পরাশক্তির ভারসাম্য কি বদলে দিচ্ছে চীনের নেতার যুক্তরাষ্ট্র সফর
ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে স্বাগত জানাবেন সি চিন পিংকে। চীনের প্রেসিডেন্টের এই সফরকে যুক্তরাষ্ট্র কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে—এতেই পরিষ্কার হয়। ২০১৬ সালে সর্বশেষ ওয়াশিংটন সফরে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সাক্ষাৎ পেতে সিকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল।
চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সফর ঘিরে ‘ব্যতিক্রমী’ প্রস্তুতি নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী বৃহস্পতিবার সিকে স্বাগত জানাতে ট্রাম্প নিজেই জয়েন্ট বেজ অ্যান্ড্রুজ ঘাঁটিতে যাবেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টদের সাধারণত কাউকে এভাবে স্বাগত জানাতে দেখা যায় না।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, চীনের প্রেসিডেন্টকে ট্রাম্পের ব্যক্তিগতভাবে স্বাগত জানানোর সিদ্ধান্তে বোঝা যায়, তিনি চীনা প্রেসিডেন্টের এই সফরকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন। এক দশকে বিশ্বমঞ্চে চীনের অবস্থানে যে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে, সিকে স্বাগত জানানোর জন্য ট্রাম্পের প্রস্তুতিতে তা স্পষ্ট। ২০১৬ সালে সর্বশেষ ওয়াশিংটন সফরে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সাক্ষাৎ পেতে সিকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল।
হোয়াইট হাউসে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ও সির মধ্যে বৈঠক হবে। এতে বড় বিষয় হয়ে উঠতে পারে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র চলমান যুদ্ধ। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যে চীনের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার দেশ হলো ইরান। তবে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র–চীন বিরোধপূর্ণ বাণিজ্য সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।
সব দিক বিবেচনা করলে বর্তমানে চীনই যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। ইরান ইস্যুতে বেইজিং অসন্তুষ্ট হতে পারে, এমন পদক্ষেপ নিতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনাগ্রহী বলেই মনে হচ্ছে।স্যাম গুডম্যান, চায়না স্ট্র্যাটেজিক রিস্কস ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ পরিচালক
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের যুক্তরাষ্ট্র ও চীনবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলি ওয়াইন বলেন, ইরানের প্রতি চীনের সমর্থনের বিষয়টি ট্রাম্প বারবার খাটো করে দেখিয়েছেন। চীনের বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমন ইঙ্গিতও কখনোই ওয়াশিংটন দেয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চীন সুবিধাজনক অবস্থানেই রয়েছে। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির চাপ ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় প্রভাব ফেলছে। ফলে সি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বড় ধরনের কোনো ছাড় দিতে তাড়াহুড়া করবেন না।
চায়না স্ট্র্যাটেজিক রিস্কস ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ পরিচালক স্যাম গুডম্যান বলেন, সব দিক বিবেচনা করলে বর্তমানে চীনই যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। ইরান ইস্যুতে বেইজিং অসন্তুষ্ট হতে পারে, এমন পদক্ষেপ নিতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনাগ্রহী বলেই মনে হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র এখন কোনোভাবেই চীনের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করতে চায় না বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, ট্রাম্প এখন সির সঙ্গে সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখতে চাইছেন। কেননা, চীনের সঙ্গে তাদের স্থিতিশীল সম্পর্ক প্রয়োজন। একই স্থিতিশীলতা চীনের জন্যও সুবিধাজনক।
আলি ওয়াইনের মতে, বৈশ্বিকভাবে কূটনৈতিক প্রভাব বাড়িয়ে চীন আরও শক্তিশালী হয়েছে। অন্যদিকে দীর্ঘদিনের মিত্র ও অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক শিথিল করে যুক্তরাষ্ট্র এখন আর আগের মতো প্রভাবশালী অবস্থানে নেই। তাই ২০১৬ সালের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র–চীন সম্পর্কের ভারসাম্যও বদলেছে। এবার সি এমন এক দেশের নেতা হিসেবে ওয়াশিংটন যাচ্ছেন, যেটাকে ট্রাম্প প্রায় সমকক্ষ শক্তি হিসেবে স্বীকার করেন।