ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর কাউন্টার টেররিজমের (আইসিসিটি) মতে, সামরিক বাহিনীতে কাজ করার সুবাদে মিসরীয় বংশোদ্ভূত এই কমান্ডোর অভিযানসংক্রান্ত পরিকল্পনার ব্যাপক অভিজ্ঞতা রয়েছে। জাওয়াহিরিকে হত্যার কয়েক সপ্তাহ আগে তাঁর সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সাইফের নাম বলেছিল সংস্থাটি।

মুহাম্মদ ইব্রাহিম মক্কি ও ইব্রাহিম আল-মাদানি নামেও পরিচিত সাইফ আল-আদেল। তিনি শেষ পর্যন্ত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটির ‘মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন বলে আইসিসিটির বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

সন্ত্রাসবাদ বিশেষজ্ঞ ট্রিসিয়া বেকন ও এলিজাবেথ গ্রিম গত ১৫ জুলাই লেখেন, ‘সাইফ আল-আদেল ঐতিহাসিকভাবে তাঁর সামরিক ও গোয়েন্দা ভূমিকা আড়ালে রাখতে পছন্দ করেন। ফলে আমির হলে ভবিষ্যতে তাঁকে নামমাত্র প্রধানের ভূমিকায় দেখা যেতে পারে, যদিও সেই সম্ভাবনা কম।’

আইসিসিটির জ্যেষ্ঠ ফেলো এবং সংস্থাটির সিরিয়া ও সন্ত্রাসবাদ-উগ্রবাদ কর্মসূচির পরিচালক চার্লস লিস্টারের মতে, সাইফ আল-আদেল ইরানে অবস্থান করছেন বলে মনে করা হচ্ছে যা সব হিসাব-নিকাশে গোল পাকিয়েছে।

লিস্টার লেখেন, ‘গত এক দশকে আল-কায়েদার অন্তত তিনটি সহযোগী সংগঠন ইরানে অবস্থানের কারণে সাইফ আল-আদেলের কাছ থেকে আসা নির্দেশনার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বলে জানা যায়। তাই তিনি যদি আল-কায়েদার জেনারেল কমান্ডার হন, তাহলে সহযোগী সংগঠনগুলো তাদের নিজেদের সাংগঠনিক স্বাধীনতার ওপর জোর দিতে শুরু করবে। তারা ইতিমধ্যে যা করেছে, সেটা তার চেয়েও বেশি হবে।’

লিস্টারের দাবি, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি যেহেতু বৈশ্বিক পর্যায়ে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে, ফলে সম্ভাব্য ভাঙন সংগঠনটির ‘মৃত্যুঘণ্টা বাজাবে’।

একজন জ্যেষ্ঠ সন্ত্রাসবাদ দমন বিশ্লেষক সিএনএনকে বলেন, যদি সাইফ আল-আদেলকে শেষ পর্যন্ত জাওয়াহিরির উত্তরসূরি হিসেবে বেছে নেওয়া হয়, তাহলে ইরানকেও তাঁকে বহিষ্কার করা কিংবা আশ্রয় দেওয়ার মধ্যে একটি বেছে নিতে হবে।
তবে আফগানি নেটওয়ার্কের এক সাবেক কর্মকর্তা বলেছেন, সাইফ আল-আদেল ইতিমধ্যে আফগানিস্তানের উদ্দেশে ইরান ছেড়েছেন এমনটা শুনেছেন বলে নেটওয়ার্ককে জানিয়েছেন।

default-image

সাইফ আল-আদেলকে আটকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করলে এক কোটি ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তানজানিয়া ও কেনিয়ায় ১৯৯৮ সালে মার্কিন দূতাবাসে হামলায় সম্পৃক্ততার জন্য তাঁকে আটকের চেষ্টা করা হচ্ছে।

একসঙ্গে চালানো ওই হামলার ঘটনায় ১২ মার্কিন নাগরিকসহ ২২৪ জন নিহত হন।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ সন্ত্রাসীর পোস্টারে বলা হয়, মিসরীয় ইসলামিক জিহাদের (ইআইজে) সঙ্গে সাইফ আল-আদেলের সম্পর্ক আছে বলে ধারণা করা হয়। তিনি আল-কায়েদার উচ্চপর্যায়ের সদস্য হতে পারেন বলেও মনে করা হয়।

কেউ কেউ অবশ্য মনে করছেন, জাওয়াহিরির জামাতা আবদ আল-রহমান আল-মাগরিবিকেও আল-কায়েদার নতুন নেতা হিসেবে দেখা যেতে পারে। বর্তমানে তিনি সন্ত্রাসী চক্রটির গণমাধ্যম কমিটির নেতৃত্বে আছেন।

আবার আল-কায়েদার নেতৃত্বের দৌড়ে সম্ভাব্য ‘ডার্ক-হর্স’ প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন মিসরীয় অপারেশনাল কমান্ডার আবু ইখলাস আল-মাসরি অথবা আমিন মুহাম্মদ উল হক সাম খান। আইসিসিটির মতে, এর আগে আমিন মুহাম্মদ বিন লাদেনের নিরাপত্তা সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন