‘দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছি, আরও দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে হলেও তেল নেব’
‘দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছি, আরও দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে হলেও তেল নেব।’ রাজধানীর মতিঝিলে করিম অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনের সামনে মোটরসাইকেল নিয়ে তেলের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থেকে নিজাম উদ্দিন এভাবেই নিজের ভোগান্তির কথা বলছিলেন। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ফিলিং স্টেশনটিতে গিয়ে দেখা যায়, নিজাম উদ্দিনের মতো আরও অনেক মোটরসাইকেলচালক দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন।
নিজাম উদ্দিন জানান, তিনি বেলা সাড়ে ১১টা থেকে তেলের জন্য অপেক্ষা করছেন। তিনি বলেন, ‘পাম্প থেকে এখনো তেল দেওয়া হচ্ছে না। জানানো হয়েছে, তেলের গাড়ি এলে তবেই পাওয়া যাবে। কিন্তু সেই গাড়ি কখন আসবে, তার কোনো ঠিক নেই। তেল নেওয়া ছাড়া যেহেতু উপায় নেই, তাই বাধ্য হয়েই অপেক্ষা করছি।’
তবে এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে আশা করছেন এই ভুক্তভোগী। তিনি বলেন, ‘আশা করছি, ঈদের পর এই সংকট কেটে যাবে। কারণ, অনেকে ঈদে বাড়ি যাওয়াকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগতভাবে তেল স্টক (মজুত) করার কারণে এই ঝামেলাটা তৈরি হয়েছে।’
করিম অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনের মালিক আব্দুল সালাম জানান, গতকাল বুধবার দুপুরে তাঁর পাম্পে সাড়ে ১৩ হাজার লিটার পেট্রল ও অকটেন এসেছিল। কিন্তু চাহিদা বিপুল হওয়ায় রাত সাড়ে আটটার মধ্যেই সব তেল বিক্রি শেষ হয়ে যায়।
আব্দুল সালাম জানান, দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তে তেল না পেয়ে পাম্পের কর্মীদের ওপর ক্ষুব্ধ হচ্ছেন ক্রেতারা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। যে পরিস্থিতি দেখছি, তাতে সামনে তেল বিক্রি করতে হলে সেনাবাহিনীর সুরক্ষা (আর্মি প্রটেকশন) লাগবে। পুলিশকে তো এখন মানুষ মানছেই না। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে তেল বিক্রি বন্ধ করে দিতে হবে।’
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, গত এক সপ্তাহের তুলনায় মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির ভিড় কিছুটা কম। রমনা ফিলিং স্টেশন ও পরিবাগের মেঘনা মডেল সার্ভিসিং সেন্টারে তেল বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে অনেক পাম্পেই তেল না থাকায় বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে।
মতিঝিলের করিম অ্যান্ড সন্স, দৈনিক বাংলার মোড়ে বিনিময় ফিলিং স্টেশন ও মগবাজারের মহিন মোটরস ফিলিং স্টেশন খোলা থাকলেও তেল না থাকায় তারা সরবরাহ করতে পারছিল না। যদিও তেলের আশায় এসব পাম্পের সামনে দীর্ঘক্ষণ যানবাহন নিয়ে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে চালকদের।
বেলা তিনটার দিকে পরিবাগের পূর্বাচল ট্রেডার্স নামের ফিলিং স্টেশনটি বন্ধ দেখা যায়। পাম্পের সামনে ‘তেল নেই’ লেখা একটি কাগজ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভেতরে টাঙানো একটি বড় ব্যানারে লেখা রয়েছে, ‘আজকে পদ্মা অয়েল ডিপো থেকে আমাদের পাম্পে তেল সরবরাহ না করার কারণে সম্মানিত ক্রেতাসাধারণকে তেল সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের এই অপারগতা সম্মানিত ক্রেতাসাধারণকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য একান্ত অনুরোধ করা গেল।’