক্তরাজ্যের ভূখণ্ডে রাশিয়ার বেআইনিভাবে শক্তি প্রয়োগ বলে উল্লেখ করেন। তিনি রাশিয়ার কাছ থেকে এ বিষয়ে সরাসরি ব্যাখ্যা চান। কিন্তু রাশিয়া এর ব্যাখ্যা না দিলে ২৩ রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কারের ঘোষণা দেন। পরে রাশিয়াও যুক্তরাজ্যের ২৩ কূটনীতিককে বহিষ্কার করে।

ওই হামলার পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন সেরগেই স্ক্রিপাল ও তাঁর মেয়ে ইউলিয়া স্ক্রিপাল। হাসপাতালের বেশ কয়েক সপ্তাহ চিকিৎসা নেওয়ার পর সুস্থ হন তাঁরা।

সেরগেই স্ক্রিপাল একসময় রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার কর্নেল ছিলেন। ২০০৬ সালে তাঁর বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ ওঠে। রাশিয়ায় তাঁর ১৩ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল। এরপর ২০১০ সালে ১০ জন মার্কিন গুপ্তচরের বিনিময়ে স্ক্রিপাল রাশিয়ার হাত থেকে ছাড়া পান। ওই বছরই স্ক্রিপাল যুক্তরাজ্যে আশ্রয় নেন।

এর আগেও রাশিয়া এমন কাজ করেছে বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র। আগের ঘটনাগুলো ছিল সিরিয়া ও উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের সৎভাই কিম জং-নামকে উচ্চমাত্রায় বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান (ভিএক্স নার্ভ এজেন্ট) দিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় রাশিয়া জড়িত বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র।