জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি ছাত্র ফেডারেশনের
জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে ক্ষমতাসীন বিএনপি জোটের শরিক দল গণসংহতি আন্দোলনের ছাত্রসংগঠন ছাত্র ফেডারেশন। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, জ্বালানি তেলের দাম না বাড়িয়ে সরকার যে প্রশংসা কুড়িয়েছিল, দাম বাড়িয়ে তারা সেটি হারিয়েছে। সরকার জ্বালানি খাত নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে।
সোমবার বিকেলে রাজধানীর হাতিরপুলে ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে সংগঠনের শীর্ষ নেতারা এসব কথা বলেন। সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে আগামী ৯ ও ১০ জুলাই ছাত্র ফেডারেশনের চতুর্দশ জাতীয় সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মশিউর রহমান খান রিচার্ড সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা জনগণের ভোটে সরকার হয়েছেন। মানুষের দুঃখ-কষ্ট কমাতে এসেছেন, বাড়াতে নয়। দুই মাসে আপনারা এমন অনেক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যার জন্য মানুষ আপনাদের প্রশংসা করেছে। জ্বালানি তেলের দাম না বাড়িয়ে যে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন, দাম বাড়িয়ে তা হারালেন। আর পাম্পগুলোতে তেলের সরবরাহে আপনাদের ব্যবস্থাপনা দুর্ভোগ কমাতে পারেনি, বরং বাড়িয়েছে। আপনারা জ্বালানি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছেন।’
ব্যর্থতার কারণ চিহ্নিত করার তাগিদ দিয়ে মশিউর রহমান খান আরও বলেন, ‘এই ব্যর্থতা কেন, তা চিহ্নিত না করলে সামনে কখনোই সফল হতে পারবেন না। আমরা এই সরকারকে অন্তর্বর্তী সরকারের মতো ব্যর্থ দেখতে চাই না। আমরা অবিলম্বে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি জানাই।’
সরকারি ও বিরোধী দল নির্বিশেষে সব সংসদ সদস্যের প্রতি ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি বলেন, এই ঐকমত্যের দলিলই গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাওয়ার ভিত্তি। এই ভিত্তিকে পাশ কাটিয়ে কোনো বিতর্কিত আদেশ বা অধ্যাদেশ নিয়ে কুতর্ক সৃষ্টি করে ঐকমত্য নষ্ট করা যাবে না। তিনি বলেন, গণভোটের গণরায়ে মানুষ সংস্কারের পক্ষেই রায় দিয়েছেন। জুলাই সনদে ভিন্নমতগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে বাস্তবায়নের যে রূপরেখা দেওয়া আছে, সেটিই অনুসরণ করতে হবে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সৈকত আরিফের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন ছাত্র ফেডারেশনের সহসাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস জামান, ফাতেমা রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক আরমানুল হক, ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি আল-আমিন রহমান প্রমুখ।