মহামারির ইতিহাস আগের ধারণার চেয়েও পুরোনো

নভেল করোনাভাইরাস মহামারি মানুষের জীবনব্যবস্থা ও পুরো অর্থনৈতিক কাঠামো বদলে দিয়েছে। তবে এই রকম মহামারি এটাই প্রথম নয়। ইতিহাসবিদেরা বলেছেন, প্রাচীনকালেও এই রকম মহামারির আঘাতে প্রাণ হারায় কোটি মানুষ। তবে মহামারির ইতিহাস আগের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি পুরোনো। প্রাচীনকালের মানুষের দাঁতের ডিএনএ পরীক্ষা ও গবেষণার পর এমন তথ্যই পেয়েছেন বিজ্ঞানী ও গবেষকেরা।
ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আগের সব লেখালেখিতে বলা হয়েছিল, ৫৪১ খ্রিষ্টাব্দে মানবসমাজে ক্ষুদ্র সংক্রামক জীবাণু আঘাত হানে। ‘প্লেগ অব জাস্টিনিয়ান’ নামের ওই মহামারিতে মারা যায় ৫ কোটির বেশি মানুষ। এরও আগে ১৬৫ খ্রিষ্টাব্দে ‘অ্যাটোনিন প্লেগ’ মহামারিতে মারা যায় ৫০ লাখের মতো মানুষ। এসব মহামারিকেই আগে প্রাচীন মহামারি মনে করা হতো। কিন্তু এখন মহামারির উৎপত্তিবিষয়ক গবেষণা নতুন করে লেখা হচ্ছে। যেখানে বলা হচ্ছে, প্রথম মহামারির ইতিহাসের আগের ধারণার চেয়ে হাজার হাজার বছর পুরোনো।
জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটের অণুজীববিজ্ঞানী মারিয়া স্পাইরো বলেন, মহামারির বিষয়ে ঐতিহাসিক তথ্যপ্রমাণের অভাব রয়েছে। তবে ডিএনএ সেই অভাবকে ব্যাপকভাবে পূরণ করতে পারে। এর মাধ্যমে নির্ণয় করা যেতে পারে মহামারির প্রকৃত সময়কাল। তিনি আরও বলেন, ‘২০১৫ সালের আগ পর্যন্ত মনে করতাম, প্লেগ মহামারি ৩ হাজার বছরের পুরোনো রোগ।’
কিন্তু এখন বিজ্ঞানী ও প্রত্নতত্ত্ববিদেরা মনে করেন, প্রস্তরযুগে (সময়কাল ৮৭০০–২০০০ খ্রিষ্টপূর্ব) এখন থেকে প্রায় ৫ হাজার বছর আগে প্লেগ ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রমিত হয় মানুষ। প্রস্তরযুগের ওই সময়কার মানুষের দাঁতের ডিএনএ পরীক্ষা ও বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পান বিজ্ঞানীরা। প্লেগ ব্যাকেটেরিয়ায় সৃষ্ট ‘ব্ল্যাক ডেথ’ মহামারির (১৩৪৬–১৩৫৩ খ্রিষ্টাব্দ) কারণে ইউরোপের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি মানুষ মারা যায়।