আগরতলা মামলার ঘটনাপ্রবাহ

মামলার সূচনা

১৯৬৮ সালের ৬ জানুয়ারি দুজন বাঙালি সিএসপি কর্মকর্তাসহ ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের সম্পর্কে সরকারি প্রেসনোটে উল্লেখ করা হয়, ‘গত মাসে (ডিসেম্বর ১৯৬৭) পূর্ব পাকিস্তানে উদ্​ঘাটিত জাতীয় স্বার্থবিরোধী এক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগে এঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ কয়েক দিন পর (১৮ জানুয়ারি) একই অভিযোগে শেখ মুজিবুর রহমানকেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়

মামলার নাম

রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য। তবে এটি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত

মামলার আসামি

৩৫ জন

১. শেখ মুজিবুর রহমান, ২. মোয়াজ্জেম হোসেন (লেফটেন্যান্ট কমান্ডার [নৌবাহিনী], ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ শহীদ), ৩. মুজিবুর রহমান (স্টুয়ার্ড [নৌবাহিনী] স্বাধীনতার পর নিখোঁজ। খুঁজে পাওয়া যায়নি), ৪. সুলতানউদ্দীন আহমদ (লিডিং সিম্যান [নৌবাহিনী], মারা গেছেন), ৫. নূর মোহাম্মদ (লিডিং সিম্যান, সিডিআই [নৌবাহিনী]), ৬. আহমদ ফজলুর রহমান (সিএসপি, মারা গেছেন), ৭. মফিজউল্লাহ (ফ্লাইট সার্জেন্ট [বিমানবাহিনী], মারা গেছেন), ৮. এ বি এম আবদুস সামাদ (করপোরাল [বিমানবাহিনী], মারা গেছেন), ৯. দলিল উদ্দীন (হাবিলদার [সেনাবাহিনী], মারা গেছেন), ১০. রুহুল কুদ্দুস (সিএসপি। পরে বাংলাদেশ সরকারের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি, মারা গেছেন), ১১. মো. ফজলুল হক (ফ্লাইট সার্জেন্ট [বিমানবাহিনী]। পরে সাংসদ [১৯৭৩], মারা গেছেন), ১২. ভূপতি ভূষণ চৌধুরী ওরফে মানিক চৌধুরী (ব্যবসায়ী ও রাজনীতিক, মারা গেছেন), ১৩. বিধান কৃষ্ণ সেন (রাজনীতিক, মারা গেছেন), ১৪. আবদুর রাজ্জাক (সুবেদার [সেনাবাহিনী], মারা গেছেন), ১৫. মুজিবুর রহমান (হাবিলদার ক্লার্ক [সেনাবাহিনী], মারা গেছেন), ১৬. মো. আবদুর রাজ্জাক (ফ্লাইট সার্জেন্ট [বিমানবাহিনী], মারা গেছেন), ১৭. জহরুল হক (সার্জেন্ট [বিমানবাহিনী], আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিচার চলাবস্থায় ১৯৬৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানি সেনাদের গুলিতে শহীদ), ১৮. মোহাম্মদ খুরশিদ (এবি [নৌবাহিনী], মারা গেছেন), ১৯. শামসুর রহমান খান (সিএসপি। পরে রাষ্ট্রদূত। মারা গেছেন), ২০. এ কে এম শামসুল হক (রিসালদার [সেনাবাহিনী], মারা গেছেন), ২১. আজিজুল হক (হাবিলদার [সেনাবাহিনী], মারা গেছেন), ২২. মাহফুজুল বারী (এসএসসি [বিমানবাহিনী], মারা গেছেন), ২৩. শামসুল হক (সার্জেন্ট [বিমানবাহিনী], মারা গেছেন), ২৪. শামসুল আলম (ডা. মেজর [সেনাবাহিনী]), ২৫. মো. আবদুল মুত্তালিব (ক্যাপ্টেন [সেনাবাহিনী] পরে মেজর, মারা গেছেন), ২৬. এম শওকত আলী (ক্যাপ্টেন [সেনাবাহিনী], পরে কর্নেল, সাংসদ [১৯৭৯, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪] এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার। মারা গেছেন), ২৭. খন্দকার নাজমুল হুদা (ক্যাপ্টেন [সেনাবাহিনী], পরে কর্নেল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের অভ্যুত্থানে নিহত), ২৮. এ এন এম নূরুজ্জামান (ক্যাপ্টেন [সেনাবাহিনী], পরে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল। রক্ষীবাহিনীর মহাপরিচালক ও রাষ্ট্রদূত। মারা গেছেন), ২৯. আবদুল জলিল (সার্জেন্ট [বিমানবাহিনী]), ৩০. মাহবুব উদ্দিন চৌধুরী (মারা গেছেন), ৩১. এস এম এস রহমান (লেফটেন্যান্ট [নৌবাহিনী], মারা গেছেন), ৩২. এ কে এম তাজুল ইসলাম (সুবেদার [সেনাবাহিনী], মারা গেছেন), ৩৩. মোহাম্মদ আলী রেজা (মারা গেছেন), ৩৪. খুরশিদ উদ্দীন আহমদ (ডা., ক্যাপ্টেন [সেনাবাহিনী], পরে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল), ৩৫. আবদুর রউফ (লেফটেন্যান্ট [নৌবাহিনী], পরে নৌবাহিনীর কমান্ডার ও গণফোরাম নেতা। মারা গেছেন)

রাজসাক্ষী

১১ জন

১. মোজাম্মেল হোসেন, লেফটেন্যান্ট, ২. মো. আমির হোসেন মিয়া, করপোরাল, ৩. শামসুদ্দীন মিয়া, সার্জেন্ট, ৪. সাইদুর রহমান, ডা., ৫. মীর্জা এম রমিজ, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট, ৬. আবদুল আলিম ভূঁইয়া, ক্যাপ্টেন, ৭. জামালউদ্দীন আহমদ, করপোরাল, ৮. সিরাজুল ইসলাম, করপোরাল, ৯. মো. গোলাম আহমদ, ১০. এ বি এম (আবুল বাশার মোহাম্মদ) ইউসুফ (পরে তাঁকে বৈরী সাক্ষী ঘোষণা করা হয়), ১১. আবদুল হালিম, সার্জেন্ট

বৈরী সাক্ষী

কামালউদ্দীন আহমদ, আবুল হোসেন ও বঙ্কিম চন্দ্র দত্ত প্রমুখ

ট্রাইব্যুনালের বিচারক তিনজন

বিচারপতি শেখ আবদুর রহমান প্রধান বিচারক (পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি)।

মাকসুমুল হাকিম (বাঙালি)

মুজিবুর রহমান খান (বাঙালি)

বিবাদীপক্ষের আইনজীবী

২৬ জন

আবদুস সালাম খান (বঙ্গবন্ধুর প্রধান কৌঁসুলি)। খান বাহাদুর মোহাম্মদ ইসমাইল, আমিনুল হক, খান বাহাদুর নাজিরুদ্দিন, বদরুল হায়দার চৌধুরী (পরে প্রধান বিচারপতি), আতাউর রহমান খান, জহিরুদ্দিন, জুলমত আলী খান, মির্জা গোলাম হাফিজ, ড. কামাল হোসেন, আমীর-উল ইসলাম, মওদুদ আহমদ ও মইনুল হোসেন প্রমুখ। এ ছাড়া ট্রাইব্যুনালের বৈধতা সম্পর্কে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়েরের জন্য বঙ্গবন্ধুর পক্ষে ইংল্যান্ড থেকে এসেছিলেন প্রখ্যাত আইনজীবী টমাস উইলিয়াম। উল্লেখ্য, আইনজীবীরা পৃথকভাবে ওকালতনামা দাখিল করলেও মামলা পরিচালনার জন্য তাঁরা আবদুস সালাম খানের নেতৃত্বে অভিন্ন মোর্চা গঠন করে অভিযুক্তদের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন

সরকারপক্ষের প্রধান আইনজীবী

মঞ্জুর কাদের (পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেল) ও টি এইচ খান (বাঙালি)।

বিচারের স্থান

ঢাকা সেনানিবাসের সিগন্যাল অফিসার মেস

বিচার শুরু

১৯ জুন ১৯৬৮

মামলা প্রত্যাহার

২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯।

এদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সবাইকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হয়

ছবি ও তথ্যসূত্র: আগরতলা মামলার অনুচ্চারিত ইতিহাস ও শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক (সম্পাদনা: নাজনীন হক মিমি ও ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেন, জার্নিম্যান বুকস, ২০১৫) এবং কর্নেল হুদা ও আমার যুদ্ধ (নীলুফার হুদা, প্রথমা প্রকাশন, ২০১১)।

গ্রন্থনা: রাশেদুর রহমান

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন