তরঙ্গের দাম কমালে দেশে ইন্টারনেটের গতি বাড়বে

‘বাংলাদেশে স্পেকট্রাম মূল্যের প্রভাব’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে বাংলাদেশে তরঙ্গের দামের বিষয়টি উঠে এসেছে। ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বরছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের মোবাইল ফোন সেবার ওপর কর ও তরঙ্গের দাম বিশ্বে অন্যতম সর্বোচ্চ। তরঙ্গের দাম কমালে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ও গতি দুটোই বাড়বে। মোবাইল অপারেটরদের বৈশ্বিক সংগঠন জিএসএমএর এক গবেষণায় এ কথা বলা হয়েছে।

আজ বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশে স্পেকট্রাম মূল্যের প্রভাব’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

জিএসএমএর গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে তরঙ্গের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেশি হওয়ায় মোবাইল নেটওয়ার্কে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে ইন্টারনেটের গতি কমে যাচ্ছে এবং ফাইভ-জি সম্প্রসারণও দেরি হচ্ছে। এ ছাড়া অপারেটরদের আয়ের ১৬ শতাংশই ব্যয় করতে হয় তরঙ্গের পেছনে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এই ব্যয় ১০ শতাংশ এবং বিশ্বে ৮ শতাংশ।

গবেষণা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আগামী বছরেও তরঙ্গের এমন উচ্চ মূল্য বহাল থাকলে ২০৩৫ সালের মধ্যে অপারেটরদের আয়ের ২১ শতাংশ তরঙ্গের পেছনে খরচ করতে হবে। এতে অপারেটররা তরঙ্গের কিছু অংশ ফেরত দিতে বা নতুন ব্যান্ড নেওয়া থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হবে। ফলে ইন্টারনেটের গতি, নেটওয়ার্কের মান ও ফাইভ-জি গ্রহণ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

জিএসএমএর গবেষণায় বলা হয়, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে তরঙ্গের দামের সামঞ্জস্য করা হলে ২০৩৫ সালের মধ্যে গড় ইন্টারনেটের ডাউনলোড গতি ১৭ শতাংশ বাড়বে। এতে ৯৯ শতাংশ নাগরিক ফাইভ-জি নেটওয়ার্কের আওতায় আসবে। অন্যদিকে তরঙ্গের দাম বৈশ্বিক দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য করলে ফোর–জি গতি বাড়বে ২২ শতাংশ। তরঙ্গের দাম কমালে সরকারের রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। উন্নত সংযোগ ও বাড়তি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সরাসরি রাজস্ব ঘাটতি পুষিয়ে দেবে।

অনুষ্ঠানে জিএসএমএর এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান জুলিয়ান গোরম্যান বলেন, বাংলাদেশে অপারেটররা বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ তরঙ্গ ও করের বোঝা বহন করছে। তাই দামের পুনর্মূল্যায়ন ও নীতিমালার শর্তের আধুনিকায়ন জরুরি।

প্রতিবেদনে জিএসএমএ কিছু সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বাজার–বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তরঙ্গের দাম নির্ধারণ ও ভ্যাট থেকে অব্যাহতি দেওয়া, ৭০০ মেগাহার্টজ ও ৩.৫ গিগাহার্টজ ব্যান্ড দ্রুত বরাদ্দ, কর–কাঠামোর সংস্কার এবং দীর্ঘমেয়াদি লাইসেন্স নিশ্চিতকরণ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আব্দুন নাসের খান, বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (টেলিকম) মো. জহিরুল ইসলাম, বিটিআরসি কমিশনার (স্পেকট্রাম) মাহমুদ হোসেন প্রমুখ।

আরও পড়ুন