ওমানে গাদ্দাফির পরিবার

মুয়াম্মার গাদ্দাফি ক্ষমতায় থাকাকালে তাঁরাই ছিলেন লিবিয়ার সর্বেসর্বা। কিন্তু গাদ্দাফির পতনের সঙ্গে সঙ্গে তাঁরাও হয়ে পড়েন নখদন্তহীন বাঘ। মাথায় অভিযোগের পাহাড় নিয়ে দেশে দেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন গাদ্দাফির পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনেরা। লিবিয়ার সাবেক স্বৈরশাসকের স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে এখন ওমানে আশ্রয় নিয়েছেন। এর আগে তাঁরা ছিলেন আলজেরিয়ায়।২০১১ সালের অক্টোবরে লিবিয়ার নিজ শহর সিরতে নিহত হন গাদ্দাফি। কিন্তু এর আগেই দেশ ছেড়ে পালান তাঁর স্ত্রী সাফিয়া গাদ্দাফি, দুই ছেলে হান্নিবল, মোহাম্মদ ও মেয়ে আয়শা। তাঁরা আলজেরিয়ায় আশ্রয় নেন। সেখান থেকে গত অক্টোবরে ওমানে পালিয়ে যান তাঁরা। লিবিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ আবদুল আজিজ বলেন, ওমান সরকার গাদ্দাফির পরিবারকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছে। বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত এসব ব্যক্তিকে লিবিয়ায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে কি না, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।লিবিয়ার কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, গাদ্দাফির পরিবারের সদস্যদের ফিরিয়ে আনা না গেলে তাঁরা গাদ্দাফির ৪০ বছরের শাসনামলে যে বিপুল অর্থকড়ির মালিক হয়েছেন, তা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে না। সব খরচ করে ফেলবেন। ওমানের একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেছেন, ‘গাদ্দাফির স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে গত বছরের অক্টোবর থেকে ওমানে আছেন। আমরা তাঁদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের অনুরোধ গ্রহণ করেছি।’গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে, গাদ্দাফির পরিবারের সদস্যদের আশ্রয়ের বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে বিবেচনা করতে চান না ওমানের সুলতান। তিনি সম্পূর্ণ মানবিক কারণে তাঁদের ওমানে আশ্রয় দিয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে।গাদ্দাফির উত্তরাধিকারী হিসেবে বিবেচিত তাঁর ছেলে সাইফ আল ইসলাম এক বছর আগে লিবিয়ার বিদ্রোহীদের হাতে ধরা পড়েন। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাঁর এখন বিচার চলছে। গাদ্দাফির আরেক ছেলে সাদি নাইজারে পালিয়ে গেছেন। এ ছাড়া অন্য আরও তিন ছেলে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন। টেলিগ্রাফ।