ভোট পুনর্গণনায় আদালতে যাওয়ার কথা বলল বিজেপিও

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিজেপির নেতা দিলীপ ভট্টাচার্য
ফাইল ছবি, প্রথম আলো

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন শেষে ফলাফলও হয়ে গেছে। সংবিধান মেনে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথও নিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে লড়াইয়ে হেরে যাওয়া কোনোভাবেই ভুলতে পারছেন না মমতা। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই ভোট পুনর্গণনায় আদালতে যাওয়ার ঘোষণা এসেছে। বসে নেই তৃণমূলের বিরোধী দল বিজেপিও। এবার তারাও বিভিন্ন আসনে ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলে আদালতে যাওয়ার কথা বলছে।

তবে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, মমতার ভোট পুনর্গণনার দাবিকে চাপে রাখতে বিজেপি বাড়তি এই চাপ সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ময়দান গরম করতে চাইছে। কিন্তু তাতে আখেরে বিজেপিরই ক্ষতি হবে। তৃণমূল যেখানে আছে সেখানেই থাকবে।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ গতকাল মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ৩৬টি আসনে ৫ হাজারের কম ভোটের ব্যবধানে হেরেছি। তাই আমরা ওই আসনগুলোতে ভোট পুনর্গণনার আবেদন জানাতে পারি। কারণ আমাদের কাছে এলাকার দলীয় নেতারা অভিযোগ করেছেন, ওই সব আসনের বিভিন্ন বুথে তৃণমূল আমাদের নির্বাচনী এজেন্টকে জোর করে তুলে দিয়েছিল। তাই আমরা নিয়ম অনুযায়ী আদালতে ভোট পুনর্গণনার আবেদন জানাতে পারি। তবু আমাদের বিভিন্ন জেলায় ভোট কমেছে কেন, তা নিয়ে দলীয় নেতারা পর্যালোচনা শুরু করেছেন।’

ভোট গণনার পরপরই গণনায় কারচুপির অভিযোগ তোলেন মমতা। কিন্তু সে অভিযোগ আমলে না নিয়ে নির্বাচন কমিশন শুভেন্দু অধিকারীকে বিজয়ী ঘোষণা করে। তৃণমূলের অভিযোগ, কারচুপি করে ভোট গণনায় জিতেছেন শুভেন্দু।

এবারের নির্বাচনে মমতা লড়েছিলেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রাম আসনে। সেখানে মমতা তারই মন্ত্রিসভার সাবেক সদস্য শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে লড়াই করে হেরে যান। শুভেন্দু অধিকারী নির্বাচনের আগে গত ডিসেম্বর মাসে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। বিজেপিতে যোগ দিয়ে শুভেন্দু নন্দীগ্রাম আসনে মমতাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন। নির্বাচনে মমতা ও শুভেন্দুর লড়াইয়ে মমতা হেরে যান। এই পরাজয় মেনে নিতে পারেননি মমতা।

এবারের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের ২৯৪ আসনের মধ্যে তৃণমূল জেতে ২১৩টি আসনে। বিজেপি জেতে ৭৭টি আসনে। আর বাকি দুটির মধ্যে একটি আসনে জেতেন সংযুক্ত মোর্চার আইএসএফ প্রার্থী আর অন্যটিতে জেতেন কালিম্পংয়ের এক স্বতন্ত্র প্রার্থী। এবার ২৯৪ আসনের মধ্যে ২৯২টি আসনে ভোট হয়। বাকি দুটি আসনের প্রার্থীরা নির্বাচনের সময় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

প্রসঙ্গত, নিজ আসনে পরাজিত হয়েও মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন মমতা। সংবিধান অনুযায়ী মমতাকে শপথ গ্রহণের ৬ মাসের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার যেকোনো একটি আসন থেকে জিতে এসে বসতে হবে বিধানসভায়।