মন জয় করে মেরলিনের বিশ্ব রেকর্ড

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারকা বনে যাওয়া শূকর মেরলিনছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে নেওয়া

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারকা হওয়ার জন্য কতজন কত কী-ই না করেন। কিন্তু ক্যালিফোর্নিয়ার একটি শূকর স্রেফ নিজের বুদ্ধিমত্তা দিয়েই জয় করে নিয়েছে লাখ লাখ মানুষের মন। শুধু মন জয় নয়, রীতিমতো গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নিজের নাম লিখিয়ে ফেলেছে।

ইনস্টাগ্রামে মেরলিন নামের চার বছর বয়সী এই শূকরটির অনুসারী গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ১১ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্য দিয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি অনুসারী থাকা শূকর হিসেবে স্বীকৃতি পায় সে। মেরলিনের এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে রয়েছে তার মালিক মিনা আলালির অক্লান্ত পরিশ্রম।

মেরলিনের এই তারকা হয়ে ওঠার গল্পটা শুরু হয় ২০২২ সালের মার্চে। তখন তার বয়স ছিল মাত্র তিন মাস। মালিক মিনা আলালি তাকে দত্তক নেওয়ার পর থেকেই শুরু করেন বিশেষ প্রশিক্ষণ। সেই প্রশিক্ষণের ফল এখন হাতেনাতে মিলছে।

ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, মেরলিন মোটেই সাধারণ কোনো শূকর নয়। ভিডিওগুলো দেখলে যে কেউ অবাক হতে বাধ্য। দেখে তাকে বেশ বুদ্ধিমানই মনে হয়।

ঘরের ভেতরে সাজানো ৩০টির বেশি বিশেষ ‘বোতাম’ সে অনায়াসেই ব্যবহার করতে পারে। খিদে পেলে বা বাইরে ঘুরতে যেতে চাইলে নির্দিষ্ট বোতাম চেপে সে নিজের মনের ভাব প্রকাশ করে। সেই বোতাম থেকে আগে থেকেই রেকর্ড করা মানুষের কণ্ঠস্বরে ভেসে আসে তার চাহিদার কথা।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ বলেছে, সাধারণ কোনো শূকরের এমন জনপ্রিয়তা আগে কখনো দেখা যায়নি। মেরলিনের এই বুদ্ধিমত্তা ও মানুষের মতো আচরণ ইন্টারনেটে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, ধৈর্য আর ভালোবাসা দিলে পশুপাখিরাও যে কতটা বুদ্ধিমান হয়ে উঠতে পারে—মেরলিন তার জলজ্যান্ত প্রমাণ।

সাধারণত শূকরকে অলস বা অপরিচ্ছন্ন ভাবা হলেও মেরলিনের এই জীবনযাপন সেই ধারণা বদলে দিচ্ছে। নেটিজেনদের কাছে মেরলিন এখন কেবল একটি প্রাণী নয়, বরং এক বিস্ময়।