মাঠের লড়াইয়ে কত দূর যাবে বাংলাদেশ—এই আলোচনা ক্রিকেট-পণ্ডিতদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাক। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের এই আসরে টাইগারদের নিয়ে এ দেশের মানুষের স্বপ্ন এবার সীমানা ছাড়ানো। সেই স্বপ্ন আর আশার কথা জানান দিতে গতকাল শুক্রবার দেশের ৬৪ জেলার ‘চলো বাংলাদেশ’ আয়োজনে হাজির হয়েছিল হাজারো মানুষ।
গ্রামীণফোন ও প্রথম আলো যৌথভাবে সারা দেশে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
চট্টগ্রামের আয়োজনটি হয়েছে এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের পাশের জিমনেসিয়ামে। দুপুরের আগেই জিমনেসিয়ামের গেটে ভিড় করেন অসংখ্য তরুণ-তরুণী। ছিল শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সের পেশার মানুষও।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন গ্রামীণফোনের হেড অব রিজিওনাল শাহ মো. ইব্রাহিম আজাদ। তিনি বলেন, ক্রিকেটের সঙ্গে চট্টগ্রামের আত্মিক সম্পর্ক। চট্টগ্রাম থেকেই বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলে প্রতিনিধিত্ব করেছেন অনেক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
অনুষ্ঠানে মায়ের হাত ধরে এসেছিল সপ্তম শ্রেণির ছাত্র তাহসিন আহমেদ। তার আশা, বাংলাদেশ যেন সব ম্যাচে জিততে পারে।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই ‘চলো বাংলাদেশ’ গানের সঙ্গে মেতে ওঠেন আগত ব্যক্তিরা। এরপর মঞ্চে ওঠে জনপ্রিয় ব্যান্ড দল আর্টসেল। তারা দুটি গান গেয়ে শোনানোর পর জিমনেসিয়ামে স্থাপিত বড় পর্দায় সরাসরি দেখানো হয় ঢাকায় ‘চলো বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানের মূল অনুষ্ঠান। বিকেল ৪টা ৫৭ মিনিটে ঢাকাসহ সারা দেশের সমর্থকদের সঙ্গে গলা মিলিয়ে চট্টগ্রামের সমর্থকেরাও ‘চলো বাংলাদেশ’ স্লোগানে ফেটে পড়ে। এরপর বিকেল পাঁচটা থেকে আর্টসেল আবারও তাঁদের জনপ্রিয় সব গান নিয়ে মঞ্চে ওঠে। সন্ধ্যা ছয়টায় অনুষ্ঠান শেষ হয়।
কক্সবাজার: কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পাঁচ শতাধিক দর্শকের উপস্থিতিতে চলো বাংলাদেশ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কক্সবাজার বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সের মহাপরিচালক এম এম সিরাজুল ইসলাম। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু তাহের, কক্সবাজার বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আয়াছুর রহমান, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক মো. নজিবুল ইসলাম, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সদস্য মাহমুদুল করিম, জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিত পাল, কক্সবাজার সরকারি কলেজের শিক্ষক মুহাম্মদ উল্লাহ, মিঠুন চক্রবর্তী, কক্সবাজার বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমির প্রধান শিক্ষক মো. ছৈয়দ করিম, কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. নাছির উদ্দিন, জেলা খেলাঘরের সভাপতি জাহেদ সরওয়ার, নাট্যকার দীপক শর্মা, বন্ধুসভার জেলা সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বন্ধুসভার সদস্যরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যাশন শো পরিবেশন করেন। এ ছাড়া ছিল ‘পিঠা উৎসব’। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বন্ধুসভার ইব্রাহিম খলিল ও মেহেজাবিন অভি।
নোয়াখালী: পৌর মিলনায়তনে ‘চলো বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে বন্ধুসভার সদস্যদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দর্শকদের মাতিয়ে রাখে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আবদুল কাইয়ুম, ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (কোয়াব) চট্টগ্রাম ও রংপুর বিভাগের সমন্বয়কারী মো. আলাউদ্দিন, তেল-গ্যাস, বিদ্যুৎ-বন্দর ও খনিজ সম্পদ রক্ষা জাতীয় কমিটির জেলা আহ্বায়ক আ ন ম জাহের উদ্দিন, ক্রিকেট কোচ স্বদেশ মজুমদার, নোয়াখালী জেলা ক্রীড়া সংস্থার ইকবাল হোসেন, নিজাম উদ্দিন, সিরাজ উদ্দিন, বেগমগঞ্জ ক্রীড়া সংস্থার আনোয়ার হোসেন ও ক্রিকেটার সাথী আক্তার প্রমুখ।
লক্ষ্মীপুর: শহরের নছির আহমদ ভূঁইয়া মিলনায়তনে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে শুভেচ্ছা জানাতে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য দেন অধ্যাপক মাইন উদ্দিন, অধ্যাপক কার্তিক সেনগুপ্ত, ক্রিকেটার মো. ইব্রাহিম খলিল। কবিতা আবৃত্তি করেন এস এম জাহাঙ্গীর। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করে লক্ষ্মীপুর বন্ধুসভার মারজাহান চৌধুরী, শাহাদাৎ হোসেন ও মোহাম্মদ নাহিদ।
বান্দরবান: বান্দরবান সদর উপজেলা মিলনায়তনে ক্রিকেটারদের শুভেচ্ছা জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম, পৌরসভা চেয়ারম্যান জাবেদ রেজা, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ইসলাম বেবি, ক্রিকেটার মোহাম্মদ আরমান, বন্ধুসভার জেলা সভাপতি হেলাল মাহমুদ। অনুষ্ঠানে গান গেয়ে শোনান ব্যান্ড দল মেঘরঙের শিল্পী রাকেশ দাশ, সুহৃদ বড়ুয়া, তৌকির আজাদ ও থোয়াইচিং প্রু নিলু। সবশেষে মার্মা শিল্পীগোষ্ঠীর শিল্পীরা বর্ণাঢ্য ছাতা নৃত্য পরিবেশন করেছেন।
ফেনী: জেলা পরিষদের সেলিম আল দীন মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ক্রিকেট দলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক আজিজ আহম্মদ চৌধুরী, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন বাহার, ক্রিকেট উপকমিটির সম্পাদক জহির উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, কোচ রিয়াজ উদ্দিন রবিন, ফেনী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুব্রত নাথ, ফেনী বন্ধুসভার সভাপতি হারুন উর রশিদ। অনুষ্ঠানে ফেনী বন্ধুসভার সদস্যরা গান, নৃত্য, আবৃত্তি ও নাটিকা পরিবেশন করেন।
রাঙামাটি: জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে বন্ধুসভার সদস্যদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ছাড়াও ছিল রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ফিফা চাকমা কত্থক নৃত্য এবং আদিবাসী শিল্পী কালায়ন চাকমার গান। অনুষ্ঠানে শুভকামনা জানান রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, পৌরসভার মেয়র মো. সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, রাঙামাটি মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য নিরূপা দেওয়ান, রাঙামাটি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহসভাপতি সুনীল কান্তি দে ও মো. কামাল উদ্দিন।
খাগড়াছড়ি: অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ দলকে শুভকামনা জানান চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সহসভাপতি তরুণ কুমার ভট্টাচার্য, খাগড়াছড়ি জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অনুপ কুমার চাকমা প্রমুখ। অনুষ্ঠানে আলোচনার ফাঁকে ফাঁকে দেশের গান ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়।
(প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার; রাঙামাটি, ফেনী, নোয়াখালী অফিস; বান্দরবান, লক্ষ্মীপুর ও খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি)

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন