ময়নাতদন্তের জন্য মেয়ের লাশ কাঁধে ৭ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিলেন বাবা

ভারতের মধ্যপ্রদেশে পুলিশের নির্দেশে ময়নাতদন্তের জন্য মেয়ের লাশ চৌকিতে বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে।
ছবি: সংগৃহীত।

আত্মহত্যা করেছে মেয়ে। পুলিশ বাড়িতে এসে বলেছে, লাশের ময়নাতদন্ত করতে হবে। কিন্তু হাসপাতালে লাশ নেওয়ার ব্যবস্থা করেনি। গরিব বাবার পকেটেও গাড়ি ভাড়া করার টাকা নেই। নিরুপায় বাবা বাধ্য হয়ে চৌকিতে বেঁধে সাত ঘণ্টা হেঁটে মেয়ের লাশ নিয়ে হাজির হলেন হাসপাতালে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

ঘটনাটি ভারতের মধ্যপ্রদেশের প্রত্যন্ত গ্রাম গাদাইয়ে। রোববার ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫ মে আত্মহত্যা করে ওই গ্রামের ১৬ বছর বয়সী একটি মেয়ে। এরপর পুলিশ গ্রামে গিয়ে বলে আসে, লাশের ময়নাতদন্ত করতে হবে। এ জন্য লাশ নিয়ে যেতে হবে হাসপাতালে। প্রত্যন্ত ওই গ্রাম থেকে হাসপাতাল ৩৫ কিলোমিটার দূরে।

লাশ হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলেই খালাস পুলিশ। দরিদ্র বাবা ধীরাপতি সিং অগত্যা গ্রামবাসীর সঙ্গে বুদ্ধি করে মেয়ের লাশ একটি কাঠের চৌকিতে বেঁধে ফেলেন। এরপর রওনা দেন হাসপাতালের উদ্দেশে, হেঁটে। চৌকিতে লাশ নিয়ে ৩৫ কিলোমিটার পাড়ি দিতে লেগে যায় দীর্ঘ সাত ঘণ্টা। সঙ্গী ছিলেন গ্রামের আরও কয়েকজন।

বিকেল নাগাদ হাসপাতালে পৌঁছানোর পর এ বিষয়ে ধীরাপতি সিং বলেন, ‘আমরা সকাল ৯টায় লাশ নিয়ে রওনা দিয়েছিলাম। পুরো পথ লাশসহ ভারী চৌকি কাঁধে নিয়ে হাঁটার ফলে এখন শরীর খারাপ লাগছে। এটা আমাদের জন্য বড় একটি সমস্যা ছিল। তবে কেউ সহায়তার হাত বাড়ায়নি।’

ধীরাপতি সিং বলেন, তাঁদের বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরেই রাস্তা রয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের উচিত ছিল, হাসপাতালে লাশ নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা অরুণ সিং এনডিটিভিকে বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল পর্যন্ত লাশ নিয়ে যেতে পুলিশের কোনো অর্থ বরাদ্দ নেই। এ কারণে ওই মেয়ের লাশ পরিবহনে যানবাহনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি।