সীতাকুণ্ডের কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণে মারা যান ৫১ জন। কনটেইনার ডিপোতে এমন বিস্ফোরণের ঘটনা বাংলাদেশে আগে কখনো দেখা যায়নি। তাই বাড়তি সতর্কতা শুরুতেই ছিল। অনলাইনে দ্রুত খবর দেব, তবে নির্ভুলভাবে। ঘটনাটি নিয়ে পরদিন ছাপা পত্রিকায় দিতে হবে বিশেষ কিছু। সামগ্রিক দিক বিবেচনায় রেখে চলতে থাকে সমন্বিত বার্তাকক্ষের পরিকল্পনা। চট্টগ্রাম অফিসের পাশাপাশি যুক্ত হয় বিশাল বাংলা বিভাগ, আলোকচিত্রী বিভাগসহ অন্যান্য বিভাগ।

অনলাইন ও ছাপা কাগজ ঘিরে প্রথম আলোর সমন্বিত বার্তাকক্ষের এমন তৎপরতা শুধু সীতাকুণ্ডে কনটেইনার ডিপোর বিস্ফোরণের ক্ষেত্রে নয়, সারা বছর ধরেই চলে। সেটা দিনে হোক আর গভীর রাতে হোক—২৪ ঘণ্টা ধরেই কাজ চলে সমন্বিত বার্তাকক্ষে। আবার সারা দিন শেষে পরদিন পত্রিকার পাঠকের জন্য থাকে সার্বিক ঘটনার চিত্র, সঙ্গে বিশেষ প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, অভিমত। এ বছর পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে জুন মাসব্যাপী অনলাইন ও ছাপা কাগজে ছিল বিশেষ আয়োজন।

ওই দিন সন্ধ্যার পর অনলাইনে ‘ডলারে বাড়তি মুনাফা: পদ হারালেন ছয় ব্যাংকের ট্রেজারিপ্রধান’ শিরোনামে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। পরদিন ছাপা কাগজে প্রথম পাতায় গুরুত্ব পায় খবরটি। সঙ্গে আরও তথ্য-বিশ্লেষণ।

প্রথম আলোয় অনলাইন ও ছাপা কাগজের বার্তাকক্ষ আলাদা ছিল। অনলাইন ও ছাপা পত্রিকা মিলিয়ে সমন্বিত বার্তাকক্ষ করা হয় দুই বছর হলো। সারা দেশের প্রতিনিধিদের সামলান বিশাল বাংলা বিভাগের প্রধান তুহিন সাইফুল্লাহ। ক্রীড়া বিভাগে উৎপল শুভ্র ও তারেক মাহমুদ, বাণিজ্যে সুজয় মহাজন এবং বিনোদন বিভাগের দায়িত্বে মাসুম আলী। তাঁদের দায়িত্ব অনলাইন ও ছাপা পত্রিকা—দুটি মিলিয়েই। পুরো কাজের সঙ্গে সব সময় থাকেন হেড অব রিপোর্টিং টিপু সুলতান ও হেড অব অনলাইন শওকত হোসেন।

অনলাইনে সকাল সাড়ে ৮টা ও দুপুর ১২টা এবং সশরীর বিকেল ৪টার সংবাদ পরিকল্পনাসংক্রান্ত সভায় জ্যেষ্ঠ কর্মীরা অংশ নেন। সকাল ৮টায় শুরু হয়ে চার পালায় (শিফট) ২৪ ঘণ্টাজুড়ে সচল থাকে বার্তাকক্ষ। অর্থাৎ প্রথম আলোর কার্যালয় কখনো বন্ধ থাকে না। যেদিন সাধারণ ছুটি থাকে, যেমন ঈদ, সে সময়ও সমন্বিত বার্তাকক্ষে কাজ চলে। অনলাইনে পাঠকেরা পান দেশ-বিদেশের খবর। সব সময় অগ্রাধিকার থাকে অনলাইন, যাকে আমরা বলছি ‘ডিজিটাল ফার্স্ট’। অনলাইনে খবর পরিবেশন শুধু তাৎক্ষণিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; ঘটনার গুরুত্ব ও ব্যাপকতার বিবেচনায় কোনো কোনো খবরের হালনাগাদ তথ্য পর্যায়ক্রমে পাঠককে জানাতে চেষ্টা থাকে।

অবশ্য গভীর রাতের কোনো কোনো ঘটনার ক্ষেত্রে অনলাইন ও ছাপা কাগজে উপস্থাপনের বিষয়ে কিছুটা চ্যালেঞ্জ থাকে। এ ক্ষেত্রে ব্যালন ডি’অরের কথা বলা যায়। গত ১৮ অক্টোবর দিবাগত রাত দুইটা নাগাদ ফ্রান্সের করিম বেনজেমার হাতে ব্যালন ডি’অর ট্রফি ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিবেদনটি অনলাইনে প্রকাশ করা হয়।

মার্কিন ডলারের বাজার অস্থিতিশীল করে অতিরিক্ত মুনাফা করার অভিযোগে দেশি-বিদেশি ছয় ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের প্রধানকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ৮ আগস্ট অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিদ্ধান্তটি নেয়। ওই দিন সন্ধ্যার পর অনলাইনে ‘ডলারে বাড়তি মুনাফা: পদ হারালেন ছয় ব্যাংকের ট্রেজারিপ্রধান’ শিরোনামে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। পরদিন ছাপা কাগজে প্রথম পাতায় গুরুত্ব পায় খবরটি। সঙ্গে আরও তথ্য-বিশ্লেষণ।

এভাবে প্রথম আলো এখন ২৪ ঘণ্টা ধরেই অনলাইন ও ছাপা কাগজে সর্বশেষ খবর, ঘটনার পূর্বাপর, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, মতামত, সাক্ষাৎকার, ভিডিও ও ছবি প্রকাশের মাধ্যমে দেশ ও দেশের বাইরে বাংলাভাষী পাঠকের সঙ্গে যুক্ত থাকে।

আসলে ঘটনা নির্ধারিত কোনো সময়-ক্ষণ ধরে ঘটে না। একটা সময় পর্যন্ত দিনের একটা নির্দিষ্ট সময় বার্তাকক্ষের কাজ শুরু হতো। কিন্তু সেই ধারা এখন বদলে গেছে। এখন প্রথম আলোর বার্তাকক্ষ ২৪ ঘণ্টাই জেগে থাকে পাঠকের কাছে সত্য তুলে ধরতে। 

লেখক: উপবার্তা সম্পাদক, প্রথম আলো